২২ জুলাই, ২০২০ ০৭:৫৯ পিএম

কে হচ্ছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক?

কে হচ্ছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক?
অধ্যাপক ডা. আবুল হাশেম খান, অধ্যাপক ডা. এএইচএম এনায়েত হোসেন ও অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা (বাম দিক থেকে)

মো. মনির উদ্দিন: জেকেজি ও রিজেন্ট হাসপাতালের সঙ্গে চুক্তিসহ স্বাস্থ্যখাতের নানা অনিয়ম নিয়ে তীব্র বিতর্কের মুখে পদত্যাগ করেছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে গিয়ে সচিবের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন তিনি।

নিয়ম অনুযায়ী, এবার রাষ্ট্রপতি সেই পদত্যাগপত্র গ্রহণ করলেই তাঁর নিয়োগ বাতিল করে আদেশ জারি করবে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। এ অবস্থায় দেশজুড়ে কৌতুলী মানুষের একটাই জিজ্ঞাসা কে হচ্ছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরবর্তী মহাপরিচালক?

অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার পর থেকেই মহাপরিচালক হিসেবে অনেকের নাম শোনা যাচ্ছে। 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের একাধিক কর্মকর্তা মেডিভয়েসকে জানিয়েছেন, মহাপরিচালকের পদপ্রত্যাশী অনেকেই রয়েছেন। তবে করোনাভাইরাস পরিস্থিতি এবং অধিদপ্তরের দুর্নীতি ও অনিয়ম ঘিরে দেশজুড়ে চলমান সমালোচনার মুখে কেউই এখন এ দায়িত্ব গ্রহণের ব্যাপারে তেমন আগ্রহ প্রকাশ করছেন না। এ পরিস্থিতিতে অধিকতর সাহসী কোনো ব্যক্তিই এ গুরুভার গ্রহণ করবেন বলে মনে করেন তাঁরা। 

এই সংকটময় মুহূর্তে কারও নির্দ্বিধায় দায়িত্ব গ্রহণের ব্যাপারে সংশয় প্রকাশ করে কর্মকর্তারা বলেন, এ পদে যত সৎ ও যোগ্য লোককেই বসানো হোক না কেন, অভ্যন্তরীণ গ্রুপিং ও বিভিন্ন মহলের চাপসহ নানা প্রতিকূলতা মোকাবিলা করে নিজেকে সফল করতে নতুন স্বাস্থ্য মহাপরিচালককে মহাচ্যালেঞ্জ গ্রহণ করতে হবে।

অধিদপ্তরের একাধিক সূত্রের দেওয়া তথ্যানুযায়ী, নতুন মহাপরিচালক হিসেবে বেশি শোনা যাচ্ছে স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. এএইচএম এনায়েত হোসেন ও স্বাস্থ্য অধিদপ্ততরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানার নাম। 

এর পাশাপাশি স্বাস্থ্য শিক্ষা বিভাগের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. আবুল হাশেম খান, অতিরিক্ত মহাপরিচালক (শিক্ষা) অধ্যাপক ডা. আবু ইউসুফ ফকির, সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) পরিচালক অধ্যাপক ডা. মীরজাদি সেব্রিনা ফ্লোরা, স্বাস্থ্য সেবা অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন, চ. দা.) অধ্যাপক ডা. সানিয়া তহমিনা ঝোরা এবং ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব প্রিভেন্টিভ অ্যান্ড সোশ্যাল মেডিসিনের (নিপসম) পরিচালক অধ্যাপক ডা. বায়েজিদ খুরশীদ রিয়াজের নাম শোনা যাচ্ছে। 

এছাড়া আরও যাদের নাম শোনা যাচ্ছে তারা হলেন: ঢাকা মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. খান মো. আবুল কালাম আজাদ, মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. টিটু মিয়া ও চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. শামীম হাসান। 

তবে পুরো বিষয়টি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ইচ্ছার ওপর নির্ভর করছে জানিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সংশ্লিষ্টরা বলছেন, তাঁর সবুজ সংকেত না মিললে কেউই এ দায়িত্বের জন্য বিবেচিত হবেন না। এখানে যেসব নাম উচ্চারিত হচ্ছে সবই অনুমাননির্ভর। কেউ কেউ তদবির করার উদ্দেশ্যে গণমাধ্যমে নিজের নাম উচ্চারণ করছেন বলেও কোনো কোনো সূত্র দাবি করেছে।

তবে অনুমানের ওপর নির্ভর যেসব নাম উচ্চারিত হচ্ছে, তারা সবাই স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক হওয়ার যোগ্য বলে মনে করেন তারা। 

করোনা মোকাবিলায় চিকিৎসক ও নার্সসহ স্বাস্থ্যকর্মীদের ব্যক্তিগত নিরাপত্তার সরঞ্জাম (পিপিই) সরবরাহে ব্যর্থতাসহ নানা অনিয়মে সম্পৃক্ততার অভিযোগ ওঠে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদের বিরুদ্ধে। আর এসব অনিয়ম নিয়ে তীব্র বিতর্কের মধ্যেই মঙ্গলবার (২১ জুলাই) পদত্যাগ করলেন তিনি।

অধ্যাপক ডা. দ্বীন মোহাম্মদ নুরুল হক অবসরে যাওয়ার পর ২০১৬ সালের ১ সেপ্টেম্বর স্বাস্থ্য অধিপ্তরের মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদ। প্রথম পর্যায়ে মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে ২০১৯ সালের ১৫ এপ্রিল তাঁকে আবারও দুই বছরের জন্য চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হয়।

আবুল কালাম আজাদ ১৯৮৩ সালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস সম্পন্ন করেন। ১৯৯০ সালে তৎকালীন আইপিজিএমআর (বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়) থেকে এমফিল ডিগ্রি নেন।

মেডিভয়েসের জনপ্রিয় ভিডিও কন্টেন্টগুলো দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন MedivoiceBD ইউটিউব চ্যানেল। আপনার মতামত/লেখা পাঠান [email protected] এ।
  ঘটনা প্রবাহ : স্বাস্থ্য অধিদপ্তর
সাত কর্মদিবসের মধ্যে দাবি বাস্তবায়নের আশ্বাসে কর্মবিরতি প্রত্যাহার

ইন্টার্ন চিকিৎসকদের ভাতা নবম গ্রেডের বেসিক

মাসুদ কামালের প্রতি ড্যাবের হুঁশিয়ারি

ক্ষমা না চাইলে আইনি ব্যবস্থার মুখোমুখি হতে প্রস্তুতি নিন

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত