‘করোনায় সাপোর্টিভ চিকিৎসা ও অক্সিজেন সাপোর্টই মুখ্য’
মেডিভয়েস ডেস্ক: প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসে সারাবিশ্বের অবস্থা ভয়াবহ হলেও অনেকটাই ভিন্ন চিত্র এর উৎপত্তিস্থল চীনে। করোনা পরিস্থিতি অনেকটাই সফলতার সাথে মোকাবেলা করেছে দেশটি। সম্প্রতি দেশটির দশজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক প্রতিনিধি দল বাংলাদেশে এসেছেন। করোনার চিকিৎসায় তারা অক্সিজেন সাপোর্ট ও সাপোর্টিভ চিকিৎসার উপর গুরুত্বারোপ করেছেন।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) সকাল ১০টায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের প্রশাসনিক ব্লকের সভাকক্ষে চিকিৎসকদের সঙ্গে আলোচনা ও পরামর্শ সভায় তারা এ মত জানান।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের রেজিস্ট্রার (মেডিসিন) ডা. ফরহাদ উদ্দিন চৌধুরী মারুফ এক ফেসবুক বার্তায় সভার আলোচ্য বিষয় তুলে ধরেন। তিনি বলেন, চীনের চিকিৎসকরা জানিয়েছেন করোনার কোন ওষুধ নেই। সাপোর্টিভ চিকিৎসাকে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে। এছাড়া তারা হাসপাতালে সংক্রমণ প্রতিরোধের দিকেই গুরুত্ব দিয়েছেন।
সভা সূত্রে জানা যায়, স্বাস্থ্যকর্মীদেরকে সঠিক নিয়মে পারসোনাল প্রটেকটিভ ইকুইপমেন্ট (পিপিই) পরা এবং খোলার দিকে গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন চীনের চিকিৎসকরা। দ্রুত টেস্ট, আইসোলেশন, চিকিৎসা, এবং কন্টাক্ট ট্রেসিং খুবই গুরুত্বপূর্ণ বলে জানিয়েছেন তারা। এছাড়া গণহারে প্লাজমা ব্যবহার না করে শুধুমাত্র সিভিয়ার ক্ষেত্রে প্লাজমা ব্যবহার করে সফলতা পাওয়ার কথা উল্লেখ করেছেন তারা।
সভায় উপস্থিত ঢাকা মেডিকেলের অধ্যক্ষ ডা. খান মো. আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘আমাদের এখানকার করোনা রোগীদের বিষয় নিয়েই তাদের সাথে কথা হয়েছে। এখন পর্যন্ত অক্সিজেন সাপোর্টই এর মুখ্য চিকিৎসা বলে তারা জানিয়েছে। এজন্য আমরা চীন থেকে কিছু অক্সিজেন সাপোর্ট ডিভাইস এর প্রস্তাব দিয়েছি। তারাও এটি আমাদের দিতে রাজি হয়েছেন।’
এছাড়াও করোনাভাইরাসের মহামারি ঠেকাতে লকডাউন সবচেয়ে বেশি কার্যকর বলে মত দিয়েছেন ঢাকায় সফররত চীনের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা। নিজেদের দেশের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তারা বলেন, করোনাভাইরাস থেকে বাঁচার এখন পর্যন্ত বড় উপায় হচ্ছে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা। এজন্য জনসাধারণের চলাচল কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা জরুরি। চীন কঠোরভাবে লকডাউন মেনে চলায় অল্প সময়ে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়েছে বলেও জানিয়েছেন তারা।
ডা. লি ওয়েনশিউর নেতৃত্বে চীনের ১০ সদস্যের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দলের সাথে ওই সভায় উপস্থিত ছিলেন ঢামেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল একেএম নাসির উদ্দিন, ঢাকা মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. খান মো. আবুল কালাম আজাদ, করোনা ইউনিটের চিকিৎসকসহ হাসপাতাল প্রশাসনের কর্মকর্তারা।
এর আগে চীনের চিকিৎসকরা ঢামেক হাসপাতালের করোনা ইউনিট পরিদর্শন করে রোগীদের খোঁজখবর নেন।
এরও আগে গত ৮ জুন ঢাকায় আসে চীনের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের দলটি। তারা করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকানো এবং চিকিৎসার বিষয়ে ধারণা দিতে কাজ করবেন বলে জানা গেছে। ১০ সদস্যের বিশেষজ্ঞ দলের অধিকাংশই চীনের হাইনান প্রদেশের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক।
প্রসঙ্গত, গত ডিসেম্বরের শেষ দিকে চীনের উহান থেকে ছড়িয়ে পড়ে করোনাভাইরাস। এরপর তা পৃথিবীজুড়ে মহামারীতে রূপ নেয়। এ ভাইরাসে বিশ্বজুড়ে আক্রান্ত হয়েছেন ৭৫ লাখ ১৭ হাজার ৪২৭ জন। মৃতের সংখ্যা চার লাখ ২১ হাজার ৫১৬ জন। সুস্থ হয়েছেন ৩৫ লাখ ৪২ হাজার ৯৮৪ জন।
-
০৮ জুলাই, ২০২৫
-
২৪ জুন, ২০২৫
-
২৩ জুন, ২০২৫
-
১৯ জুন, ২০২৫
-
১৮ জুন, ২০২৫
-
১৪ জুন, ২০২৪
-
০৭ জুন, ২০২৪
-
০৩ জুন, ২০২৪