৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ০৭:২৮ পিএম

ড. তাহমিদ আইসিডিডিআরবি’র প্রথম বাংলাদেশি নির্বাহী পরিচালক

ড. তাহমিদ আইসিডিডিআরবি’র প্রথম বাংলাদেশি নির্বাহী পরিচালক

মেডিভয়েস রিপোর্ট: প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর ডাইরিয়াল ডিজিজ রিসার্চ, বাংলাদেশের (আইসিডিডিআর’বি) নির্বাহী পরিচালক পদে নিয়োগ পেয়েছেন প্রখ্যাত পুষ্টি বিজ্ঞানী ড. তাহমিদ আহমেদ। আগামী বছর ফেব্রুয়ারির এক তারিখে তিনি সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালকের দায়িত্ব গ্রহণ করবেন। 

মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) আইসিডিডিআরবি’র আন্তর্জাতিক বোর্ড অব ট্রাস্টিজ তাকে সংস্থাটির পরবর্তী নির্বাহী পরিচালক হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে।

আইসিডিডিআর’বি সূত্রে জানা গেছে, ডা. তাহমিদ আহমেদকে আইসিডিডিআরবি’র নির্বাহী পরিচালক পদে নিয়োগ প্রদান করা হয়েছে।

তিনি সংস্থাটির বর্তমান পরিচালক অধ্যাপক ড. ক্লেমেন্সের স্থলাভিষিক্ত হবেন। ড. ক্লেমন্স ২০১৩ থেকে আইসিডিডিআরবি’র প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। এর আগে তিনি আইসিডিডিআরবি’র পুষ্টি ও মাতৃত্ব ও শিশু পুষ্টি এবং ক্লিনিক্যাল পরিষেবা বিভাগের সিনিয়র পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

আইসিডিডিআরবি’র ৬০ বছরের ইতিহাসে প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার বিষয়ে ডা. তাহমিদ বলেন, ‘আইসিডিডিআরবি’র প্রথম বাংলাদেশি নির্বাহী পরিচালক হওয়া নিঃসন্দেহে একটি গৌরবের বিষয়। আন্তর্জাতিক জনস্বাস্থ্য গবেষণা প্রতিষ্ঠান হিসেবে সংস্থটি অতীতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে, আমি এ ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে কাজ করে যাবো। আমি দেশি-বিদেশি ৪ হাজার জনেরও অধিক কর্মীর একটি দলকে নেতৃত্ব দেওয়া সংস্থাটিকে পরবর্তী পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার সুযোগ পেয়ে গর্বিত। আইসিডিডিআরবি’র গবেষণার ব্যাপ্তি আরও প্রসারিত করতে সর্বদা কাজ করে যাবো। প্রতিষ্ঠানটি স্বাস্থ্য গবেষণার পরিধি আরও বৃদ্ধি পাওয়ার বিষয়ে আমি আশাবাদী।’

এ সময় করোনা মহামারীর বিষয়ে গবেষণাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার ও চলমান মহামারি জনস্বাস্থ্যকে এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে বৈজ্ঞানিক গবেষণার উপর আরও গুরুত্ব আরোপের প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন আইসিডিডিআরবি’র নতুন নির্বাহী পরিচালক। 

প্রখ্যাত এ পুষ্টি বিজ্ঞানী ১৯৮৫ সালে আইসিডিডিআর’বিতে যোগদান করেন। সফলতার সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। সর্বশেষ ২০১৫ সালের ডিসেম্বরে আইসিডিডিআরবি’র নিউট্রিশন ও ক্লিনিক্যাল সার্ভিসেস বিভাগের সিনিয়র ডিরেক্টর নিযুক্ত হন ড. তাহমিদ। করোনাকালে সংকটময় পরিস্থিতিতে তিনি আইসিডিডিআরবি’র ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

