নিনমাসের প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে বিশেষজ্ঞরা
শিশুর জটিল রোগ নির্ণয়ে নিউক্লিয়ার মেডিসিন অত্যন্ত কার্যকর
মেডিভয়েস রিপোর্ট: বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউক্লিয়ার মেডিসিন অ্যান্ড অ্যালায়েড সায়েন্সেসে (নিনমাস) প্রথমবারের মতো পেডিয়াট্রিক নিউক্লিয়ার মেডিসিন বিষয়ক প্রশিক্ষণ কর্মসূচি ও বৈজ্ঞানিক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) নিনমাসের কামাল উদ্দিন আহমেদ অডিটোরিয়ামে 'ইনঅগুরেশন অব ট্রেনিং প্রোগ্রাম অন পেডিয়াট্রিক নিউক্লিয়ার মেডিসিন: সিনটিগ্রাফি, স্পেক্ট-সিটি অ্যান্ড ক্লিনিক্যাল প্র্যাকটিস' শীর্ষক এই আয়োজনের উদ্বোধন করা হয়। নিনমাসের নিয়মিত একাডেমিক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে নিউক্লিয়ার মেডিসিন ও পেডিয়াট্রিকসহ বিভিন্ন বিভাগের ১৮ জন প্রশিক্ষণার্থী অংশ নেন।
নিনমাসের পরিচালক এবং বাংলাদেশ থাইরয়েড সোসাইটির সভাপতি অধ্যাপক ডা. এ কে এম ফজলুল বারী সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন অধ্যাপক ডা. নাসরিন সুলতানা।
তিনি শিশুদের জটিল রোগ নির্ণয়ে নিউক্লিয়ার মেডিসিনের ভূমিকা ও তাৎপর্য বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন। বিশেষ করে শিশুদের পিত্তনালীর জটিলতায় বিলিয়ারি এট্রেসিয়া শনাক্তে এইচআইডিএ স্ক্যান, কিডনির কার্যকারিতা পর্যালোচনায় ডিটিপিএ ও ডিএমএসএ রেনাল স্ক্যান এবং শিশুদের অন্ত্রের রক্তক্ষরণ শনাক্তে মেকেলস স্ক্যানের গুরুত্বের কথা উল্লেখ করেন তিনি।
পাশাপাশি মস্তিষ্কের রক্ত সঞ্চালন ও সামগ্রিক কার্যক্ষমতা মূল্যায়নে ব্রেইন পারফিউশন টেস্টের প্রয়োজনীয়তার ওপর বিশেষ জোর দেন ডা. নাসরিন সুলতানা।
সভাপতির বক্তব্যে অধ্যাপক ডা. এ কে এম ফজলুল বারী জানান, নিনমাসের নিয়মিত প্রশিক্ষণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে শিশুদের নিউক্লিয়ার মেডিসিন সেবার ওপর এবারই প্রথম এ ধরনের বিশেষ প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়েছে।
নিউক্লিয়ার মেডিসিনকে একটি মাল্টিডিসিপ্লিনারি বিষয় হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এটি চিকিৎসাবিজ্ঞানের প্রতিটি শাখার রোগী ও চিকিৎসকদের জন্যই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দেশের নিম্ন আয়ের মানুষের চিকিৎসাসেবা সহজ ও কার্যকর করতে বিভিন্ন বিভাগের চিকিৎসকদের মধ্যে পারস্পরিক সমন্বয় বাড়ানো প্রয়োজন।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, নিনমাসে অত্যাধুনিক নিউক্লিয়ার মেডিসিন টেকনিকের পাশাপাশি আল্ট্রাসনোগ্রাম, ডপলার, ইলাস্টোস্ক্যান এবং পিইটি-সিটি প্রযুক্তির মাধ্যমে নিয়মিত নির্ভুল রোগ নির্ণয় করা হচ্ছে। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটির থাইরয়েড বিভাগে প্রায় ১১ হাজার থাইরয়েড ক্যান্সার রোগী নিয়মিত সেবা নিচ্ছেন।
সেমিনারে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএমইউর পেডিয়াট্রিক গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি অ্যান্ড নিউট্রিশন বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. মো. রোকুনুজ্জামান, পেডিয়াট্রিক হেমাটোলজি অ্যান্ড অনকোলজি বিভাগের অধ্যাপক ডা. হেলেনা বেগম, পেডিয়াট্রিক নেফ্রোলজি বিভাগের অধ্যাপক ডা. সালমা জাহান এবং সহকারী অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ বদরুল আলমসহ বিভিন্ন বিভাগের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও বিজ্ঞানীগণ।
জেএইচ/