দেড় মাস পর পূর্ণাঙ্গ সেবায় ফিরল আদ্ দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল
মেডিভয়েস রিপোর্ট: রাজধানীর মগবাজারের আদ্ দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল প্রায় দেড় মাস বন্ধ থাকার পর আবারও পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসাসেবা কার্যক্রম শুরু করেছে। সোমবার ২৭ জুলাই বিকেলে হাসপাতালটির লাইসেন্স পুনর্বহাল করে স্বাস্থ্যসেবা চালুর অনুমতি দেয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।
আজ মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সকাল ৮টা থেকে বহির্বিভাগ, অন্তর্বিভাগ, জরুরি বিভাগসহ সব ধরনের সেবা চালু হয়।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, সেবা কার্যক্রম শুরুর প্রথম দিন সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত বহির্বিভাগে ৬০৭ জন রোগী চিকিৎসাসেবা নিয়েছেন। এ ছাড়া নতুন করে ৫৬ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। একই সময়ে আটটি সিজারিয়ান ও তিনটি স্বাভাবিক প্রসব সম্পন্ন হয়েছে।
হাসপাতালটি পুনরায় চালু হওয়ায় রোগী, স্বজন, চিকিৎসক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। অনেকেই বলছেন, মধ্যবিত্ত ও নিম্ন মধ্যবিত্ত মানুষের জন্য তুলনামূলক কম খরচে চিকিৎসাসেবার একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র আবার সচল হওয়ায় তারা উপকৃত হবেন।
হাসপাতালের কার্যক্রম পুনরায় শুরু হওয়ায় স্বস্তি প্রকাশ করেছেন বিদেশি ইন্টার্ন চিকিৎসকরা। তাদের একজন, ইলিয়াস মানসুর গণমাধ্যমে বলেন, হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের ঘটনায় বিদেশি ইন্টার্নদের মধ্যে গভীর অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল। কারণ, তাদের নিজ নিজ দেশের নীতিমালা অনুযায়ী একই প্রতিষ্ঠানে চিকিৎসাশিক্ষা ও ইন্টার্নশিপ সম্পন্ন না হলে ডিগ্রির স্বীকৃতি পাওয়া কঠিন। হাসপাতালের সেবা কার্যক্রম আবার চালু হওয়ায় তারা রোগীদের সেবা দেওয়ার পাশাপাশি নির্ধারিত ইন্টার্নশিপ সম্পন্ন করতে পারবেন। এতে তিনি, তার সহকর্মী এবং পরিবারের সদস্যরা স্বস্তি ও আনন্দ প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে হাসপাতাল পুনরায় চালুর উদ্যোগের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি কৃতজ্ঞতাও জানান।
তৃতীয় বর্ষে অধ্যয়নরত নেপালের এক শিক্ষার্থী গণমাধ্যমে জানান, হাসপাতালের সেবা কার্যক্রম বন্ধ থাকলেও কলেজের একাডেমিক পাঠদান অব্যাহত ছিল। এ ছাড়া তৃতীয় বর্ষ থেকে চূড়ান্ত বর্ষ পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের ক্লিনিক্যাল ক্লাসও সীমিত পরিসরে চলেছে। তবে হাসপাতালের পূর্ণাঙ্গ সেবা কার্যক্রম পুনরায় শুরু হওয়ায় রোগীদের সঙ্গে সরাসরি কাজ করে হাতে-কলমে শেখার সুযোগ আবারও তৈরি হয়েছে, যা তাদের পেশাগত দক্ষতা অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
শরীয়তপুর থেকে আসা এক সেবাগ্রহীতা জানান, এর আগে তার দুটি সন্তান এই হাসপাতালেই জন্ম নিয়েছে। চিকিৎসার মান ও ব্যয় তুলনামূলক কম হওয়ায় তিনি আবারও এখানে চিকিৎসা নিতে এসেছেন।
আদ্ দ্বীন ফাউন্ডেশনের মানবসম্পদ বিভাগের সহকারী ব্যবস্থাপক জাহেদ হোসাইন বলেন, হাসপাতাল বন্ধ থাকায় প্রায় দুই হাজার কর্মকর্তা ও কর্মচারীর মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল। লাইসেন্স পুনর্বহালের মাধ্যমে সেই উদ্বেগ দূর হয়েছে।
আদ্ দ্বীন ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক ডা. জামালুন্নেসা বলেন, সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী হাসপাতালের বিভিন্ন অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও প্রয়োজনীয় সংস্কার সম্পন্ন করা হয়েছে। রোগীদের নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে ওয়ার্ডে পর্যাপ্ত আলো বাতাস, অক্সিজেন সরবরাহ এবং চিকিৎসক ও নার্সদের প্রশিক্ষণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, বর্তমানে হাসপাতালের বহির্বিভাগ, অন্তর্বিভাগ, জরুরি বিভাগ, আইসিইউ, এনআইসিইউ, সিসিইউ, ডায়ালাইসিসসহ প্রয়োজনীয় সব ধরনের চিকিৎসাসেবা চালু রয়েছে। পাশাপাশি স্বল্প ব্যয়ে চিকিৎসাসেবা এবং সাশ্রয়ী মূল্যে অ্যাম্বুলেন্স সেবাও অব্যাহত থাকবে।
প্রসঙ্গত, অলাভজনক প্রতিষ্ঠান আদ্ দ্বীন ফাউন্ডেশন ১৯৮০ সাল থেকে স্বাস্থ্যসেবা, চিকিৎসা শিক্ষা ও বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটির অধীনে দেশের বিভিন্ন স্থানে একাধিক হাসপাতাল, মেডিকেল কলেজ, নার্সিং শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও অন্যান্য স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
এনএইচ/