রামেবি ভিসিকে ‘মব’ করে পদত্যাগ করানোর প্রতিবাদে রামেকে মানববন্ধন
মেডিভয়েস রিপোর্ট: রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (রামেবি) ভাইস চ্যান্সেলর (ভিসি) অধ্যাপক ডা. মো. জাওয়াদুল হককে ‘জোরপূর্বক পদত্যাগে বাধ্য করানোর অভিযোগে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভা করেছেন রাজশাহীর সর্বস্তরের চিকিৎসকরা।
আজ বুধবার (৭ অক্টোবর) দুপুর সাড়ে ১২টায় রামেক হাসপাতালের মূল ফটকের সামনে এ কর্মসূচি পালিত হয়। এতে জেলার সর্বস্তরের চিকিৎসকসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যক্তিরা অংশ নেন।
মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, রামেবির ভিসি অধ্যাপক ডা. মো. জাওয়াদুল হকের ওপর একদল ব্যক্তি চাপ সৃষ্টি করে তাঁকে পদত্যাগে বাধ্য করার চেষ্টা করেছেন। এ ধরনের ঘটনা একটি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক কার্যক্রম, প্রশাসনিক স্বাধীনতা ও চিকিৎসা শিক্ষার পরিবেশের জন্য উদ্বেগজনক বলে মন্তব্য করেন।
বক্তারা বলেন, কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি বা দায়িত্বশীল ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে তা প্রচলিত আইন ও যথাযথ প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিষ্পত্তি হওয়া উচিত। ভয়ভীতি, চাপ প্রয়োগ কিংবা ‘মব’ সৃষ্টি করে কাউকে পদত্যাগে বাধ্য করার চেষ্টা অগ্রহণযোগ্য।
এ সময় ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের পাশাপাশি জড়িতদের চিহ্নিত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান চিকিৎসকরা। একই সঙ্গে রামেবির প্রশাসনিক কার্যক্রম ও চিকিৎসা শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তাঁরা।
এর আগে মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) দিবাগত রাতে নগরীর রাজপাড়া থানায় মামলাটি করা হয়। মামলায় বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশ করে জোরপূর্বক পদত্যাগে বাধ্য করা, সরকারি কাজে বাধা প্রদান, ভয়ভীতি প্রদর্শন, শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা, সরকারি মালামাল নিয়ে যাওয়া এবং অবরুদ্ধ করে রাখার অভিযোগ আনা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মামলা দায়েরের পর রাতেই আবদুস সালাম নামে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ‘রাজশাহীর আপামর ছাত্র-জনতা’ ব্যানারে একদল ব্যক্তি রামেবি ভিসির কার্যালয়ে প্রবেশ করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তাদের অভিযোগ, ওই দলে বিএনপি ও যুবদলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ২৫ থেকে ৩০ জন ব্যক্তি ছিলেন। তাঁরা ভিসিকে আগে থেকে প্রস্তুত করা একটি পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর করতে চাপ দেন।
ভিসির ব্যক্তিগত সহকারী (পিএস) নাজমুল হোসাইন অভিযোগ করেন, তাকেও একটি পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর করতে বলা হয়। এতে অস্বীকৃতি জানালে তাঁকে মারধর ও লাঞ্ছিত করা হয়। পরে তিনি বাধ্য হয়ে ওই কাগজে স্বাক্ষর করেন বলে দাবি করেন তিনি।
রামেবি ভিসি অধ্যাপক ডা. মো. জাওয়াদুল হকের ভাষ্য, তাঁকে কাগজটি ভালোভাবে পড়ার সুযোগ দেওয়া হয়নি। তিনি কেবল প্রথম বাক্যে ‘পদত্যাগপত্র’ শব্দটি দেখতে পেয়েছিলেন। পরে তাঁকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যালয় থেকে বের করে দেওয়া হয়।
ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকটি কক্ষে তালা দেওয়া, সিসিটিভি ব্যবস্থার সিপিইউ ও হার্ডডিস্ক খুলে নেওয়া এবং বিদ্যুৎ, ইন্টারনেট ও টেলিফোন সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার অভিযোগ ওঠে। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক প্রশাসনিক কার্যক্রম ব্যাহত হয় বলে দাবি করেছেন কর্মকর্তারা।
পরে রাজপাড়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। একই দিন বিকেলে সংবাদ সম্মেলন করে নিজের সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরেন রামেবি ভিসি। বিষয়টি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে জানানো হয়েছে বলেও জানান তিনি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তাদের মতে, উপাচার্যের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ থাকলে তা যথাযথ প্রক্রিয়ায় তদন্ত ও নিষ্পত্তি হওয়া উচিত। তবে প্রশাসনিক কার্যালয়ে প্রবেশ করে কাউকে জোরপূর্বক পদত্যাগে বাধ্য করা, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের লাঞ্ছিত করা কিংবা দাপ্তরিক সরঞ্জাম সরিয়ে নেওয়ার অভিযোগ গুরুতর।
ঘটনার প্রকৃত কারণ, কারা এতে জড়িত এবং কীভাবে আগে থেকে প্রস্তুত করা পদত্যাগপত্র নিয়ে একটি দল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যালয়ে প্রবেশ করল—এসব বিষয় তদন্তের মাধ্যমে স্পষ্ট হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
এমআই/