১১ মে, ২০২০ ০৪:২১ পিএম

সহসায় খুলছে না শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, পেছাবে এইচএসসি পরীক্ষাও

সহসায় খুলছে না শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, পেছাবে এইচএসসি পরীক্ষাও

মেডিভয়েস রিপোর্ট: করোনাভাইরাসের ফলে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে গত ১৭ মার্চ থেকে বন্ধ রয়েছে দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। বেশ কয়েকদিন যাবত ঈদের পর শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়ার কথা শুনা গেলেও তাকে গুজব বলেছেন সংশ্লিষ্টরা। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে ঈদের পরও খুলছে না শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। এছাড়া পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এইচএসসি পরীক্ষাও হচ্ছে না বলে জানা গেছে। 

শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রেও জানা গেছে, দেশের করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলছে না। কারণ কর্তৃপক্ষ শিক্ষার্থীদের স্কুল-কলেজে পাঠিয়ে কোনো ধরনের ঝুঁকি নেবে না। এমনকি বর্তমানে স্থগিত থাকা এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষাও পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার অন্তত ১৫ দিন পর শুরু করার নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

ঈদের পর স্কুল কলেজ খুলে দেওয়ার সংবাদের বিষয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব মো. মাহবুব হোসেন গণমাধ্যমকে বলেন, ৩০ মের পর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়ার যে কথা শুনা যাচ্ছে তা পুরোটাই গুজব। কারণ এ ধরনের কোনো সিদ্ধান্ত শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে হয়নি। আগামী ৩০ মে পর্যন্ত সব ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এর কাছাকাছি সময়ে গিয়ে পরিস্থিতি বিবেচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। 

এ বিষয়ে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. ফসিউল্লাহ বলেন, সাধারণ ছুটির সঙ্গে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে রোজা ও ঈদের ছুটিও চলছে। এরপর গ্রীষ্মকালীন ছুটিসহ আগামী ৬ জুন পর্যন্ত স্কুল বন্ধ থাকবে। এর আগেই পরিস্থিতি বিবেচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেওয়া হবে। তবে বর্তমান পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত  স্কুল খোলার সম্ভাবনা নেই ।  

এর আগে প্রধানমন্ত্রী এক অনুষ্ঠানে বলেছিলেন, করোনা পরিস্থিতির উন্নতি না হলে আগামী সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বন্ধ থাকতে পারে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। তিনি বলেন, ‘যখন করোনার প্রকোপ থাকবে না, তখনই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা হবে। আমরা এখন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলব না। অন্তত সেপ্টেম্বর পর্যন্ত স্কুল-কলেজ সবই বন্ধ থাকবে, যদি করোনাভাইরাস অব্যাহত থাকে। যখন এটা থাকবে না, তখনই খুলব।’

এদিকে করোনায় প্রায় দুই মাস ধরে বন্ধ রয়েছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এতে সরকারি ও এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো তেমন কোনো সমস্যায় না পড়লেও নিজস্ব আয়ে চলা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো চরম অর্থ সংকটে পড়েছে। অনেক প্রতিষ্ঠান তাদের ফান্ড থেকে শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা পরিশোধ করলেও, যাদের ফান্ডে টাকা নেই তারা মহাদুশ্চিন্তায় আছেন। 

জানা যায়, টিউশন ফি আদায় নিয়ে উভয় সংকটে পড়েছে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো। কারণ তারা বেতন চাইলে সেটা অমানবিকতার পর্যায়ে পড়ে। আর বেশির ভাগ অভিভাবকও এই মুহূর্তে বেতন দিতে রাজি নন। তবে প্রতিষ্ঠানগুলো বেতন আদায় না করলে শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতনও দিতে পারছে না। আর এই মুহূর্তে শিক্ষকদের বেতন ও বোনাস বাকি পড়লে সেটাও অমানবিকতার পর্যায়ে পড়ে।

সম্প্রতি ঢাকা শিক্ষা বোর্ড থেকে এক আদেশে টিউশন ফি আদায়ে চাপ প্রয়োগ না করার জন্য প্রতিষ্ঠান প্রধানদের অনুরোধ জানানো হয়েছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো খুলে দিলে বা স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে এলে বকেয়াসহ মাসিক বেতন আদায়ের অনুরোধ জানানো হয় আদেশে।

অপরদিকে এক অনলাইন অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে শিক্ষামন্ত্রী ডা.দীপুমনি বলেন,বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পুরোটাই টিউশন ফি-নির্ভর। অভিবাকদের অনুরোধ করেন তারা যেন টিউশন ফির বিষয়টি বিবেচনা করেন। এসময় তিনি প্রয়োজনে টিউশন ফি কিস্তি করে নেওয়ার পরামর্শ দেন।

উল্লেখ্য, বৈশ্বিক মহামারী করোনাভাইরাসে বাংলাদেশে প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হয় গত ৮ মার্চ। এরপর থেকে দেশে করোনা আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় উদ্ভূত পরিস্থিতিতে  গত ১৭ মার্চ থেকে সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করে সরকার। কয়েক দফায় সময় বাড়িয়ে রোজা ও ঈদের ছুটিসহ তা ৩০ মে পর্যন্ত করা হয়েছে। সম্প্রতি সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মার্কেট, দোকানপাট খুলতে শুরু করেছে। ফলে বিভিন্ন মহলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলার কথা শুনা যায়। যদিও দেশের করোনা পরিস্থিতি এখন সবচেয়ে ভয়াবহ অবস্থায় রয়েছে।

করোনা ভাইরাস থেকে সুরক্ষিত থাকতে গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম গুলো মেনে চলুন। সর্দি কাশি জ্বর হলে হাসপাতালে না গিয়ে স্বাস্থ্য সেবা দানকারী হটলাইন গুলোতে ফোন করুন। আইইডিসিআর হটলাইন- 10655, email: [email protected]
  ঘটনা প্রবাহ : করোনাভাইরাস
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কৈফিয়তনামা

ভুল কাজ করে, ভুল কথা বলে সরকারকে বিব্রত করবেন না

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কৈফিয়তনামা

ভুল কাজ করে, ভুল কথা বলে সরকারকে বিব্রত করবেন না

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
নিবন্ধনহীন ওষুধ লিখলে চিকিৎসকের শাস্তি
জাতীয় ওষুধনীতি-২০১৬’ এর খসড়ার নীতিগত অনুমোদন

নিবন্ধনহীন ওষুধ লিখলে চিকিৎসকের শাস্তি