১৭ মে, ২০২০ ০১:৩৯ পিএম
মেডিভয়েসকে বিশেষ সাক্ষাৎকার

চিকিৎসক-নার্সদের সম্মান ও মর্যাদা আরও বেড়ে গেছে: আতহার আলী খান

চিকিৎসক-নার্সদের সম্মান ও মর্যাদা আরও বেড়ে গেছে: আতহার আলী খান
আতহার আলী খান। ফাইল ছবি

করোনাভাইরাসের কারণে পুরো বিশ্ব স্থবির। গৃহবন্দি হয়ে পড়েছেন সব পেশার মানুষ। করোনায় আক্রান্ত রোগীর সেবায় রীতিমতো লড়াই করছেন চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা। এই সংকট মুহূর্তে মেডিভয়েসকে দেয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে কথা বলেছেন জাতীয় দলের সাবেক তারকা ক্রিকেটার ও আন্তর্জাতিক ধারাভাষ্যকার আতহার আলী খান। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন আব্দুল্লাহ আল-মামুন

মেডিভয়েস: করোনার এই সংকটে কেমন আছেন?

আতহার আলী খান: আলহামদুলিল্লাহ আল্লাহ ভালো রেখেছেন, আমার পরিবারের সবাই ভালো আছে। তবে পারিপার্শ্বিক যা অবস্থা, দেশে ও বিদেশে মানুষ যেভাবে আক্রান্ত হচ্ছে তাতে মনের মধ্যে ভয় কাজ করছে। আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি যেন দ্রুত এই সংকট থেকে আমাদের পরিত্রাণ দেন।

মেডিভয়েস: করোনায় সংক্রমণ এড়াতে কী করছেন?

আতহার আলী খান: গত মার্চ মাস থেকেই বাসায় আছি। দুই মাস হলো বাসায়, শুধু আমিই না, আমার তিনটা সন্তান আছে। দুইমাস আমরা গৃহবন্দি অবস্থায় আছি। কোথায়ও বের হচ্ছি না। সারাক্ষণ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকার চেষ্টা করছি। সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখছি। প্রয়োজন ছাড়া বাসা থেকে বের হচ্ছি না। আগের মতো ঘোরাঘুরি করছি না। পুরোনো খেলা দেখে আর নামাজ-রোজার মাধ্যমে সময় কাটছে।

মেডিভয়েস: করোনা সংক্রমণ এড়াতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে ঘরে থাকার পাশাপাশি সামিজক দূরত্ব বজায় রাখতে। এ ব্যাপারে আপনি যদি কিছু বলেন?

আতহার আলী খান: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা যেসব নির্দেশনা দিয়েছে সেগুলো আমাদের ফলো করা উচিত। আমরা জানি এখনও যেহেতু প্রতিষেধক বের হয়নি, তাই সংক্রমণ এড়াতে পরিষ্কার-পরিছন্ন থাকার পাশাপাশি সামাজিক দূরত বজায় রাখাই ভালো তাহলে অন্তত নিজে সেভ থাকার পাশাপাশি পরিবারকেও সেভ রাখা যাবে।

মেডিভয়েস: করোনার এখনও প্রতিষেধক বের হয়নি, জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা প্রতিনিয়ত সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। তাদের মধ্যে অনেকে মারাও গেছেন, অনেকে আক্রান্ত। চিকিৎসকদের এ লড়াই করে যাওয়া প্রসঙ্গে কিছু বলবেন?