ড. তাহমিদের বেড়ে ওঠা 

ড. তাহমিদ আহমেদের জন্ম ঢাকায়, তবে তার পৈত্তিক নিবাস ময়মনসিংহে। তিনি ঢাকার সেন্ট গ্রেগরি হাই স্কুলে পড়াশোনার মাধ্যমে শিক্ষা জীবন শুরু করেন। উচ্চ মাধ্যমিক পর্যন্ত রাজধানীর নটর ডেম কলেজ থেকে পড়াশোনা শেষে ভর্তি হন ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজে। সেখান থেকে এমবিবিএস ডিগ্রি অর্জন করেন। পরে ঢাকা শিশু হাসপাতালে আবাসিক প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন এবং পরবর্তীকালে জাপানের সুকুবা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি অর্জন করেন।

বর্ণাঢ্য জীবন

বাংলাদেশের গ্রামীণ একটি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কাজ করার মাধ্যমে ড. তাহমিদ তার বর্ণাঢ্য কর্মজীবন শুরু করেন। পরিবর্তী জীবনে ১৯৮৫ সালে আইসিডিডিআর’বিতে যোগ দেন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পুষ্টি বিশেষজ্ঞ পরামর্শদাতা দলের সদস্য হিসেবে ড. আহমেদ শিশুদের তীব্র অপুষ্টি চিকিৎসায় বিশ্বব্যাপী ব্যবহৃত নির্দেশিকা সংশোধন করেছেন। তিনি তীব্র অপুষ্টি সম্পর্কিত কাউন্সিল অব রিসার্চ অ্যান্ড টেকনিক্যাল অ্যাডভাইস (কর্টসাম) আন্তর্জাতিক থিঙ্ক ট্যাঙ্কের একজন সদস্য। তিনি শিশুদের কলেরা রোগ ব্যবস্থাপনা বিষয়ে গ্লোবাল টাস্কফোর্স অন কলেরা কেস কন্ট্রোলকে (জিটিএফসিসি) পরামর্শ দেন।

সম্প্রতি ড. আহমেদকে দক্ষিণ এশিয়ায় তীব্র অপুষ্টি কমাতে গবেষণা ও কার্যক্রমে পরিচালিত কারিগরি উপদেষ্টা পরিষদের সহ-সভাপতির পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

তিনি উগান্ডা, সুদান, দক্ষিণ সুদান, লেবানন, আফগানিস্তান, কম্বোডিয়া, মিয়ানমার এবং উত্তর কোরিয়ায় শিশুদের অপুষ্টি ও ডায়রিয়া রোগ ব্যবস্থাপনায় বিভিন্ন প্রশিক্ষণ পরিচালনা করেন। এছাড়াও ড. আহমেদ কমনওয়েলথভুক্ত ৫৪টি দেশের শিশু পরিপাকতন্ত্র বিশেষজ্ঞদের একটি সংগঠন, পেডিয়াট্রিক গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি অ্যান্ড নিউট্রিশনের (ক্যাপগান) সভাপতি দিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

ড. তাহমিদের যত অর্জন

ড. আহমেদ পুষ্টি বিষয়ে গবেষণা এবং প্রশিক্ষণে বাংলাদেশের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, ইউনিসেফ এবং আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার সাথে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করেন। আন্তর্জাতিক জার্নাল এবং বইয়ে তার ৩৬০টি প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে।

মেডিকেল সায়েন্সে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ২০০৩ সালে বাংলাদেশ বিজ্ঞান একাডেমি তাঁকে ড. সুলতান আহমেদ চৌধুরী স্বর্ণপদক প্রদান করেছে। ২০১৮ সালে ড. আহমেদ ইসলামী ব্যাংক ডেভেলপমেন্ট ট্রান্সফর্মারস পুরস্কার পেয়েছেন। 

স্বাস্থ্য প্রশাসনে অন্য ক্যাডার

কর্মসূচিতে যাওয়ার হুমকি পেশাজীবী চিকিৎসক নেতাদের

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
নিবন্ধনহীন ওষুধ লিখলে চিকিৎসকের শাস্তি
জাতীয় ওষুধনীতি-২০১৬’ এর খসড়ার নীতিগত অনুমোদন

নিবন্ধনহীন ওষুধ লিখলে চিকিৎসকের শাস্তি