মো. এহসানুল হক অন্তু

মো. এহসানুল হক অন্তু

প্রেসিডেন্ট আব্দুল হামিদ মেডিকেল কলেজ,
সেশন-২০১৮-১৯


২৩ অগাস্ট, ২০২০ ০২:৪৪ পিএম

আইটেমে কান্নার অসহায়ত্ব

আইটেমে কান্নার অসহায়ত্ব

জীবনের প্রথম রিলেশনটা শুরু হবে মেডিকেলে এসে। স্বপ্নটা বাস্তব হতে যাচ্ছে বোধহয়। একদম ওরিয়েন্টেশন ক্লাস। একে একে সবার পরিচয় দিচ্ছে। ছেলেটিও মেয়েদের পরিচয়গুলো বেশ মনোযোগ দিয়ে গিলছে। প্রিয় মানুষকে খুঁজে বেরাচ্ছে উথাল-পাতাল মন। হঠাৎ দু’বেঞ্চি পাশের মেয়েটা কি যেন বলতে যেয়ে একটু থমকে দাড়াল, তারপর আশেপাশে কী দেখে যেন আবার পরিচয় বলতে শুরু করল।

ওয়াও কি সুন্দর চেহারা। আরে ‘সে আমাকে দেখছে নাতো? বাহ! আমার মনের ভাষা বুঝে গেল তাহলে?’ সেদিনের মুহূর্তের দৃষ্টিবিনিময় সাজিদের বুকের বা পাশে জায়গা করে নিল।

পরদিন এনাটমি টার্মিনোলজি ক্লাস। সেদিন ক্লাসে ঢুকতে একটু দেরি হয়ে গেল সাজিদের। স্যার একে একে সবগুলো টার্ম পড়াচ্ছেন, কিন্তু সাজিদ লাস্টের বেঞ্চিতে বসে থেকে ঐ মেয়েটিকে অনবরত খুঁজেই চলছে। এত এত মেয়ের মধ্যে অনেকক্ষণ সময় লাগল খুঁজে পেতে তার সেই সুহাসিনীকে। কিন্তু মেয়েটি বসছে একদম সামনের বেঞ্চিতে। সামনের দিকে বসায় সাজিদের ঠিকমতো সুবিধা হচ্ছিল না, এদিক স্যারের সাথেও বারবার চোখাচোখি হচ্ছে। কি আর করা, স্যারের কথাই শুনতে হচ্ছে সুন্দরীতমার প্রতি অপলক দৃষ্টি রেখে।

এমন কেন মেয়েটি? টানা তিনদিন ক্লাসে বরাবরই ফাস্ট বেঞ্চে বসে। কিছুতেই কিছু হচ্ছে না। পাশের মেয়েগুলোর সাথেও তো ঠিকমতো কথা বলে না। মেয়েটি সারাক্ষণ বইয়ের দিকে চেয়ে থাকে, স্যার ম্যামের ক্লাস অনবরত নোট করে। ওদিকে সাজিদ, বেশ চিন্তিত কখন পরিচয় হবে, কখন নাম জানা হবে। ইস এত কিউট চেহারা! সাজিদের আজকালতো বইয়ের পাতায় ঐ মেয়ের ছবিই ভাসে, বইয়ের লেখাগুলো ঝাপসা হয়ে আসে পড়তে বসলেই যেন।

এলো সেই সন্ধিক্ষণ? পরদিন ক্লাস শেষে খানিকক্ষণ বিরতি পাওয়া গেল। বিরতির পরপর প্রথম আইটেম শুরু হবে। এবার একটা চান্স নিতেই হয়। হঠাৎ সাজিদ সাহস নিয়েই সুহাসিনীর সামনে এসে দাঁড়াল একটা বই হাতে নিয়ে? বলল, ‘এই শোন, তোমার নাম কি? আর এই যে প্রশ্নটা বুঝতেছি না, এটার আন্সার কি?’

মেয়ে- এটার উত্তর একদমই সহজ... এটা হচ্ছে এটা, ...এটা এভাবে বলতে হবে, আর আমার নাম হচ্ছে.. ঠিক ওই মুহূর্তেই আইটেমের জন্য মেয়েটিকে ডাকা হল, নাম না বলেই দৌঁড়ে চলে গেল।  
এপ্রোনের হাতার ভাজ খুলতে খুলতে সাজিদ দীর্ঘশ্বাস ফেলল, ধুর এবারও কথা হলো নাহ...

