০১ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০৮ পিএম

৪৯তম বিসিএস: সমাজকল্যাণে প্রথম হয়েও গেজেট থেকে বাদ ঢাবির আব্দুল্লাহ আল মামুন

৪৯তম বিসিএস: সমাজকল্যাণে প্রথম হয়েও গেজেট থেকে বাদ ঢাবির আব্দুল্লাহ আল মামুন
আব্দুল্লাহ আল মামুন বেলাল। ছবি: সংগৃহীত

মেডিভয়েস রিপোর্ট: ৪৯তম বিসিএসে (বিশেষ) ৬১১ জনকে শিক্ষা ক্যাডারে নিয়োগ দিয়ে বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। পরীক্ষার চূড়ান্ত ফলে সমাজকল্যাণ বিষয়ে প্রথম হয়েও গেজেটে নাম আসেনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ আল মামুন বেলালের। ফলাফলে ৬৬৮ জনকে সাময়িকভাবে নিয়োগের জন্য সুপারিশ করা হলেও প্রকাশিত গেজেটে বাদ পড়েছেন ৫৭ জন। এ তালিকায় রয়েছেন ইতিহাস বিভাগে প্রথম হওয়া ঢাবির আরেক শিক্ষার্থী সোহেল রানা।

আব্দুল্লাহ আল মামুন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থী। ৪৯তম বিসিএসের চূড়ান্ত ফলে সমাজকল্যাণ বিষয়ে তিনি প্রথম স্থান অর্জন করেন বলে জানা গেছে। তবে চূড়ান্ত গেজেটে তাঁর নাম পাওয়া যায়নি।

গেজেটে নাম না আসার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মামুন। সেখানে তিনি লিখেছেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, গেজেট থেকে বঞ্চিত করার জন্য ধন্যবাদ। ৪৯তম বিসিএসে সমাজকল্যাণে ১ম হয়েও আমার গেজেটে নাম এলো না। জুলাইয়ে সক্রিয় ছিলাম। আমার অপরাধ কী বুঝতে পারলাম না। এটাই কী আমার অপরাধ? নিশ্চয়ই, আল্লাহ উত্তম ফয়সালাকারী।’

তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, ‘আমি এই বিসিএসে প্রথমবারের মতো সুপারিশপ্রাপ্ত হই এবং মেধাক্রমেও প্রথম স্থান অর্জন করি। আমি খুবই আশাবাদী ছিলাম যে গেজেটেও আমার নাম আসবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘জুলাইয়ের আন্দোলনে আমি শুরু থেকেই সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেছি। কিন্তু গেজেট থেকে বঞ্চিত হওয়ার মতো কোনো কারণ আমার ক্ষেত্রে ছিল না। আমার বিরুদ্ধে কোনো ফৌজদারি মামলা, রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগ বা এ ধরনের কোনো বিষয় নেই, যার কারণে আমাকে গেজেট থেকে বাদ দেওয়া হতে পারে। সে কারণে আমি কখনোই আশঙ্কা করিনি যে গেজেটে আমার নাম থাকবে না। বরং আমি দৃঢ়ভাবে আশাবাদী ছিলাম যে আমার নাম অবশ্যই প্রকাশিত হবে।’

‘কিন্তু গতকাল গেজেট প্রকাশের পর আমি খুঁজে দেখি, আমার নাম নেই। এর মাত্র ৩০ মিনিট আগে আমি বাবা-মায়ের সঙ্গে কথা বলেছিলাম। তাঁদের বলেছিলাম, ‘আব্বু-আম্মু, আমার গেজেট হবে। আমার জন্য দোয়া করো।’ তাঁরা বলেছিলেন, ‘হ্যাঁ বাবা, নামাজ পড়ে একটু আগেই তোমার জন্য দোয়া করেছি। গেজেটে নাম পেয়ে আমি বাবা-মায়ের ফোনও ঠিকভাবে রিসিভ করতে পারছি না। তাঁদের কী জবাব দেব? এই বিষয়ে কথা বলার মতো কোনো ভাষা আমার নেই।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমি বিবাহিত। তাই শ্বশুরবাড়িতে কীভাবে বিষয়টি জানাব, আমার স্ত্রীকে কী বলব—কাউকেই কিছু বলতে পারছি না। সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো, আমাকে কেন বঞ্চিত করা হলো?’

