০৭ জুলাই, ২০২০ ০৬:৫৩ পিএম

অনিয়ম নিয়ে মুখ খুলল স্বাস্থ্য অধিদপ্তর

অনিয়ম নিয়ে মুখ খুলল স্বাস্থ্য অধিদপ্তর

মেডিভয়েস রিপোর্ট: লাইসেন্সের মেয়াদ না থাকা, টেস্ট না করেই করোনাভাইরাস পরীক্ষার ভুয়া রিপোর্ট দেয়াসহ রিজেন্ট হাসপাতালের নানা অভিযোগের ব্যাপারে অবশেষে মুখ খোলেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। হাসপাতালটির কোন অনুমোদন না থাকার কথা স্বীকার করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাসপাতাল ও ক্লিনিক বিভাগের পরিচালক জানান, পরীক্ষার নামে ভূয়া রিপোর্ট প্রদান করে টাকা হাতিয়ে নেয়া, তাগিদ প্রদান করা সত্ত্বেও লাইসেন্স নবায়ন না করাসহ আরো অনিয়ম করেছে বলে প্রমানিত হয়েছে।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) বিকালে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দেয়া এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। 

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, উত্তরা রিজেন্ট হাসপাতাল ও মিরপুর রিজেন্ট হাসপাতাল গত মার্চ থেকে কোভিড-১৯ আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা সেবা প্রদান করে আসছিল। কিন্তু গত ০৬ জুলাই র‌্যাবের অভিযানে (মোবাইল কোর্ট পরিচালনাকালে) রিজেন্ট হাসপাতাল লিঃ, উত্তরা শাখায় (মূল শাখা) বিভিন্ন অনিয়ম ধরা পড়ে, যা বিভিন্ন ইলেকট্রিক মিডিয়া এবং দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। প্রকাশিত সংবাদে দেখা যায় উক্ত হাসপাতাল দুটি রোগীদের কাছ থেকে অন্যায়ভাবে বিরাট অংকের টাকা আদায় করছে।

অনুমোদন না থাকা সত্ত্বেও RT-PCR পরীক্ষার নামে ভূয়া রিপোর্ট প্রদান করে টাকা হাতিয়ে নেয়া, তাগিদ প্রদান করা সত্ত্বেও লাইসেন্স নবায়ন না করাসহ আরো অনিয়ম করেছে বলে প্রমানিত হয়। উল্লেখিত অনিয়মের কারনে এবং “The Medical Pactice & Private Clinic & Laboratories Regalation Ordinance-1982" অনুযায়ী হাসপাতালের কার্যক্রম অবিলম্বে বন্ধের নির্দেশ প্রদান করা হলো ।

প্রসঙ্গত, সোমবার বিকালে রাজধানীর উত্তরা ও মিরপুরের রিজেন্ট হাসপাতালে অভিযান চালায় র‌্যাব। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারোয়ার আলমের নেতৃত্বে অভিযানে র‌্যাব করোনার ভুয়া রিপোর্ট দেয়ার প্রমাণ পায়। এছাড়া হাসপাতালটির লাইসেন্সের মেয়াদ ৬ বছর আগেই শেষ হয়ে যাওয়ার প্রমাণ পেয়েছে র‌্যাব। কোভিড-১৯ ডেডিকেটেড হওয়ায় রোগীদের কাছ থেকে টাকা না নেয়ার কথা থাকলেও হাসপাতালটির বিরুদ্ধে করোনা টেস্ট ও ভর্তি রোগীদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ টাকা নেয়ারও অভিযোগ রয়েছে।

র‍্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারোয়ার আলম জানিয়েছেন, অভিযানে দেখা যায় রিজেন্ট হাসপাতালের লাইসেন্স ২০১৪ সালে শেষ হয়ে গেছে। তারপর আর লাইসেন্স নবায়ন করা হয়নি। কীভাবে সরকার এমন একটি হাসপাতালের সঙ্গে কোভিড-১৯ রোগীদের চিকিৎসা চুক্তিতে গেল, তা খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।

তবে রিজেন্ট হাসপাতালের নামে প্রতারণার অভিযোগ এবং সনদ না থাকলেও চুক্তি কেন করা হলো জানতে চেয়ে খুদে বার্তা দিয়েও সাড়া পাওয়া যায়নি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবুল কালাম আজাদের। এমনকি উত্তর পাওয়া যায়নি অধিদপ্তরের হাসপাতাল শাখার পরিচালক আমিনুল হাসানেরও।

এর আগে, গত সপ্তাহেও জোবেদা খাতুন সার্বজনীন স্বাস্থ্য সেবা (জেকেজি হেলথকেয়ার) নামের একটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধেও পরীক্ষা না করে প্রতিবেদন দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। ওই ঘটনায় প্রতিষ্ঠানটির অন্যতম কর্নধার আরিফুল চৌধুরীকে গ্রেপ্তার করা হয়। তবে তাঁর স্ত্রী ও প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান সাবরিনা আরিফ চৌধুরীর বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি অধিদপ্তর। অধিদপ্তরের মহাপরিচালক জেকেজির কার্যক্রম দেখতে গেছেন, সঙ্গে হাস্যোজ্জ্বল মুখে সাবরিনা আরিফ চৌধুরী এমন একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। জেকেজি কী করে নমুনা পরীক্ষার অনুমোদন পেল সে সম্পর্কেও অধিদপ্তর মুখ খোলেনি।

  ঘটনা প্রবাহ : রিজেন্ট হাসপাতাল
  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
নিবন্ধনহীন ওষুধ লিখলে চিকিৎসকের শাস্তি
জাতীয় ওষুধনীতি-২০১৬’ এর খসড়ার নীতিগত অনুমোদন

নিবন্ধনহীন ওষুধ লিখলে চিকিৎসকের শাস্তি