চীনে নতুন সংক্রামক রোগে ৭ জনের মৃত্যু
মেডিভয়েস রিপোর্ট: প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের পর এবার চীনে নতুন একটি সংক্রামক রোগের প্রকোপ দেখা দিয়েছে। রক্তচোষা পোকাবাহিত এই রোগটিতে অন্তত ৬০ জন আক্রান্ত ও সাত জনের মৃত্যু হয়েছে। গত ৫ আগস্ট স্থানীয় গণমাধ্যম গ্লোবাল টাইমসের প্রতিবেদনে এ কথা বলা হয়েছে।
খবরে বলা হয়েছে, এ বছরের প্রথমার্ধে পূর্বাঞ্চলীয় জিয়াংসু প্রদেশে ৩৭ জন এবং পরে আনহুই প্রদেশে ২৩ জন আক্রান্ত হয়েছে। মানুষ থেকে মানুষের মধ্যে নতুন এই রোগটি সংক্রমণের বিষয়ে সতর্ক করে দিয়েছে রাষ্ট্রচালিত সংবাদমাধ্যমটি।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভাইরাসটিতে পূর্বাঞ্চলীয় জিয়াংসু ও আনহুই প্রদেশে কমপক্ষে সাতজন মানুষের মৃত্যু হয়েছে।
নতুন এই রোগে আক্রান্ত চীনের জিয়াংসু প্রদেশের রাজধানী নানজিংয়ের এক নারী জানান, তাঁর জ্বর ও কাশির মতো লক্ষণ দেখা দেয়। ডাক্তাররা তাঁর শরীরে লিউকোলাইট ও রক্তের প্লাটিলেটের ঘাটতি দেখতে পান। এক মাসের চিকিৎসায় সুস্থ হওয়ার পর হাসপাতাল থেকে ছাড়া পান তিনি।
নতুন এই রোগের জন্য দায়ী করা হচ্ছে এসএফটিএস (সিভিয়ার ফিভার উইথ থ্রম্বোসাইটোপেনিয়া সিনড্রোম) ভাইরাসকে।
এসএফটিএস ভাইরাস যদিও নতুন কোনও ভাইরাস নয়। ২০১১ সালে এই ভাইরাসটির প্যাথোজেন আলাদা করে ফেলে চীন। ভাইরোলজিস্টদের ধারণা রক্তচোষা পোকার মাধ্যমেই ভাইরাসটি মানুষের মধ্যে ছড়িয়েছে। আর এটি মানুষ থেকে মানুষের মধ্যেও ছড়াতে পারে।
বেইজিংয়ের স্বাস্থ্যকর্তারা বলছেন, সাধারণত গাছে, ঘাসে বা পাতায় থাকে এই রক্তচোষা পোকা, অনেকটা এঁটুলির মতো। বাড়িতে পোষা কুকুর বা বিড়ালের শরীরেও দেখা যায় এই পোকা। যদিও এমনিতে এই পোকা কামড়ালে কোনও সমস্যা হয় না। তবে যদি এদের শরীরে ভাইরাস থাকে, তাহলে সংক্রমিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
চেজিয়াং বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে প্রথম অনুমোদন পাওয়া হাসপাতালের চিকিৎসক শেন জিফাং বলেন, এ রোগ মানুষ থেকে মানুষে সংক্রমণের আশঙ্কা বাদ দেওয়া যায় না; সংক্রমিত ব্যক্তির রক্ত বা মিউকাসের মাধ্যমেও ভাইরাসটি ছড়াতে পারে।
চিকিৎসকরা বলেন, রক্তচোষা পোকার মাধ্যমেই প্রধানত এ ভাইরাসটি ছড়িয়ে পরতে পারে। সতর্কতা অবলম্বনের মাধ্যমে এর সংক্রমণ থেকে সুরক্ষা পাওয়া সম্ভব। এ নিয়ে মাত্রাতিরিক্ত আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই।
প্রসঙ্গত, চীনের উহান শহর থেকে গত বছরের ডিসেম্বরে ছড়িয়ে পড়ে নভেল করোনাভাইরাস। এর পর তা বৈশ্বিক মহামারীতে রূপ নেয়। এ ভাইরাসে ইতোমধ্যে বিশ্বের লাখ লাখ মানুষ প্রাণহানি হারিয়েছে। এর মধ্যেই দেশটিতে নতুন সংক্রামক রোগের প্রকোপের কথা জানা গেলো।