আতহার আলী খান: শুধু এখনই না, আমি ডাক্তারদের নিয়ে সব সময়ই বলে থাকি। ডাক্তারের দায়িত্বটা প্রাণ বাঁচানোর মতো, তারা মানুষকে শেফা (আরোগ্য) দেন। তারা একটা মানুষের প্রাণ বাঁচাতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যান। আমরা সবাই জানি জীবন-মৃত্যুর মালিক আল্লাহ, কিন্তু ডাক্তার-নার্সরা একজন মানুষকে বাঁচাতে যে কষ্টটা করেন তা অবিশ্বাস্য। তারা অনেক কষ্ট করে পড়াশোনা করেই এই পর্যায়ে এসেছেন। ডাক্তার-নার্সসহ যারা এই সংকটে দিনরাত পরিশ্রম করছেন, আসলে যখন তাদের কথা কথা বলছি আমার শরীরের লোমগুলো শিহরে উঠছে, তারা কতোটা ঝুঁকি নিয়ে, নিজের এবং পরিবারের মায়া ছেড়ে অক্লান্ত পরিশ্রম করছেন। আমরা মনে হয় আমি যদি ডাক্তার হতাম আজ তাদের সঙ্গে এই যুদ্ধটা করে যেতে পারতাম। তাদের সঙ্গী হয়ে রোগীর সেবা দিতে পারতাম।

চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের জন্য আমার দোয়া ও ভালোবাসা থাকবে, তারা যেন ভালো থাকেন। দেশের এই কঠিন পরিস্থিতিতে তারা যেভাবে সেবা দিয়ে যাচ্ছেন আমাদের কাছে তাদের সম্মান ও মর্যাদা আরও বেড়ে গেল। তাদের আমি স্যালুট দেই।

আপনি জেনে থাকবেন আমাদের জাতীয় দলের যেসব ক্রিকেটার আছেন, তাদের সঙ্গে যেখানেই আমার দেখা হয়, আগে তাদের স্যালুট দেই, তারপর কথা বলি। স্যালুট দেয়া ছাড়া কথা বলি না। কারণ তারা দেশের যোদ্ধা, দেশের হয়ে হয়ে লড়াই করেন।

চিকিৎসক এবং স্বাস্থ্যকর্মীরাও আমাদের দেশের যোদ্ধা, তারা মানুষকে সুস্থ করে তুলতে দিনরাত পরিশ্রম করে থাকেন। তবে এখন যে যুদ্ধটা তারা করছেন তাদের প্রতি আমার স্যালুট থাকল। তাদের প্রতি আমার দোয়া থাকল এবং আশা করব তারা যেন সুস্থ থাকেন। দেশ এবং দেশের মানুষের জন্য তারা যে কষ্টটা করে আসছেন অবশ্যই আল্লাহতায়ালা তাদের এই কষ্টের প্রতিদান দেবেন, সেটা কোনো সন্দেহ নেই এবং দেশবাসীর কাছেও তারা ওই মর্যাদা পাবেন।

মেডিভয়েস: করোনার এই সংকট মোকাবেলায় আপনার কী পরামর্শ থাকবে?

আতহার আলী খান: র্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে আমরা সবাই কমবেশি অবগত। কাজে আপনারা সবাই বাসায় থাকুন। সরকার থেকে যে নির্দেশনা দেয়া হয়ছে সেগুলো মেনে চলুন। এতে আপনারই উপহার হবে। আপনি অন্তত করোনার সংক্রমণ থেকে রক্ষা পেতে পারেন, আপনার পরিবার বা প্রতিবেশীকেও রক্ষা করতে পারেন। সব সময় পরিষ্কার-পরিছন্ন থাকুন। মুখ, চোখ ও নাকে হাত দেয়া থেতে যথাসম্ভব বিরত থাকুন। প্রয়োজন ছাড়া বাসা থেকে বের হবে না। সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখুন।

মেডিভয়েস: সময় দেয়ার জন্য ধন্যবাদ।

আতহার আলী খান: আপনাকেও ধন্যবাদ।

[আগামীকাল পড়ুন: তারকা ক্রিকেটার আবু হায়দার রনির সাক্ষাৎকার ]

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
আন্তর্জাতিক এওয়ার্ড পেলেন রাজশাহী মেডিকেলের নার্স
জীবাণু সংক্রমণ প্রতিরোধে অসামান্য অর্জন

আন্তর্জাতিক এওয়ার্ড পেলেন রাজশাহী মেডিকেলের নার্স