মা ও শিশু হাসপাতাল: সেবা দিতে গিয়ে চিকিৎসক-নার্সদের ভোগান্তি
মেডিভয়েস রিপোর্ট: জোয়ারের পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় চট্টগ্রামের আগ্রাবাদ মা ও শিশু হাসপাতালের চিকিৎসা সেবা চরমভাবে বিপর্যস্ত। চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের পাশাপাশি চিকিৎসাসেবা দিতে গিয়েও ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে চিকিৎসক-নার্সসহ স্বাস্থ্যকর্মীদের। রোগী ও স্বজনরা কোনরকম পা গুটিয়ে বেডের ওপর বসে থাকতে পারলেও মেঝেতে থাকা ময়লা-আবর্জনাযুক্ত হাঁটুপানিতে ঘুরে ঘুরেই সেবা দিচ্ছেন চিকিৎসক-নার্সরা।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকাল থেকেই আগ্রাবাদ মা ও শিশু হাসপাতালের পুরো নিচতলায় পানি ওঠে। এতে সেখানকার বিভিন্ন সাধারণ বিভাগ, শিশু বিভাগ, অভ্যর্থনা কক্ষসহ সব কিছুই হাঁটু পানিতে তলিয়ে যায়। রোববার রাত থেকে সোমবার সকাল পর্যন্ত মহানগরীতে টানা বৃষ্টিপাত হয়েছে। এতে করে নগরীর বিভিন্ন নিচু এলাকাতেও পানি উঠেছে। তবে বেলা বাড়ার সাথে সাথে পানি নামতে শুরু করে বলেও তারা জানান।
হাসপাতালের পরিচালক ডা. নুরুল হক বলেন, ‘জোয়ার এবং টানা বর্ষণের কারণে হাসপাতালের নিচতলায় হাঁটু পানি জমে গেছে। হাসপাতালের পরিচালকের কক্ষ, পরিচালনা কমিটির সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের কক্ষ, হাসপাতালের আউটডোর, সাধারণ হিসাব বিভাগ, শিশু বিভাগের বিভিন্ন কক্ষে পানি প্রবেশ করেছে। পানি জমে গেলেও চিকিৎসা সেবা কার্যক্রম আমরা বন্ধ হতে দিইনি।’
নিচতলায় শিশুস্বাস্থ্যের মতো রয়েছে অভ্যর্থনা বিভাগ, টিকিট কাউন্টার, লিফট রুম, বহির্বিভাগ, প্রশাসনিক বিভাগসহ গুরুত্বপূর্ণ আরও বেশকিছু বিভাগ। সবই থইথই করছে পানিতে। পানির দখল থেকে রক্ষা পায়নি মা ও শিশু হাসপাতালের পরিচালকের কক্ষটিও। নিজের কক্ষে হাঁটুসমান পানিতে দাঁড়িয়ে ছবি তুলে তা নিজের ফেসবুক পেজে শেয়ারও করেছেন তিনি।
ডা. নুরুল হক বলেন, ‘নিচু এলাকা হওয়ায় সামান্য বৃষ্টি হলেই হাসপাতালের নিচতলায় পানি উঠে যায়। বৃষ্টি এবং জোয়ারের পানি একসঙ্গে হওয়ার কারণে এ সমস্যা। এতে ব্যাহত হয় চিকিৎসাসেবা; নষ্ট হয়ে যায় অনেক জিনিসপত্রও। নিচতলা উঁচু করেও পানির সমস্যার সমাধান হচ্ছে না। সামগ্রিক জলাবদ্ধতার কারণে এমন সমস্যা হচ্ছে।’
মা ও শিশু হাসপাতাল পরিচালনা কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান সৈয়দ মোরশেদ হোসেন বলেন, ‘সহজলভ্য চিকিৎসাসেবার কারণে হাসপাতালটি চট্টগ্রামবাসীর হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছে। সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণের পরও বৃষ্টি আর জোয়ারের পানির কারণে চিকিৎসাসেবা প্রদানে বাধার সম্মুখীন হতে হচ্ছে। হাসপাতালে আসার সড়কগুলো ময়লা-আবর্জনায় ভরপুর। এ কারণে সামান্য বৃষ্টি হলে সড়কে পানি জমে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। নিচতলা উঁচু করেও সুফল পাচ্ছি না। চিঠি দিয়ে বিষয়টি একাধিকবার সংশ্নিষ্ট দপ্তরকে জানিয়েছি।’