গাজীপুরে দুই দিনে তৈরি পোশাক কারখানার দেড় শতাধিক কর্মী অসুস্থ, তদন্ত কমিটি গঠন
মেডিভয়েস রিপোর্ট: গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার টেপিরবাড়ী এলাকার কালার অ্যান্ড কোং লিমিটেডের পোশাক কারখানায় কর্মরত অবস্থায় হঠাৎ একযোগে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন দেড় শতাধিক শ্রমিক। ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে ছয় সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করেছে স্বাস্থ্য প্রশাসন।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) এ তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স জানায়, একই দিন কারণ অনুসন্ধানে সরেজমিনে গিয়ে ফ্যাক্টরি পরিদর্শন করেন তদন্ত কমিটি।
গত বুধবার (৮ জুলাই) সকালে একই কারখানায় আরও ৭৫ থেকে ৮০ জন শ্রমিক অসুস্থ হয়ে পড়েন। এর আগের দিন অসুস্থ হন ৭৭ জন শ্রমিক। ফলে দুই দিনে প্রায় ১৫০ জন শ্রমিককে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়।
জানা গেছে, কারখানায় সকালে উৎপাদন কার্যক্রম শুরু হওয়ার কিছুক্ষণ পর কয়েকজন নারী শ্রমিক হঠাৎ মাথা ঘোরা, বুকে ব্যথা, পেটব্যথা ও বমি বমি ভাব অনুভব করেন। অল্প সময়ের মধ্যেই একই ধরনের উপসর্গ আরও অনেক শ্রমিকের মধ্যে দেখা দিলে উৎপাদন ফ্লোরজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরে কারখানা কর্তৃপক্ষ অসুস্থ শ্রমিকদের মাওনা চৌরাস্তার আল-হেরা হাসপাতালসহ বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতালে পাঠানো হয়।
মাওনা চৌরাস্তার আল-হেরা হাসপাতালের মানবসম্পদ কর্মকর্তা মনোয়ার আক্তার মেডিভয়েসকে বলেন, ‘প্রথম দিন কারখানা থেকে ৭৭ জন শ্রমিক হাসপাতালে আসেন। তাদের মধ্যে অধিকাংশকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়। তবে সাতজনের শারীরিক অবস্থা তুলনামূলক খারাপ হওয়ায় তাদের অন্য হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে।’
তিনি জানান, ‘দ্বিতীয় দিন আরও ৭৮ জন শ্রমিক হাসপাতালে এলেও সবাইকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে ওই কারখানার কোনো শ্রমিক হাসপাতালে ভর্তি নেই।’
তিনি আরও বলেন, ‘শ্রমিকদের মধ্যে মাথাব্যথা, বমি ও দুর্বলতার মতো উপসর্গ দেখা গেছে। চিকিৎসকদের প্রাথমিক ধারণা, এটি আতঙ্ক বা ‘প্যানিক অ্যাটাক’-জনিত হতে পারে। তবে এ বিষয়ে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না।’
শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শফিকুল ইসলাম জানান, প্রাথমিকভাবে এটি ‘ম্যাস সাইকোজেনিক ইলনেস’ (ম্যাস হিস্টেরিয়া) হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে বিষয়টি এখনো নিশ্চিত নয়। ঘটনাস্থল পরিদর্শন, প্রয়োজনীয় নমুনা সংগ্রহ এবং তদন্ত শেষে প্রকৃত কারণ জানা যাবে। তিনি আরও জানান, সিভিল সার্জনের নির্দেশনায় এ ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, গত ২৪ জুন দিবাগত রাতে একই কারখানার সুইং অপারেটর লিজা আক্তার (৩৫) কর্মরত অবস্থায় অসুস্থ হয়ে মারা যান। মারা যাওয়া লিজা বেগম (৩৫) পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলার হুগলাবানিয়া গ্রামের আশরাফ আলীর মেয়ে।
লিজা বেগমের সহকর্মীদের অভিযোগ, অসুস্থ থাকা সত্ত্বেও তাকে ছুটি না দিয়ে কাজ চালিয়ে যেতে বাধ্য করা হয়েছিল। রাত ৩টার দিকে তিনি বেশি অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে প্রথমে আল-হেরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসক তার মৃত্যুর কথা জানান। ওই ঘটনার জেরে শ্রমিকরা বিক্ষোভও করেছিলেন।এরপর একই কারখানায় টানা দুই দিনের শ্রমিক অসুস্থ হওয়ার ঘটনায় কর্মপরিবেশ, স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
এমআই/