১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:৫৫ পিএম
আইইডিসিআর’র সতর্কবার্তা

আগামী সপ্তাহে ১৫ জেলায় ডেঙ্গু পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে

আগামী সপ্তাহে ১৫ জেলায় ডেঙ্গু পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে
ফাইল ছবি

মেডিভয়েস রিপোর্ট: চলতি মাসে দেশের ডেঙ্গু পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে বলে সতর্ক করেছে রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর)। প্রতিষ্ঠানটি বলছে, ইতোমধ্যে দেশের ৬৪ জেলাতেই ডেঙ্গু ছড়িয়ে পড়েছে। আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে।

আইইডিসিআরের সর্বশেষ বিশ্লেষণ অনুযায়ী, আগামী সপ্তাহে ১৫ জেলায় ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বাড়তে পারে। এসব জেলার মধ্যে রয়েছে—ঢাকা, খুলনা, চট্টগ্রাম, গাজীপুর, ময়মনসিংহ, পিরোজপুর, নারায়ণগঞ্জ, ঝালকাঠি, কক্সবাজার, সিরাজগঞ্জ, কুমিল্লা, বরিশাল, বরগুনা, বান্দরবান ও পটুয়াখালী।

আইইডিসিআরের ক্লাইমেট-ইনফর্মড আর্লি ওয়ার্নিং অ্যান্ড রেসপন্স সিস্টেম বাগেরহাট, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নরসিংদী, যশোর, চাঁদপুর, মানিকগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ ও রাজশাহী জেলাকেও ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণের সুপারিশ করেছে।

ঢাকায় সবচেয়ে বেশি ডেঙ্গু

আইইডিসিআর বলেছে, ডেঙ্গুর সবচেয়ে বেশি চাপ এখনও ঢাকায়। তবে খুলনা, গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জে দ্রুত রোগী বাড়ার বিষয়টি বিশেষভাবে উদ্বেগজনক। আগামী দুই থেকে তিন সপ্তাহ ডেঙ্গুর সংক্রমণ বেশি থাকতে পারে।

আইইডিসিআরের পরিচালক ডা. কাজী আহমেদ জাকি বলেছেন, তাদের মডেল ৩৬ থেকে ৩৯তম মহামারি-সংক্রান্ত সপ্তাহের ডেঙ্গু পরিস্থিতি প্রায় ৮০ শতাংশ নির্ভুলতার সঙ্গে পূর্বাভাস দিতে পারে। তিনি বলেন, এটি কোনো চূড়ান্ত ভবিষ্যদ্বাণী নয়। বরং সম্ভাব্য পরিস্থিতির একটি বৈজ্ঞানিক পূর্বাভাস। এর মাধ্যমে স্থানীয় প্রশাসন ও স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ আগেভাগে প্রস্তুতি নিতে পারবে।

আইইডিসিআর ঢাকা, খুলনা, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, চট্টগ্রাম ও ময়মনসিংহে মশা নিয়ন্ত্রণ এবং এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংসে অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। উচ্চঝুঁকির এলাকার হাসপাতালগুলোকে দীর্ঘ সময় ধরে রোগীর সংখ্যা বাড়তে পারে—এমন পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে।

ডেঙ্গুতে বাড়ছে মৃত্যুর সংখ্যা

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডিজিএইচএসের তথ্য অনুযায়ী, ১৩ সেপ্টেম্বর সকাল ৮টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আরও ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং ১ হাজার ৫৬১ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এর ফলে চলতি বছরে ডেঙ্গুতে মোট মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ১৪৯ জন। মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫১ হাজার ৮৩৭ জনে। জানুয়ারি থেকে মে পর্যন্ত মাত্র ৫ জন ডেঙ্গুতে মারা গিয়েছিলেন। এরপর জুনে ১৩ জন, জুলাইয়ে ৩৬ জন এবং আগস্টে ৪৩ জন মারা যান। আর সেপ্টেম্বরের প্রথম ১৩ দিনেই ৫২ জনের মৃত্যু হয়েছে।

এবার ডিইএনভি-থ্রি বেশি সক্রিয়

চলতি বছর ডেঙ্গুর ডিইএনভি-থ্রি ধরনটি সবচেয়ে বেশি পাওয়া যাচ্ছে। ২০২৩ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত যে ডিইএনভি-টু ধরনটি বেশি সক্রিয় ছিল, এবার সেটি পিছিয়ে পড়েছে। আইইডিসিআরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নয়টি হাসপাতালে সংগৃহীত ১ হাজার ৯৭টি এনএস-ওয়ান পজিটিভ নমুনার মধ্যে ৭১টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। এসব নমুনার ৯১ দশমিক ৫ শতাংশে ডিইএনভি-থ্রি এবং বাকি ৮ দশমিক ৫ শতাংশে ডিইএনভি-টু পাওয়া গেছে।

ঢাকায় ডিইএনভি-থ্রি বেশি দেখা যাচ্ছে। অন্যদিকে রাজধানীর বাইরে ডিইএনভি-টু শনাক্ত হয়েছে। এছাড়া বান্দরবান ও বরগুনায় পরীক্ষা করা সব নমুনাতেই ডিইএনভি-টু পাওয়া গেছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, একজন ব্যক্তি ডেঙ্গুর একটি ধরনে আক্রান্ত হলে ওই ধরনের বিরুদ্ধে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি হয়। কিন্তু বাকি তিন ধরনের বিরুদ্ধে তিনি সুরক্ষিত থাকেন না। ফলে পরবর্তীতে ভিন্ন ধরনের ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হলে গুরুতর জটিলতা ও মৃত্যুর ঝুঁকি বেড়ে যেতে পারে।

ডা. জাকি আরও বলেন, ভিন্ন ধরনের ডেঙ্গুতে আবার আক্রান্ত হলে প্লাজমা লিকেজের মতো গুরুতর জটিলতা দেখা দিতে পারে। জ্বর হলে ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার এবং প্রয়োজন হলে এনএস-ওয়ান পরীক্ষা করাতে হবে। তিনি বলেন, অনেক রোগী হাসপাতালে আসতে দেরি করেন। তখন তাদের অবস্থা ইতোমধ্যে শক পর্যায়ে চলে যায়।

এমআর/

মেডিভয়েসের জনপ্রিয় ভিডিও কন্টেন্টগুলো দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন MedivoiceBD ইউটিউব চ্যানেল। আপনার মতামত/লেখা পাঠান [email protected] এ।
বিএমইউতে এনডিএফের ‘সীরাহ কনফারেন্স’

চিকিৎসকদের পেশাগত জীবনে রাসূলের জীবনাদর্শ ধারণের আহ্বান

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
এক দিনে চিরবিদায় পাঁচ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক
করোনা ও বার্ধক্যজনিত অসুস্থতা

এক দিনে চিরবিদায় পাঁচ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক