১১ জুন, ২০২৬ ০৭:৪১ পিএম
বরিশালে চিকিৎসক নিগ্রহের ঘটনায় উদ্বেগ

রোগীর চাপের মধ্যেও সেবা দেন চিকিৎসক- স্বাস্থ্যকর্মীরা, তাদের ওপর হামলা উদ্বেগজনক: ডা. রফিকুল ইসলাম

রোগীর চাপের মধ্যেও সেবা দেন চিকিৎসক- স্বাস্থ্যকর্মীরা, তাদের ওপর হামলা উদ্বেগজনক: ডা. রফিকুল ইসলাম
ছবি: সংগৃহীত

মেডিভয়েস রিপোর্ট: বরিশালের একটি বেসরকারি হাসপাতালে রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে কর্তব্যরত চিকিৎসকের ওপর হামলার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিএনপির স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক অধ্যাপক ডা. রফিকুল ইসলাম। চিকিৎসাসংক্রান্ত অভিযোগের প্রতিকারে আইনগত ও প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা থাকলেও স্বাস্থ্যকর্মীদের ওপর হামলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় বলে মনে করেন তিনি। একই এ ঘটনার দ্রুত তদন্ত, জড়িতদের শাস্তি এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান।

আজ বৃহস্পতিবার (১১ জুন) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা বলেন তিনি। 

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির সহ-দপ্তর সম্পাদক মুহাম্মদ মুনির হোসেন স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বরিশালের একটি বেসরকারি হাসপাতালে রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে কর্তব্যরত চিকিৎসককে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয়। একজন রোগীর মৃত্যু নিঃসন্দেহে অত্যন্ত বেদনাদায়ক। রোগীর পরিবার ও স্বজনদের শোক, কষ্ট ও আবেগ আমরা সম্মান করি। কিন্তু কোনো অবস্থাতেই সেই শোক বা ক্ষোভকে চিকিৎসক, নার্স, টেকনোলজিস্ট কিংবা অন্য কোনো স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারীর ওপর শারীরিক হামলা, অপমান, ভাঙচুর বা হুমকির মাধ্যমে প্রকাশ করা গ্রহণযোগ্য নয়।

বিএনপির স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক বলেন, চিকিৎসাসেবা একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল, ঝুঁকিপূর্ণ ও মানবিক পেশা। চিকিৎসকসহ সকল স্বাস্থ্যকর্মী প্রতিদিন সীমিত জনবল, সীমিত সম্পদ, অতিরিক্ত রোগীর চাপ এবং নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও মানুষের জীবন বাঁচানোর জন্য নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। তবুও সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে চিকিৎসক, নার্স, টেকনোলজিস্ট ও হাসপাতাল কর্মীদের ওপর ধারাবাহিকভাবে হামলা, লাঞ্ছনা ও নির্যাতনের ঘটনা ঘটছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক এবং দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থার জন্য অশনিসংকেত।

'২০১৪ সালের এক সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে চিকিৎসক ও নার্সদের মধ্যে ৪৮ শতাংশ শারীরিক অথবা মানসিক নিপীড়নের শিকার হয়েছেন, কিন্তু রিপোর্টিং রেট ছিল মাত্র ২৭.৮ শতাংশ অর্থাৎ অধিকাংশ ঘটনা জানানোই হয় না। গত ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনের পর গঠিত সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর এই ধরনের নিপীড়ন পেছনে কোনো ষড়যন্ত্র আছে কি না তা খতিয়ে দেখতে হবে'-বলেন তিনি। 

অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম বলেন, কোনো চিকিৎসা-সংক্রান্ত অভিযোগ থাকলে তার জন্য আইনগত, প্রশাসনিক ও প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা রয়েছে। অভিযোগ তদন্তের সুযোগ আছে, জবাবদিহির ব্যবস্থা আছে, প্রয়োজনে আইনগত প্রতিকার নেওয়ার পথও খোলা আছে। কিন্তু আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া, হাসপাতালের ভেতরে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করা এবং দায়িত্ব পালনরত স্বাস্থ্যকর্মীদের ওপর হামলা চালানো কোনো সভ্য সমাজে মেনে নেওয়া যায় না। এ ধরনের ঘটনা শুধু একজন চিকিৎসক বা একজন স্বাস্থ্যকর্মীর ওপর আঘাত নয়; এটি পুরো চিকিৎসা ব্যবস্থা, রোগীর সেবা পরিবেশ এবং সাধারণ মানুষের চিকিৎসা পাওয়ার অধিকারের ওপর সরাসরি আঘাত।


ধারাবাহিকভাবে ঘটে যাওয়া এই ধরনের ঘটনাগুলোর সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও দ্রুত তদন্ত, একই সঙ্গে হামলার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে প্রচলিত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা জরুরি। পাশাপাশি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে চিকিৎসক, নার্স, টেকনোলজিস্টসহ সকল স্বাস্থ্যকর্মীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর নিরাপত্তা ব্যবস্থা, আইন প্রয়োগকারী সংস্থার দ্রুত হস্তক্ষেপ এবং হাসপাতালভিত্তিক নিরাপত্তা প্রটোকল জোরদার করার পাশাপাশি স্বাস্থ্য সুরক্ষা আইন দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে।

তিনি বলেন, স্বাস্থ্যকর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে তারা মানসিকভাবে ভীত, অনিরাপদ ও নিরুৎসাহিত হয়ে পড়বেন, যার সরাসরি প্রভাব পড়বে রোগীর চিকিৎসাসেবার ওপর এবং রোগীরাই ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। তাই স্বাস্থ্যখাতকে নিরাপদ রাখতে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের জীবন, নিরাপত্তা ও পেশাগত স্বাধীনতা নিশ্চিত করা রাষ্ট্র, প্রশাসন, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এবং সমাজের সকল সচেতন মানুষের দায়িত্ব।

এমইউ/এনএইচ

মেডিভয়েসের জনপ্রিয় ভিডিও কন্টেন্টগুলো দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন MedivoiceBD ইউটিউব চ্যানেল। আপনার মতামত/লেখা পাঠান [email protected] এ।
সাত কর্মদিবসের মধ্যে দাবি বাস্তবায়নের আশ্বাসে কর্মবিরতি প্রত্যাহার

ইন্টার্ন চিকিৎসকদের ভাতা নবম গ্রেডের বেসিক

মাসুদ কামালের প্রতি ড্যাবের হুঁশিয়ারি

ক্ষমা না চাইলে আইনি ব্যবস্থার মুখোমুখি হতে প্রস্তুতি নিন

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
এক দিনে চিরবিদায় পাঁচ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক
করোনা ও বার্ধক্যজনিত অসুস্থতা

এক দিনে চিরবিদায় পাঁচ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক