১৯ অগাস্ট, ২০২০ ০৯:৫৩ পিএম
শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে ৩ কিশোর হত্যা

কর্মকর্তাদের জড়িত থাকার প্রমাণ পেয়েছে তদন্ত কমিটি

কর্মকর্তাদের জড়িত থাকার প্রমাণ পেয়েছে তদন্ত কমিটি
যশোর শিশু উন্নয়ন কেন্দ্র। ছবি: সংগৃহীত

মেডিভয়েস রিপোর্ট: যশোর শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে (বালক) তিন কিশোর হত্যা ও নির্যাতনের ঘটনায় কর্মকর্তাদের দায়িত্ব অবহেলার প্রমাণ পেয়েছে তদন্ত কমিটি। আজ বুধবার (১৯ আগস্ট) সন্ধ্যায় দুই সদস্যের তদন্ত কমিটির প্রধান সমাজসেবা অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রতিষ্ঠান) যুগ্ম সচিব সৈয়দ নুরুল বাসির এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।  

তিনি বলেন, কর্মকর্তাদের দায়িত্ব অবহেলা, গাফিলতির প্রমাণ পাওয়া গেছে। একই সঙ্গে দুপুরে ঘটনা ঘটলেও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি অবহিত করেননি কর্মকর্তারা।

সৈয়দ নুরুল বাসির বলেন, অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কাছে তদন্ত প্রতিবেদন হস্তান্তর করা হবে। পরে তিনি ওই প্রতিবেদন সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ে পাঠাবেন।

কর্মকর্তাদের সরাসরি জড়িত থাকা নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে যুগ্ম সচিব সৈয়দ নুরুল বাসির বলেন, ‘কারো কারো সংশ্লিষ্টতা থাকতে পারে। সেটা ক্রিমিনাল ফ্যাক্ট। ওটা নিয়ে পুলিশ কাজ করছে। তারা প্রাথমিক তদন্তে সত্যতাও পেয়েছে। ইতোমধ্যে কর্মকর্তাদের সাসপেন্ড করা হয়েছে। পুলিশ চূড়ান্ত তদন্তে সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পেলে অভিযোগপত্র দিবে। আমরা মূলত প্রাতিষ্ঠানিক সমস্যাগুলোকে চিহ্নিত করেছি। কেন এমন ঘটনা ঘটলো সেটি চিহ্নিত করার চেষ্টা করেছি। সুপারিশ দিয়েছি, ভবিষ্যতে যাতে এমন ঘটনা আর না ঘটে।’

গত ১৪ আগস্ট সমাজসেবা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. রফিকুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রতিষ্ঠান) যুগ্ম সচিব সৈয়দ নুরুল বাসিরকে প্রধান করে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির অপর সদস্য ছিলেন সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপপরিচালক (প্রতিষ্ঠান-২) এমএম মাহামুদুল্লাহ।

একই দিন (১৪ আগস্ট) যশোরের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মুহাম্মদ আবুল লাইছকে প্রধান করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়। পাঁচ কর্ম দিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দিতে বলা হয়। বুধবার তদন্ত কমিটি আরও সাত দিন সময় চেয়ে আবেদন করেছে।

তদন্ত কমিটির প্রধান বলেন, তিন কিশোর নিহতের ঘটনায় শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রের পাঁচ কর্মকর্তা রিমান্ডে আছেন। তদন্ত কমিটি তাদের বক্তব্য নিতে পারেনি। রিমান্ড শেষ হলে বক্তব্য নেওয়া হবে। এজন্য সাতদিন সময় চেয়ে মন্ত্রণালয়ে আবেদন করা হয়েছে।

এদিকে, কেন্দ্রের তত্ত্বাবধায়কসহ তিন কর্মকর্তাকে রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। বুধবার বিকেলে তাদেরকে যশোর জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হলে বিচারক কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা যশোর চাঁচড়া পরিদর্শক রকিবুজ্জামান জানান, রিমান্ডে কর্মকর্তারা গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছে। আপাতত তাদের আর রিমান্ডে নেওয়া হবে না। ঘটনায় জড়িত ৮ কিশোরের রিমান্ড আবেদন প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

কর্মকর্তা হলেন: তত্ত্বাবধায়ক (সহকারী পরিচালক) আব্দুল্যা আল মাসুদ, সহকারী তত্ত্বাবধায়ক (প্রবেশন অফিসার) মাসুম বিল্লাহ ও ফিজিক্যাল ইন্সট্রাক্টর একেএম শাহানুর আলম।

এর আগে ১৭ আগস্ট রিমান্ড শেষে কেন্দ্রের আরও দুই কর্মকর্তা সাইকো সোশ্যাল কাউন্সিলর মুশফিকুর রহমান ও কারিগরি প্রশিক্ষক (ওয়েল্ডিং) ওমর ফারুককে রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠানো হয়।

প্রসঙ্গত, যশোরের পুলেরহাটে শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রের নিরাপত্তাকর্মী এক আনসার সদস্যকে মারধর করে কিশোরেরা। এ ঘটনায় ১৩ আগস্ট দুপুরে বৈঠকে গৃহিত সিদ্ধান্তের আলোকে ওই কিশোরদের পেটানো হয়। এতে তিন কিশোর নিহত ও ১৫ কিশোর আহত হয়। এই ঘটনায় নিহত নিহত কিশোর পারভেজ হাসান রাব্বির বাবা রোকা মিয়া বাদী হয়ে যশোর কোতোয়ালি থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। ওই মামলায় যশোর শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে কর্তৃপক্ষকে আসামি করা হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে কেন্দ্রের ৫ কর্মকর্তা ও অপর ৮ কিশোরকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

মেডিভয়েসের জনপ্রিয় ভিডিও কন্টেন্টগুলো দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন MedivoiceBD ইউটিউব চ্যানেল। আপনার মতামত/লেখা পাঠান [email protected] এ।
  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
এক দিনে চিরবিদায় পাঁচ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক
করোনা ও বার্ধক্যজনিত অসুস্থতা

এক দিনে চিরবিদায় পাঁচ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক