২৩ জুলাই, ২০২৬ ০৭:৩৪ পিএম

ছাত্র নির্যাতনে জড়িত সিওমেক ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতিকে সিলেট মেডিকেলেই পদায়ন

ছাত্র নির্যাতনে জড়িত সিওমেক ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতিকে সিলেট মেডিকেলেই পদায়ন
ছবি: সংগৃহীত

মেডিভয়েস রিপোর্ট: নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ (সিওমেক) শাখার সাবেক সভাপতি ডা. মাহমুদুল হক রিফাতকে সিওমেক হাসপাতালে মেডিকেল অফিসার পদে পদায়ন করা হয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের জারি করা প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, বর্তমানে সিলেটের গোলাপগঞ্জ ইউনিয়ন উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রে মেডিকেল অফিসার হিসেবে কর্মরত ডা. রিফাতকে নতুন কর্মস্থলে যোগদানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তাঁর মূল পদ সহকারী সার্জন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০১৭ সালের মে মাসে মাহমুদুল হক রিফাতকে সভাপতি এবং সজল এস চক্রবর্তীকে সাধারণ সম্পাদক করে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ ছাত্রলীগের চার সদস্যের আংশিক কমিটি অনুমোদন দেয় সিলেট মহানগর ছাত্রলীগ। পরে ২০১৮ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি কমিটি পূর্ণাঙ্গ রূপ পায়।

এ সময়ের একটি সাংগঠনিক চিঠিতে দেখা যায়, ২০১৮ সালের ২১ এপ্রিল পারিবারিক কারণে বিদেশ যাওয়ার কথা উল্লেখ করে পরবর্তী ঘোষণা না দেওয়া পর্যন্ত তৎকালীন সহসভাপতি সৌরভ সরকারকে ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্ব অর্পণ করেন মাহমুদুল হক রিফাত।

ডা. রিফাতের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ক্যাম্পাসে প্রভাব বিস্তার ও রাজনৈতিক ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে। ২০১৮ সালের ৯ এপ্রিল সিওমেকের আবু সিনা ছাত্রাবাস থেকে ৫৪তম ব্যাচের শিক্ষার্থী আরিফুল হককে নির্যাতনের পর পুলিশের কাছে সোপর্দ করে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। এতে নেতৃত্ব দেন মাহমুদুল হক রিফাত ও তৎকালীন শাখা ছাত্রলীগ সম্পাদক সজল এস চক্রবর্তী।

এদিকে তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক সজল এস চক্রবর্তী বর্তমানে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ক্লিনিক্যাল প্যাথলজিস্ট হিসেবে কর্মরত।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর ২০২৪ সালেরে এক সেপ্টেম্বর মেডিকেল কলেজের একাডেমিক কাউন্সিলের সভায় সজল চক্রবর্তীসহ আটজন সাবেক ও তৎকালীন ছাত্রলীগ নেতাকর্মীকে ক্যাম্পাসে আজীবনের জন্য অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হয়। পরে অবাঞ্ছিত ঘোষণার পরও ২০২৫ সালের চার ফেব্রুয়ারি ক্যাম্পাসে গেলে শিক্ষার্থীদের বাধার মুখে পড়েন তিনি।

‘যেই হাতে নির্যাতন, সেই হাতে সেবা মানায় না’

ডা. মাহমুদুল হক রিফাতের সিওমেকে পদায়নের খবরে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন একাধিক শিক্ষার্থী।

‘খুব সুন্দর লীগ পুনর্বাসন’—এমন ব্যাঙ্গোক্তি করে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন সাবেক শিক্ষার্থী রাতে মেডিভয়েসকে বলেন, ‘রিফাত ছাত্রলীগের সিওমেক শাখার সভাপতি ছিল। ওই সময়টা ছিল ওদের (আওয়ামী লীগ) দুঃশাসনের পিক আওয়ার। তখন আমাদের শিক্ষার্থীদেরকে অত্যাচার করেছে, নির্যাতন করেছে। এমন ঘটনায় অগ্রভাব থেকে তার সম্পৃক্ততা ছিল। এখন ও যদি আবার একই ক্যাম্পাসে আসার সুযোগ পায়, তাহলে ওই মানুষগুলোর জন্য তো স্বাভাবিকভাবেই মর্মপীড়ার কারণ হয়ে দাঁড়াবে, যারা ওদের সময় নির্যাতিত ছিল। যারা মানুষকে (শিক্ষার্থী) এ রকম নির্যাতন করলো, তারা আবার কীভাবে মানুষের (রোগী) সেবায় যুক্ত হবে? এক হাতে সেবা ও নির্যাতন তো মানায় না?’

এনএইচ/এমআর/এমইউ/

মেডিভয়েসের জনপ্রিয় ভিডিও কন্টেন্টগুলো দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন MedivoiceBD ইউটিউব চ্যানেল। আপনার মতামত/লেখা পাঠান [email protected] এ।
  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত