তরুণদের তামাক ব্যবহার ও অসংক্রামক রোগের ঝুঁকি প্রতিরোধে বিশেষ সেমিনার
মেডিভয়েস রিপোর্ট: অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধ এবং তরুণদের ধূমপান শুরু নিরুৎসাহিত করতে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে তামাকজাত পণ্যের দাম বৃদ্ধির দাবি জানিয়েছেন দেশের চিকিৎসক ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।
আজ মঙ্গলবার (০৯ জুন) জাতীয় প্রেস ক্লাবে প্ল্যাটফর্ম অব মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল সোসাইটির উদ্যোগে এবং ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশের কারিগরি সহায়তায় অনুষ্ঠিত ‘তরুণদের তামাক ব্যবহার ও অসংক্রামক রোগের ঝুঁকি প্রতিরোধে করণীয়’ শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন প্ল্যাটফর্ম অব মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক ডা. মো. ইরফানুর রহমান। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সংগঠনটির পরিচালক ও মানবসম্পদ বিভাগের প্রধান ডা. মুনতাহা ফারহান।
মূল প্রবন্ধে বলা হয়, দেশে বর্তমানে প্রায় তিন কোটি ৭৮ লাখ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ তামাক ব্যবহার করেন এবং প্রতিবছর প্রায় দুই লাখ মানুষ তামাকজনিত রোগে অকালে মৃত্যুবরণ করেন। ১৫ থেকে ২৪ বছর বয়সী তরুণদের মধ্যে তামাক ব্যবহারের হার ১০ দশমিক তিন শতাংশ।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও জনস হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের এক যৌথ গবেষণায় দেখা গেছে, ২০২৪ সালে বাংলাদেশে তামাক ব্যবহার ও উৎপাদনের কারণে স্বাস্থ্য ও পরিবেশগত ক্ষতির পরিমাণ ছিল প্রায় ৮৭ হাজার কোটি টাকা। অথচ একই সময়ে সরকার তামাক খাত থেকে রাজস্ব পেয়েছে প্রায় ৪১ হাজার কোটি টাকা।
প্রবন্ধে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে নিম্ন ও মধ্যম স্তরের সিগারেট একীভূত করে ১০ শলাকার প্যাকেটের খুচরা মূল্য ১০০ টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়। একই সঙ্গে প্রতি প্যাকেটে ৪ টাকা সুনির্দিষ্ট কর আরোপ এবং উচ্চ ও প্রিমিয়াম স্তরের সিগারেটের দাম যথাক্রমে ১৫০ টাকা ও ২০০ টাকা নির্ধারণের সুপারিশ করা হয়।
উক্ত সেমিনারে বক্তারা বলেন, কার্যকর তামাক কর সংস্কার বাস্তবায়িত হলে প্রায় পাঁচ লাখ প্রাপ্তবয়স্ক ধূমপান ছেড়ে দিতে উৎসাহিত হবেন এবং তিন লাখ ৭২ হাজারের বেশি তরুণ ধূমপান শুরু করা থেকে বিরত থাকবে। এর ফলে দীর্ঘমেয়াদে প্রায় তিন লাখ ৭০ হাজার অকালমৃত্যু প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে।
ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশের সভাপতি অধ্যাপক ডা. খন্দকার আব্দুল আউয়াল রিজভীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন হবিগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য ডা. আবু মনসুর সাখাওয়াত হাসান জীবন এবং জাতীয় তামাক নিয়ন্ত্রণ সেলের মহাপরিচালক (যুগ্মসচিব) মো. আখতারউজ-জামান।
আলোচনায় আরও অংশ নেন ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতাল অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউটের রোগতত্ত্ব ও গবেষণা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. সোহেল রেজা চৌধুরী এবং জনস্বাস্থ্যবিদ ডা. মুশতাক হোসেন।
জেএইচ/