‘জুলাইয়ের আন্দোলনের অন্যতম উদ্দেশ্য ছিল বৈষম্যহীন ও নতুন বাংলাদেশ গঠন, যেখানে সবাই সমান অধিকার ভোগ করবে। অথচ আজ আমি নিজেই সেই বৈষম্যের শিকার হয়েছি। আমি কখনো কল্পনাও করিনি যে এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে। তাই আমার দাবি, ১২ তারিখে যোগদানের যে সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে, তার মধ্যেই আমার বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করে একটি সুষ্ঠু সমাধান করা হোক। ১২ তারিখের মধ্যেই যেন সংশোধিত গেজেটে আমার নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয় এবং আমি যথাসময়ে চাকরিতে যোগ দিতে পারি’—বলেন আব্দুল্লাহ আল মামুন বেলাল।

তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে এই বিষয়ে দ্রুত পুনর্বিবেচনা ও ন্যায়সংগত সমাধানের জোর দাবি জানিয়েছেন।

এর আগে ৪৯তম বিসিএসের চূড়ান্ত ফলে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি) ৬৬৮ জনকে নিয়োগের জন্য সাময়িকভাবে সুপারিশ করেছিল। পরে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত প্রজ্ঞাপনে বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসের (সাধারণ শিক্ষা) ক্যাডারের প্রবেশ পদে ৬১১ জনকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। ফলে চূড়ান্ত ফলে সাময়িকভাবে সুপারিশ পাওয়া ৬৬৮ জনের মধ্যে ৫৭ জন চূড়ান্ত গেজেটে স্থান পাননি।

৪৯তম বিসিএস (বিশেষ) পরীক্ষা ২০২৫-এ মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীদের মধ্যে বিসিএস (সাধারণ শিক্ষা) ক্যাডারের বিভিন্ন পদে ৬৮৩টি শূন্য পদের মধ্যে ৬৬৮ জনকে নিয়োগের জন্য বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের পক্ষ থেকে মেধাক্রম অনুযায়ী সাময়িকভাবে মনোনয়ন করা হয়েছিল। সে সময় পিএসসি জানায়, কয়েকটি ক্যাডার পদে যোগ্য প্রার্থী না পাওয়ায় ১৫টি পদে প্রার্থী মনোনয়ন করা হয়নি।

গেজেটে প্রভাষক পদে বাংলা বিভাগে ৬১ জন, ইংরেজিতে ৪৪, রাষ্ট্রবিজ্ঞানে ৪৯, দর্শনে ২৭, অর্থনীতিতে ৩৬, প্রাণিবিদ্যায় ১২, ইতিহাসে ২৭, সমাজকল্যাণে ২২, রসায়নে ২৯, ইসলাম শিক্ষায় ১১, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতিতে ৩০, পদার্থবিদ্যায় ২২, উদ্ভিদবিদ্যায় ২২ জনকে মনোনীত করা হয়েছে।

এছাড়া সমাজবিজ্ঞানে ১৫ জন, গণিতে ৩০, ভূগোলে ১৫, হিসাববিজ্ঞানে ২৬, মার্কেটিংয়ে ১০, ব্যবস্থাপনায় ৩১, ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিংয়ে ১৭, মনোবিজ্ঞানে ৯, কৃষিবিজ্ঞানে ৪, পরিসংখ্যানে ১২, সংস্কৃতে ৩, গার্হস্থ্য অর্থনীতিতে ৬, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিতে ২৪ এবং খাদ্য ও পুষ্টি বিভাগের জন্য দুজনকে ক্যাডার পদে নিয়োগে মনোনীত করা হয়েছে।

এই বিসিএসে মোট ৩ লাখ ১২ হাজারের বেশি প্রার্থী আবেদন করেছিলেন।

এমইউ/

মেডিভয়েসের জনপ্রিয় ভিডিও কন্টেন্টগুলো দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন MedivoiceBD ইউটিউব চ্যানেল। আপনার মতামত/লেখা পাঠান [email protected] এ।
  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত