১৯ অক্টোবর, ২০২০ ১১:৫১ এএম

স্বাস্থ্যে প্রশাসন কর্মকর্তা নিয়োগ, ক্ষোভ চিকিৎসক নেতাদের

স্বাস্থ্যে প্রশাসন কর্মকর্তা নিয়োগ, ক্ষোভ চিকিৎসক নেতাদের
বিএমএ সভাপতি ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন। ছবি: মেডিভয়েস

মেডিভয়েস রিপোর্ট: স্বাস্থ্য খাতের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তাদের পদায়ন ও নিয়োগে চিকিৎসকদের উপেক্ষার প্রতিবাদে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর উপস্থিতিতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন চিকিৎসক নেতারা। তাদের দাবি, আমলাতান্ত্রীক জটিলতায় চিকিৎসকদের বাদ দিয়ে আমলাদের এনে ব্যবস্থা করার চেষ্টা করা হচ্ছে। এভাবে একের পর এক চিকিৎসকদের জায়গাগুলো দখল করে নিচ্ছে প্রশাসন।

রবিবার (১৮ অক্টোবর) রাজধানীর একটি হোটেলে সোসাইটি অব সার্জনস অব বাংলাদেশ আয়োজিত ‘বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে কোভিড-১৯ মহামারিতে সার্জনদের ভূমিকা শীর্ষক’ অনুষ্ঠানে তারা এ ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

এসব সমস্যার সমাধান না হলে ভবিষ্যতে কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দিয়ে তারা বলেন, আমরা এর আগেও হুঁশিয়ারি করেছি। কিন্তু প্রশাসনের কানে পানি যাচ্ছে না। স্বাস্থ্য খাতে প্রশাসনের অযাচিত হস্তক্ষেপ বন্ধ না হলে দেশের চিকিৎসক সমাজ কঠোর আন্দোলনে যেতে বাধ্য হবে।

বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমএ) সভাপতি ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন বলেন, বাংলাদেশের চিকিৎসকদের পিঠে আরেকবার ছুরি বসানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কিছু কিছু কাজ আমার মনে নতুন করে দাগ কাটছে। আজকের প্রেক্ষাপটে তাদের কিছু কিছু কাজে আমাদের চিকিৎসকদের বাদ দিয়ে আমলাতান্ত্রীক জটিলতায় আমলাদের এনে ব্যবস্থা করার চেষ্টা করা হচ্ছে। এটা অত্যন্ত দুঃখজনক।

ভিডিও: 

স্বাস্থ্য বিভাগের নিয়ন্ত্রণ প্রশাসনের কর্তব্যরত ব্যক্তিদের হাতে: বিএমএ সভাপতি

চিকিৎসকদের ব্যর্থ প্রমাণের চেষ্টা চলছে: স্বাচিপ মহাসচিপ

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেককে উদ্দেশ করে বিএমএ সভাপতি বলেন, কিছুদিন আগে আমাদের কেন্দ্রীয় ঔষধাগারে আর্মি থেকে আসা এক চিকিৎসক দায়িত্ব পালন করতেন, তাকে সেখান থেকে সড়িয়ে দেয়া হয়েছে। সেই ব্যাপারে আমাদের কোন বক্তব্য নেই। কিন্তু সেই পোষ্টে আবার আমাদের চিকিৎসক আর্মি থেকে এনে দায়িত্ব দিতে হবে। কিন্তু আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় আবার সেই মন্ত্রণালয় থেকে এডিশনাল সেক্রেটারি কিংবা জয়েন্ট সেক্রেটারিকে এনে সেখানে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। শুধু একজন নয়, তিনজনকে বসিয়েছেন। মাননীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর কাছে আমার জিজ্ঞাসা, কেন এই কাজগুলো করা হচ্ছে? এই পদগুলো স্বাধীনতাপূর্ব থেকেই আমাদের চিকিৎসকদের ছিলো, কেন আজ এই জায়গাগুলোতে হাত দেয়া হচ্ছে?

স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ (স্বাচিপ) সভাপতি ও কোভিড-১৯ বিষয়ক জাতীয় পরামর্শক কমিটির সদস্য অধ্যাপক ডা. ইকবাল আর্সলান বলেন, কোভিড মোকাবিলায় সারা বিশ্বের সরকার চিকিৎসকদের সঙ্গে পরামর্শ করেছেন। কিন্তু বাংলাদেশ প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তারা ‘বিজ্ঞানকেও নিয়ন্ত্রণ করার’ চেষ্টা করছেন।

তিনি বলেন, বিজ্ঞানীদের পরামর্শকে পাশ কাটিয়ে প্রশাসন ক্যাডার নিজেদের মনগড়া সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের চেষ্টা করছেন। এ বিষয়টি নিয়ে স্বাস্থ্য বিষয়ক সংসদীয় কমিটিকে ভূমিকা পালন করা উচিত।

ইকবাল আর্সলান বলেন, আমলারা ব্রিটিশ আমলের শাসন ব্যবস্থায় রয়ে গেছেন। সেই সময়ে যারা ডেপুটি কালেক্টর ছিলেন, পরবর্তী একটা সময়ে তারা হলেন ডিস্ট্রিক্ট কমিশনার, এরপরে হলেন জেলা প্রশাসক। আর জেলা প্রশাসক হয়ে তারা সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করছেন। নিয়ন্ত্রণ করার মানসিকতা থেকেই এসব করা হচ্ছে। কোভিড মহামারির সময় আরেকটা সুযোগ নেওয়ার চেষ্টা করছেন।

সরকারি কর্মকর্তাদের দায়িত্ব সরকারের আদেশ-উপদেশ পরামর্শ অক্ষরে অক্ষরে পালন করা, মাতাব্বরি নয় বলে মন্তব্য করেছেন বিএমএ-র মহাসচিব ডা. ইহতেশামুল হক চৌধুরী। স্বাস্থ্যমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, চিকিৎসকদের ভাষা বোঝার চেষ্টা করুন।

তিনি বলেন, কেন্দ্রীয় ঔষধাগার (সিএমএসডি) স্বাস্থ্য অধিদফতরের অধীনস্থ একটি প্রতিষ্ঠান। এখানে একজন অতিরিক্ত সচিবকে পদায়ন করা হয়েছে, কিন্তু মহাপরিচালকের অধীনে চাকরি করেও তিনি সভায় যোগ দেন না, তার নির্দেশনা মানেন না।

ডা. ইহতেশামুল হক চৌধুরী বলেন, সিএমএসডির পরিচালক অ্যাডিশনাল সেক্রেটারি না সেক্রেটারি আমাদের বিবেচ্য বিষয় নয়। তিনি একজন পরিচালক হিসেবে যোগ দিয়েছেন, সুতরাং মহাপরিচালকের সভায় তাকে আসতে হবে।  নতুবা চাকরি ছেড়ে চলে যান, কে বলেছে আপনাকে এখানে আসার জন্য।  ধৃষ্টতা দেখাবেন না। এই পদে (সিএমএসডির পরিচালক) প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তাকে নিয়োগ দেওয়ার সময় চিকিৎসকরা প্রতিবাদ করেছিলেন, কিন্তু সে সময় তাদের কথা শোনা হয়নি।

তিনি আরও জানান,  এজন্য বিএমএ এবং স্বাচিপের উদ্যোগে সোমবার বিএমএ ভবনে দেশের জ্যেষ্ঠ চিকিৎসকদের সভা ডাকা হয়েছে। আগামী সপ্তাহে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন, ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনসহ অন্যান্য পেশাজীবী সংগঠনের সঙ্গে মতবিনিময়, প্রতি সপ্তাহে দেশের বিভিন্ন জেলার পেশাজীবী সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক হবে। তারপর পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

স্বাচিপের সাধারণ সম্পাদক ডা. এম এ আজিজ অনুষ্ঠানে বলেন, নতুন ৬১০ জনকে পদায়নের জন্যই বিভিন্ন জায়গায় নতুন নতুন পদ সৃষ্টি করা হয়েছে। মন্ত্রণালয়ে বসে তারা (প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তা) ষড়যন্ত্র করছেন।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, স্বাস্থ্য অধিদফতরের বিভিন্ন বিভাগে চিকিৎসক কর্মকর্তারা কাজ করছেন। কিন্তু অ্যাডমিনের লোকজন ঢোকানো হচ্ছে। নার্সিং, পরিববার পরিকল্পনা তাদের লোকজন বসিয়ে দেওয়া হয়েছে। শুনতে পাচ্ছি ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশনেও অ্যাডমিনের লোক দেওয়ার পাঁয়তারা চলছে, যেখানে টেকনিক্যাল জনবল লাগে। তারা আমাদের কাজের পরিবেশ তৈরি করে দেবেন, তা না করে খবরদারি করছেন।

অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেন, চিকিৎসকদের স্বার্থহানি হয় এমন কিছু তিনি করবেন না। পদ-পদবি নিয়ে যে আশঙ্কা করেছেন তা ভেবে দেখা হবে। এ বিষয়ে আপনাদের আশ্বস্ত করতে চাই সেটা হলো, আমার হাত দিয়ে এমন কোনও কাজ হবে না যেটা স্বাস্থ্য সেবার বা ডাক্তারদের স্বার্থ হানি হবে। আপনারা আমার পূর্ণ সহযোগিতা পাবেন। আপনারা যেভাবে কাজ করে যাচ্ছেন, সহযোগিতা করছেন এজন্য আমি আপনাদের ধন্যবাদ জানাই।

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
নিবন্ধনহীন ওষুধ লিখলে চিকিৎসকের শাস্তি
জাতীয় ওষুধনীতি-২০১৬’ এর খসড়ার নীতিগত অনুমোদন

নিবন্ধনহীন ওষুধ লিখলে চিকিৎসকের শাস্তি