খানিকবাদে মেয়েটি আইটেম দিয়ে ফিরে আসল। কিন্তু একি ও কাঁদছে!  হয়েছে কি ওর? সাজিদ কিছুই ভেবে পাচ্ছে না, স্যার কিছু বলেছে নাকি আইটেমে পেন্ডিং দিয়েছে? না আবার ওকে আমি বিরক্ত করেছিলাম আইটেমে যাওয়ার আগ মুহূর্তে সেজন্যে কাঁদছে?  

কি হয়েছে ওর? মনে মনে এসব চিন্তা করতে করতেই স্যারের ডাক। সাজিদের আইটেম দেওয়া সময় এবার। যাক বাবা, খানিকক্ষণ পর সে বেরিয়ে এসে দেখে এখনও প্রিয়মুখটি কাঁদছে। মনটাই খারাপ হয়ে গেল এটা দেখে।

ওপস, অনেক কষ্টে বন্ধুদের জিজ্ঞেস করে ওর কান্নার রহস্য বের করতে করতে প্রায় আরো দিন-দুই লেগে গেল। সেদিনের কান্নার কারণ ছিল আইটেমে ১০ এ ৮ নম্বর পেয়েছিল। তাই জন্যই এমন বুক ফাটানো কান্না করেছিল।

সাজিদ কোনো এক বন্ধুর মাধ্যমে শুনেছিল, ভালবাসার মানুষকে ফিল করার জন্য নাকি ঐ মানুষের মনের সাথে মন মিলাতে হয়। সে মিল যতক্ষণ পর্যন্ত না মিলে ততক্ষণ আর সামনের দিকে এগিয়ে যেতে নাই। বন্ধুর এ কথাটাকে সাজিদ শপথ হিসেবে নিয়েছিল। কিন্তু ভাগ্যের এটাই নির্মম পরিহাস, সাজিদ মেয়েটির সেই কান্নার ফিলিংস কোনো ভাবেই বুঝতে পারল না। এটা ব্যতীত ওর হাতে কোনো সুযোগ নেই। এতই হতভাগা যে, আজ অব্দি ইচ্ছে-অনিচ্ছে কত যে আইটেমে পেন্ডিং খেল, কিন্তু চোখ দিয়ে একফোটা জলও বের হলো না। কান্নার ফিলিংস দূরে থাক, কয়েকবার পেন্ডিং খেয়ে রীতিমতো হাসতে হাসতেও বের হতে দেখা গেছে ওকে।

এভাবেই একটা অসম্ভব ভালবাসার অসহায় পরিসমাপ্তি হয়েছিল। সাজিদ সেটা ভেবে আজও মন খারাপ করে, ‘আইটেমের কান্নাগুলো শুধু মেয়ে মানুষদের জন্য বরাদ্দ বুঝি!’

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
তুমি সবার প্রফেসর আবদুল্লাহ স্যার, আমার চির লোভহীন, চির সাধারণ বাবা
পিতাকে নিয়ে ছেলে সাদি আব্দুল্লাহ’র আবেগঘন লেখা

তুমি সবার প্রফেসর আবদুল্লাহ স্যার, আমার চির লোভহীন, চির সাধারণ বাবা

বেশিদিন ওমিপ্রাজল খেলে হাড় ক্ষয়ের ঝুঁকি বাড়ে 
কিডনি পাথরের ঝুঁকি বাড়ায় নিয়মিত অ্যান্টাসিড সেবন 

বেশিদিন ওমিপ্রাজল খেলে হাড় ক্ষয়ের ঝুঁকি বাড়ে 

ডাক্তার-নার্সদের অক্লান্ত পরিশ্রমের কথা মিডিয়ায় আসে না
জাতীয় হৃদরোগ ইন্সটিটিউটের সিসিউতে ভয়ানক কয়েক ঘন্টা

ডাক্তার-নার্সদের অক্লান্ত পরিশ্রমের কথা মিডিয়ায় আসে না