০৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৪:২৮ পিএম

সিলেট ওসমানী মেডিকেলের বিদ্যমান সংকট নিরসনে মন্ত্রণালয়ে চিঠি

সিলেট ওসমানী মেডিকেলের বিদ্যমান সংকট নিরসনে মন্ত্রণালয়ে চিঠি
ফাইল ছবি

মেডিভয়েস রিপোর্ট:  ৫০০ শয্যাভিত্তিক জনবল কাঠামোর (অনুমোদিত ৯০০ শয্যা) সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে  প্রতিদিন ভর্তি হয় তিন হাজারেরও বেশি রোগী। ধারণক্ষমতার চেয়ে কয়েক গুণ বেশি রোগীর তীব্র চাপ ও বহির্বিভাগে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষের চিকিৎসা দিতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

আজ শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) বিদ্যমান সংকট নিরসন, চিকিৎসাসেবার গুণগত মানোন্নয়ন এবং শয্যা সংখ্যা তিন হাজারে উন্নীতকরণসহ বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট প্রস্তাবনা ও চাহিদাপত্র স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে হাসপাতাল কতৃপক্ষ।

গতকাল শুক্রবার হাসপাতালটি পরিদর্শনে আসেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। এ সময় তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন সিলেট-১ আসনের সংসদ সদস্য এবং বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। পরিদর্শনকালে হাসপাতালের সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ এবং চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল উমর রাশেদ মুনির স্বাক্ষরিত চিঠিতে বলা হয়, ৫০০ শয্যাভিত্তিক জনবল কাঠামো থাকা এই হাসপাতালে গড়ে প্রতিদিন তিন হাজার থেকে তিন হাজার ৩০০ জন রোগী ভর্তি থাকছেন, যার ফলে বেড অকুপেন্সি রেট দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩৩১ শতাংশে। এর পাশাপাশি বহির্বিভাগে প্রতিদিন আরও চার হাজার থেকে সাড়ে চার হাজার রোগী সেবা নিচ্ছেন। বিদ্যমান সীমিত অবকাঠামো ও জনবল নিয়ে বিপুল এই জনগোষ্ঠীর চিকিৎসা নিশ্চিত করতে গিয়ে মারাত্মক প্রতিকূলতার মুখে পড়তে হচ্ছে কর্তৃপক্ষকে।

এই পরিস্থিতি উত্তরণে ইন্টার্ন ও মিড-লেভেল চিকিৎসকদের জন্য অবিলম্বে নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার পাশাপাশি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে স্বাস্থ্য সুরক্ষা আইন বাস্তবায়নের জোর দাবি জানানো হয়েছে। একই সাথে পে-স্কেলের সাথে সামঞ্জস্য রেখে ইন্টার্ন ও বেসরকারি মিড-লেভেল চিকিৎসকদের ভাতা বৃদ্ধি এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন অপপ্রচার ও মিডিয়া ট্রায়াল বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের তাগিদ দেওয়া হয়েছে চিঠিতে।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে পাঠানো চিঠিতে অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও চলমান প্রকল্পের মধ্যে ১৫ তলা বিশিষ্ট ক্যান্সার, কিডনি ও হার্ট সেন্টারের (৪৬০ শয্যা) অবশিষ্ট কাজ আগামী তিন মাসের মধ্যে সম্পন্ন করে চালু করা এবং জাইকা-ফান্ডেড ডায়াগনস্টিক ভবনের নির্মাণকাজ দ্রুত শেষ করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে। পাশাপাশি রোগীবান্ধব ও স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে আগামী ৭ দিনের মধ্যে ড্রেনেজ ব্যবস্থা এবং এক মাসের মধ্যে ওয়ার্ডের টয়লেট-বাথরুমগুলো সংস্কারের কথা বলা হয়েছে।

সেবা সক্ষমতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হাসপাতালটিতে তিন হাজার শয্যার অর্গানোগ্রাম অনুমোদন এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসক, নার্স ও সহায়ক জনবল দ্রুত পদায়নের দাবি জানানো হয়। ইতোমধ্যে হাসপাতালটিকে ১৪০০ শয্যায় উন্নীত করার একটি প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।

এ ছাড়াও স্বাস্থ্যসেবা বাজেট বৃদ্ধি, বিশেষায়িত গুরুত্বপূর্ণ ইউনিটগুলোতে (ওটি, আইসিইউ ও ডায়ালাইসিস) নতুন এসি স্থাপন, সিসিটিভি নজরদারি বাড়ানো এবং নিরাপত্তা জোরদারে আনসার সদস্য সংখ্যা ৮০ থেকে বাড়িয়ে ৩০০ এবং পুলিশ বক্সে সদস্য সংখ্যা ৫০ জনে উন্নীত করার জরুরি আবেদন জানানো হয়েছে চিঠিতে।

জেএইচ/

মেডিভয়েসের জনপ্রিয় ভিডিও কন্টেন্টগুলো দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন MedivoiceBD ইউটিউব চ্যানেল। আপনার মতামত/লেখা পাঠান [email protected] এ।
  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত