‘ডেঙ্গু প্রতিরোধে নিজেই রাস্তায় নেমেছেন প্রধানমন্ত্রী’
মেডিভয়েস রিপোর্ট: ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা বাড়াতে প্রধানমন্ত্রী নিজেই সাধারণ নাগরিকের মতো রাস্তায় নেমেছেন বলে মন্তব্য করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. এম এ মুহিত। তিনি বলেছেন, ডেঙ্গু মোকাবিলায় আক্রান্তদের মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করার পাশাপাশি রোগ প্রতিরোধে জনগণকে সচেতন হতে হবে। এ জন্য বাড়িঘর পরিষ্কার রাখা, মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করা এবং সিটি কর্পোরেশনের কার্যক্রম জোরদার করা জরুরি।
আজ শনিবার (১৭ অক্টোবর) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন তিনি।
ডা. এম এ মুহিত বলেন, প্রধানমন্ত্রী শুধু ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনগণকে সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানিয়ে থেমে থাকেননি, নিজেও মাঠে নেমেছেন। বিভিন্ন হাসপাতাল, সরকারি কর্মচারীদের আবাসন ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিদর্শনের মাধ্যমে তিনি সরাসরি সমস্যাগুলো দেখার চেষ্টা করেছেন।
ডেঙ্গু মোকাবিলায় দুটি বিষয়কে গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রথমত, রোগ প্রতিরোধের মাধ্যমে আক্রান্তের সংখ্যা কমানো এবং দ্বিতীয়ত, আক্রান্ত ব্যক্তিদের মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করা। রোগ প্রতিরোধে চিকিৎসক বা হাসপাতালের সরাসরি ভূমিকা সীমিত। এ ক্ষেত্রে জনগণের সচেতনতা, বাড়িঘর পরিচ্ছন্ন রাখা এবং মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সিটি করপোরেশনও এ লক্ষ্যে কাজ করছে।
প্রধানমন্ত্রীর আকস্মিক পরিদর্শন প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী জানান, সকালে প্রধানমন্ত্রী কোথায় যাবেন, তা তাঁর সফরসঙ্গীরাও আগে থেকে জানতেন না। বিভিন্ন হাসপাতাল, সরকারি কর্মচারীদের আবাসন ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ঘুরে দেখার মাধ্যমে তিনি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর বাস্তব পরিস্থিতি বোঝার চেষ্টা করেছেন।
তিনি বলেন, রাজধানীর হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতাল পরিদর্শন করে প্রধানমন্ত্রী চিকিৎসাব্যবস্থা, পরিবেশ ও বিভিন্ন বিশেষায়িত ইউনিটের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেন। সেখানে কিছু সীমাবদ্ধতা চিহ্নিত করে সাত দিনের মধ্যে সেগুলো সমাধানের নির্দেশ দেন। পাশাপাশি যেসব ক্ষেত্রে ভালো ব্যবস্থাপনা দেখেছেন, সেগুলোর প্রশংসাও করেছেন।
হার্ট ফাউন্ডেশনের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে অন্যান্য হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা ও ব্যবস্থাপনার মান উন্নয়নের নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী—এমনটিও জানান স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী।
ডা. এম এ মুহিত বলেন, সরকার এমন একটি রাজনৈতিক ও সামাজিক সংস্কৃতি গড়ে তুলতে চায়, যেখানে মুখোমুখি সংঘাতের পরিবর্তে গঠনমূলক পরিবেশ তৈরি হবে। ব্যবস্থাপনায় ভুলত্রুটি থাকতে পারে। সেগুলো নিয়ে শুধু বিতর্ক না করে সমস্যা চিহ্নিত করা এবং সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।
প্রধানমন্ত্রীর পরিদর্শনের ধরন তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বড় বহর, টেলিভিশন ক্যামেরা, প্রটোকল ও বিপুলসংখ্যক লোকজন নিয়ে পরিদর্শনে গেলে অনেক সময় মুখোমুখি পরিস্থিতি তৈরি হয়। এ কারণে প্রধানমন্ত্রী সীমিতসংখ্যক সঙ্গী নিয়ে বিভিন্ন স্থানে গেছেন। কয়েকটি ইউনিট পরিদর্শনের পর তিনি একাই ঘুরে দেখেছেন।
সরকারি কর্মচারীদের আবাসন পরিদর্শনের সময় পরিচ্ছন্নতা ও সুন্দর পরিবেশ বজায় রাখার গুরুত্ব তুলে ধরেছেন প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গিয়ে শিশুদের জন্মদিনে একটি করে গাছ লাগানোর পরামর্শ দিয়েছেন বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী।
তিনি বলেন, পরিবেশ, স্বাস্থ্য ও মানুষের চিন্তাচেতনার পরিবর্তন পরস্পরের সঙ্গে সম্পর্কিত। এসব উদ্যোগের দীর্ঘমেয়াদি সুফল পাওয়া যাবে। তবে রাতারাতি পরিবর্তন সম্ভব নয়; এ জন্য ধারাবাহিকভাবে কাজ করতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী প্রতি শনিবার এ ধরনের পরিদর্শন করবেন কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে ডা. এম এ মুহিত বলেন, সময় ও সুযোগ পেলেই প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন স্থানে যাবেন। শনিবারের পরিদর্শন নিয়মিত চর্চা হিসেবে বজায় থাকতে পারে, তবে এটি কোনো বাধ্যবাধকতা নয়।
প্রতিমন্ত্রীর মতে, একজন নেতা নিজের কাজের মাধ্যমে কীভাবে অন্যদের জন্য উদাহরণ তৈরি করেন, সেটি গুরুত্বপূর্ণ। প্রধানমন্ত্রী শুধু নির্দেশনা দেওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেন না; নিজেই কাজ শুরু করে অন্যদের উৎসাহিত করেন।
এমআর/