ডা. আব্দুন নূর তূষার

ডা. আব্দুন নূর তূষার

সিইও, নাগরিক টিভি

সাবেক শিক্ষার্থী, ঢাকা মেডিকেল কলেজ

 


০৪ জুলাই, ২০২০ ০৭:৪৭ পিএম

করোনাভাইরাস: ভ্যাকসিন নিয়ে গবেষণায় যা জানা জরুরি

করোনাভাইরাস: ভ্যাকসিন নিয়ে গবেষণায় যা জানা জরুরি
ডা. আব্দুন নূর তূষার। ছবি: সংগৃহীত

করোনাভাইরাসের প্রতিরোধে এখনো কোনো প্রতিষেধক তৈরি হয়নি। এর কার্যকর ভ্যাকসিন তৈরির লক্ষ্যে অবিরাম চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন বিজ্ঞানীরা। এ নিয়ে ব্রিটেনসহ বেশ কয়েকটি দেশ করোনার টিকার হিউম্যান ট্রায়াল শুরু করে দিয়েছে। অন্তত ১২টি ভ্যাকসিনের হিউম্যান ট্রায়াল চলছে। 

এছাড়া ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে নিরাপদ এবং কার্যকর প্রমাণিত হওয়ায় চীনে করোনাভাইরাসের প্রথম ভ্যাকসিন প্রয়োগের অনুমতি দেওয়া হয়েছে, যা দেশটির সৈন্যদের দেহে বছরব্যাপী প্রয়োগ হবে। অবশ্য সম্প্রসারিত পরিসরে এ কার্যক্রমের অনুমতি এখনো মেলেনি। 

এরই মধ্যে বাংলাদেশেও করোনাভাইরাসের ভ্যাকসিন আবিষ্কারের দাবি করেছে গ্লোব বায়োটেক লিমিটেড নামে একটি প্রতিষ্ঠান। যেহেতু ভ্যাক্সিন নিয়ে অনেক কথা হচ্ছে এবং বাংলাদেশ করোনা ভ্যাক্সিন গবেষক দেশের তালিকায় যুক্ত হতে চলেছে, তাই আমাদের গবেষণা সম্পর্কে জানা দরকার।

আসুন জেনে নেই, সামান‍্য একটা ল্যাব র‌্যাট সিলেক্ট করা বা গবেষণার জন্য প্রাণী নির্বাচন করার জন্য কি কি বিষয় দেখতে হয়?

১. কোন কোন প্রাণী সবচেয়ে বেশি সঠিক ও সহজে বিশ্লেষণ করা যায় এমন ফলাফল দেবে।

২. এর আগে যদি একই ধরনের রোগের বিষয়ে গবেষণা হয়ে থাকে, তবে সেখানে কি ধরনের প্রাণী ব্যবহার করা হয়েছিল।

৩. এই প্রাণীর ওপরে গবেষণার ফল অন্য গবেষকদেরও সাহায্য করবে কিনা।

৪. প্রাণীটির শারীরিক ও ব্যবহারিক বৈশিষ্ট্য মানব শরীরের আচরণ ও বৈশিষ্ঠ্যের সাথে মেলে কিনা?

৫. প্রাণীর শরীরে রোগের লক্ষণ, প্রকাশ ও রোগ বিস্তারের প্রণালী মানব শরীরের সাথে মেলে কিনা?

৬. প্রাণীটি গবেষকদের জন্য বায়োলজিক্যালি ও ব্যবহারের প্রক্রিয়াতে নিরাপদ কিনা?

৭. প্রাণীটি বিপন্ন প্রজাতি বা তার ব্যবহারের ওপরে কোনো নিষেধাজ্ঞা আছে কিনা?

৮. এমন প্রাণী নিতে হবে, যাতে সবচেয়ে কম সংখ্যায় প্রাণীটি নিয়ে গবেষণা শেষ করা যায়।

৯. প্রাণীটির কাছ থেকে মানুষে বা অন্য প্রাণীতে রোগ ছড়াবে কিনা ও গবেষণা শেষে প্রাণীটির কি হবে? তাকে মেরে ফেললে কিভাবে মরদেহ সৎকার করা হবে বা বেঁচে থাকলে তাকে কিভাবে রাখা হবে সেটাও দেখতে হয়। কারণ এ থেকে একই রোগ আরো বেশি ছড়িয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। Zoonotic transmission ভয়ঙ্কর হতে পারে।

১০. উপরের বিষয়গুলোর সাথে সাথে প্রাণীটির রক্ষণাবেক্ষণ ও বাসস্থান সুরক্ষা যতোটা পারা যায় সহজ ও কমখরচের হতে হয়।

এতসবকিছুর পরেও প্রাণীর দেহে গবেষণা করলে নৈতিক অনুমোদন নিতে হয়।

গবেষণা পদ্ধতি নিয়ে আমাদের অধিকাংশ মানুষের ধারণা কম। তাই আবেগী না হয়ে পরেরটুকু পরেন।

এটাও এ রকম আরো অনেক ধাপ এবং তার রেগুলেটরি রিকোয়‍্যারমেন্টস জানা দরকার। কারণ সারা দুনিয়াতে ভ্যাকসিন পলিটিক্স আছে।

যদি আমরা সফল হই, তখন আমাদের গবেষণার ভুল-ত্রুটি বের করার জন্য বিদেশিরা ব্যস্ত হবেন। তাই প্রক্রিয়াতে কোনো ফাঁক-ফোকর রাখা যাবে না।

যে কোনো গবেষণার ফলাফল যতো দ্রুত সম্ভব ইনেডক্সড জার্নালে পিয়ার রিভিউ করিয়ে প্রকাশ করে ফেলতে হয়।

আর তখন তারা সব নিয়ম-কানুন নিয়ে প্রশ্ন করে। আবিষ্কার ঠিকমতো কাগজে-কলমে পাহারা দিতে হয়। নইলে ভ্যাক্সিনও চুরি হয়ে যায়।

করোনা ভাইরাস থেকে সুরক্ষিত থাকতে গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম গুলো মেনে চলুন। সর্দি কাশি জ্বর হলে হাসপাতালে না গিয়ে স্বাস্থ্য সেবা দানকারী হটলাইন গুলোতে ফোন করুন। আইইডিসিআর হটলাইন- 10655, email: [email protected]
  ঘটনা প্রবাহ : করোনাভাইরাস
  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
নিবন্ধনহীন ওষুধ লিখলে চিকিৎসকের শাস্তি
জাতীয় ওষুধনীতি-২০১৬’ এর খসড়ার নীতিগত অনুমোদন

নিবন্ধনহীন ওষুধ লিখলে চিকিৎসকের শাস্তি