বাজেটে স্বাস্থ্যখাতে বরাদ্দ আশানুরূপ হয়নি: ড. খলীকুজ্জমান
মেডিভয়েস রিপোর্ট: প্রস্তাবিত বাজেটে স্বাস্থ্যখাতে বরাদ্দ আশানুরূপ হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ড. কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ। তিনি বলেন, ‘এই বছর আশা করেছিলাম স্বাস্থ্যখাতে বরাদ্দ আরেকটু বেশি হবে এবং সেটা আস্তে আস্তে তিন শতাংশের দিকে যাবে। কিন্তু তা আশানুরুপ হয়নি।’
শুক্রবার (১২ জুন) বাজেট পরবর্তী প্রতিক্রিয়ায় গণমাধ্যমকে তিনি এসব কথা বলেন।
ড. খলীকুজ্জমান আহমদ বলেন, ‘বাজেটে স্বাস্থ্যখাতে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে ২৯ হাজার কোটি টাকা। এটা বাজেটের অংশ হিসেবে ৫ শতাংশ, আর জাতীয় আয়ের দিক থেকে শূন্য দশমিক নয় (০.৯) শতাংশ। কাজেই খুব একটা বাড়েনি। স্বাস্থ্যখাতে আরও বরাদ্দ প্রয়োজন ছিল। কারণ আমাদের স্বাস্থ্য অবকাঠামোটা গড়ে তুলতে হবে।
তিনি বলেন, ‘কমিউনিটি ক্লিনিক যেগুলো আছে সেটা তেমন ফলপ্রসু হচ্ছে না। সারাদেশের কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোকে কেন্দ্র করে যদি স্বাস্থ্যসেবাটা সম্প্রসারিত করা হয়। সেগুলোকে কেন্দ্র করে বরাদ্দ থাকা উচিত ছিল। তাহলে বর্তমানে যে স্বাস্থ্যখাতের ভঙ্গুরতা সেটা কমত।’
অগ্রাধিকার খাতে দ্রুত বরাদ্দের তাগিদ দিয়ে ড. খলীকুজ্জমান আরো বলেন, ‘অগ্রাধিকার যেটা ধরা হয়েছে- যেমন স্বাস্থ্য, কৃষি, নিরাপত্তা বেষ্টনি, শিক্ষা। এগুলো বাজেটে সেভাবেই আছে। করোনা পরিস্থিতি মোকাবেলায় থোক বরাদ্দ দেয়া হয়েছে ১০ হাজার কোটি টাকা। এই বছর যেটা খরচ করা হয়েছে ৫২৯ কোটি টাকা। আবার ডাক্তার, নার্স, স্বাস্থ্যকর্মীদের স্বাস্থ্যবীমা ও জীবনবীমাসহ অন্যান্য কাজের জন্য প্রণোদনা বাবদ ৮৫ কোটি দেয়া হয়েছে। এটার ধারাবাহিকতায় আরও ১০ হাজার কোটি দেয়া হয়েছে। এটা দ্রুত ব্যবহার করতে হবে, যাতে আমাদের সক্ষমতা বাড়ে। করোনা ভাইরাস এটা কতদিন চলবে আমরা জানি না। কাজেই দ্রুত সক্ষমতা বাড়ানোর জন্য বরাদ্দটা ঠিক আছে।’
বাজেটে আবেগ আছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘বাজেটের বইয়ের নাম দেয়া হয়েছে ‘অর্থনৈতিক উত্তরণ ও ভবিষ্যত পথপরিক্রমা’। অর্থনৈতিক উত্তরণের বাজেট বলে এখানে প্রচুর আবেগ আছে। মানে অবস্থা আমাদের খুব খারাপ হয়ে গেছে। আমরা অনেক উন্নতি করছিলাম, হঠাৎ করে এই আপদ-বিপদ এসে আমাদের পিছে ঠেলে দিয়েছে।
সুতরাং এখানে মানুষকে দুভাবে বাঁচাতে হবে। একটা হলো কোভিড–১৯ থেকে বাঁচাতে হবে, আর একটা হলো না খেয়ে মরা থেকে বাঁচাতে হবে। এ রকম একটা বাস্তবতায় আবেগ থাকাটাই স্বাভাবিক। আবেগ থাকলেই সেটাকে বাস্তবতায় হয়তো নেওয়া যায়।’
-
১৬ জুন, ২০২৬
-
১১ জুন, ২০২৬
-
১১ জুন, ২০২৬
-
০৪ জুন, ২০২৬