ডা. আব্দুন নূর তূষার

ডা. আব্দুন নূর তূষার

সিইও, নাগরিক টিভি

সাবেক শিক্ষার্থী, ঢাকা মেডিকেল কলেজ

 


১১ জুন, ২০২০ ০৯:০৫ পিএম

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কোভিড-১৯ ইমার্জেন্সি প্রকল্প ও আমার কিছু কথা

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কোভিড-১৯ ইমার্জেন্সি প্রকল্প ও আমার কিছু কথা

করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) ইমারজেন্সী রেসপন্স অ্যান্ড প্যান্ডেমিক প্রিপেয়ার্ডনেস নাম দিয়ে যে প্রকল্পটি তৈরী করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সেটির কিছু বিশেষত্ব তুলে ধরা যাক।

১. প্রকল্পের মেয়াদ ২০২০ এপ্রিল থেকে - ২০২৩ জুন। প্রকল্পটির প্রাথমিক অনুমোদন নেয়া হয় ১৯ এপ্রিল।

২. ১৯ এপ্রিল থেকে ২ জুন একনেকে অনুমোদিত হওয়ার মধ্যকালীণ সময়ে তারা ৪ কোটি ৭৫ লাখ ২০ হাজার টাকার করোনাকেয়ার মোবাইল অ্যাপ ও ন্যাশনাল করোনাকেয়ার সিস্টেম অন সেন্ট্রাল ওয়েব অ্যাপ্লিকেশন বানিয়ে ফেলেছেন। এই অ্যাপটির অসাধারন সাফল্যের ফলে এপ্রিলের কয়েকশত রোগী থেকে বেড়ে জুন আসতেই আমরা রোজ ৩০০০ এর বেশী রোগী দেখতে পাচ্ছি।

৩.শুধু তাই নয় জুনের মধ্যে ৬০০ পাওয়ার অ্যাসিস্টেড পিউরিফাইং রেসপিরেটর কিনে ফেলবেন বলে ৬ কোটি সাতাশী লক্ষ টাকা বরাদ্দ রেখেছেন। এটা মূলত দাড়িওয়ালা ডাক্তারদের জন্য দরকার হয়। মানে এই ব্যয়টি দাড়ির পেছনে। কোভিডের পেছনে না।

৪. জুনের মধ্যে তারা ৮০ টি আইসিইউ বেড ও ২২০ টি ৩ ফাংশন/৫ ফাংশন বেড কিনবেন বলে বলেছেন। কিন্তু এই ৩০০ বেড জুনের মধ্যে কিনে তারা কোথায় বসাবেন?

৫. ১১২৭ কোটি টাকার এই প্রকল্পে তারা বলেছেন তারা জরুরী প্রস্তুতির জন্য আইসিটিতে ইনোভেশন যেমন আইসিটি ভিত্তিক রোগ নজরদারী, ডেটা ম্যানেজমেন্ট, রিয়াল টাইম কম্যুনিটিভিত্তিক রোগ সার্ভেলেন্স, মেশিন লার্ণিং, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিকাশ ঘটাবেন।

এজন্য এসব সহ গবেষণা ও উন্নয়ন খাতে ২০২৩ এর মধ্যে খরচ করবেন প্রায় ৯০ কোটি টাকা। মেশিন লার্নিং ও আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স বিষয়ে উদ্ভাবনী। বাহ বাহ।

দেশ শুধু কোভিড দূর করবে না, মেশিন লার্ণিং নিয়ে গবেষণা করবে। তবে একটা বিষয় বোঝা দরকার। ২০২৩ সালে যে প্রকল্প পুরোপুরি বাস্তবায়িত হবে তার নাম এর আগে কোভিড ১৯ জুড়ে দেয়ার যুক্তি কি?

জরুরী সাড়া বা ইমারজেন্সি রেসপন্স প্রকল্পের মেয়াদ মাত্র ৩ বছর। ভালোই লাগলো। জরুরী হলে ৩ বছর, কম জরুরী হলে কত বছর হয়? এই প্রকল্প জানিয়ে দিলো। ২০২৩ সালেও কোভিড এভাবেই আমাদের আক্রান্ত করতে থাকবে?

অভিনন্দন যারা এরকম অসাধারন চিন্তা করেছেন তাদের। আপনাদের তুলনা হয় না। আপনারা আমাদের সকলকে কোভিড এর বিরুদ্ধে জরুরী রেসপন্সের জন্য ৩ বছরের মধ্যে সক্ষম করে তুলবেন এই আশায় বুক বাঁধলাম। শুধু তাই নয় আইসিটি খাতে গবেষণা করে স্বাস্থ্যব্যবস্থায় এক নয়াদিগন্তের সূচনার প্রাক্কালে আপনাদের জানাই অশেষ শুভকামনা।

৩ বছর পরে কে বাঁচে কে মরে কে জানে!

করোনা ভাইরাস থেকে সুরক্ষিত থাকতে গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম গুলো মেনে চলুন। সর্দি কাশি জ্বর হলে হাসপাতালে না গিয়ে স্বাস্থ্য সেবা দানকারী হটলাইন গুলোতে ফোন করুন। আইইডিসিআর হটলাইন- 10655, email: [email protected]
  ঘটনা প্রবাহ : করোনাভাইরাস
  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত