উপজেলায় এফসিপিএস প্রশিক্ষণের কাঠামো নেই, নীতিমালা সংশোধন হবে: বিসিপিএস
মেডিভয়েস রিপোর্ট: উপজেলায় এফসিপিএস প্রশিক্ষণের কাঠামো ও প্রশিক্ষক নেই। তাই সেখানে কখনোই প্রশিক্ষণের কথা বিবেচনা করেনি বাংলাদেশ কলেজ অব ফিজিশিয়ান্স অ্যান্ড সার্জন্স (বিসিপিএস)। সমন্বয়হীনতার জন্য উপজেলায় দুই বছরের প্রশিক্ষণের বিষয়টি নতুন নীতিমালায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। এ নিয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে বিসিপিএসের কথা হয়েছে। সংশোধিত নীতিমালায় এটি বাদ যাবে।
বিসিপিএস সভাপতি অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ সহিদুল্লা আজ বুধবার (৩ জুন) বিকেলে মুঠোফোনে মেডিভয়েসকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
নোটিসে উপজেলা প্রশিক্ষণের বিষয়ে বিসিপিএস অবগত কিনা—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমাদের জ্ঞাতার্থে হয়ইনি, প্রশ্নই আসে না। কারণ আমাদের (বিসিপিএস) নীতিমালায় এটা নেই। ... যাক, কোনো না কোনো
সমন্বয়ের ঘাটতির জন্য হয়েছে। আমি মন্ত্রণালয়কেও দোষ দেবো না। আজ দুপুরে আমরা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে এ নিয়ে কথা বলেছি। মন্ত্রণালয় খুব ভালোভাবে বিষয়টি অনুধাবন করেছে।’
‘তারা (মন্ত্রণালয়) বলেছেন, ও আচ্ছা—উপজেলায় তো আসলে প্রশিক্ষণ হওয়ার কথা না। এটা আমরা সংশোধন করে নিচ্ছি’—উল্লেখ করেন অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ সহিদুল্লা।
ফোনালাপে উপজেলায় নেওয়া প্রশিক্ষণ কোর্সে গণ্য না হওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করেন বিসিপিএস সভাপতি। বলেন, ‘উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রোগীদের সেবা হচ্ছে, এটা ঠিক আছে। কিন্তু সেখানে এফসিপিএস প্রশিক্ষণের অবকাঠামোও নেই, প্রশিক্ষকও নেই। বিদ্যমান অবস্থায় উপজেলায় সুপারভাইজড স্টাকচারড ট্রেনিং সম্ভব নয় বিধায় বিসিপিএস উপজেলায় কখনোই প্রশিক্ষণ বিবেচনা করেনি এবং এখনো করছে না।’
তাহলে নীতিমালায় দুই বছর প্রশিক্ষণ অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ে আপনাদের বক্তব্য কী? এ ব্যাপারে তাঁর পরিষ্কার জবাব, ‘আমরা এ ব্যাপারে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে কথা বলেছি। বিষয়টি মন্ত্রণালয়ের নজরে এসেছে, তারা আমলে নিয়েছেন এবং এটা সংশোধন করে নেবেন।’
বিসিপিএস সভাপতি বলেন, ‘প্রশিক্ষণার্থীদের ৯৭-৯৮ ভাগ মেডিকেল কলেজ বা বড় বড় ইনসিটিটিউটগুলোতে প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন। বাকি ১-২ ভাগ বিসিপিএস স্বীকৃত জেলায় ছয় মাসের জন্য প্রশিক্ষণ নিয়েছে।’
গত ১৯ মে বাংলাদেশ কলেজ অব ফিজিশিয়ান্স অ্যান্ড সার্জন্সের (বিসিপিএস) ২০২৫-২৬ অর্থ বছরে জানুয়ারি থেকে জুন শিক্ষাবর্ষে এফসিপিএস-১ম পর্বে উত্তীর্ণ ৫ হাজার চার জন প্রশিক্ষণার্থীর পদায়ন ও প্রশিক্ষণ ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত নতুন নীতিমালা অনুমোদন করে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়।
এ ব্যাপারে চিকিৎসা শিক্ষা-১ শাখার এক প্রজ্ঞাপনে জানানো হয় প্রশিক্ষণার্থীর পদায়ন ও প্রশিক্ষণ ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত নতুন নীতিমালা প্রণয়নের লক্ষ্যে গঠিত কমিটির তৃতীয় সভা চলতি বছরের ১২ এপ্রিল অনুষ্ঠিত হয় এবং সভায় গৃহীত সিদ্ধান্তসমূহ সচিবের অনুমোদন লাভ করে।
নতুন নীতিমালা অনুযায়ী, এফসিপিএস ১ম পর্বে উত্তীর্ণ প্রশিক্ষণার্থীদের পদায়নের ক্ষেত্রে স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তর নির্ধারিত সরকারি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের ক্যাটাগরি বিন্যাস অনুসরণ করা হবে। ‘এ’ ক্যাটাগরির প্রতিষ্ঠানে প্রতি ইউনিটে সর্বোচ্চ ২৪ জন, ‘বি’ ও ‘সি’ ক্যাটাগরিতে ২০ জন এবং ‘ডি’ ক্যাটাগরিতে ১৬ জন প্রশিক্ষণার্থী রাখার সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে।
এ ছাড়া প্রশিক্ষক হিসেবে অধ্যাপক, সহযোগী অধ্যাপক এবং নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে এফসিপিএস বা সমমান ডিগ্রিধারী সহকারী অধ্যাপক ও সদর হাসপাতালের কনসালটেন্টদের বিবেচনা করা হবে। ইউনিট প্রধানের তত্ত্বাবধানেই প্রশিক্ষণার্থী নিয়োগ দেওয়া হবে।
নীতিমালার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক, প্রশিক্ষণার্থীদের মেধা ও পছন্দের ভিত্তিতে সম্পূর্ণ অটোমেশন পদ্ধতিতে পদায়ন নিশ্চিত করা। অটোমেশন প্রক্রিয়ার বাইরে কোনো হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ প্রশিক্ষণার্থী গ্রহণ করতে পারবে না।
এ ছাড়া পদায়নপ্রাপ্ত প্রশিক্ষণার্থীদের নিজ নিজ উপজেলায় পাঁচ বছরের মধ্যে ন্যূনতম দুই বছর কর্মরত বা প্রশিক্ষণে থাকার শর্ত আরোপ করা হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়েছে, ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতাল এবং শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মেডিসিন ও গাইনি অ্যান্ড অবস বিভাগে অতিরিক্ত প্রশিক্ষণার্থীর চাপ কমানো না পর্যন্ত নতুন পদায়ন বন্ধ থাকবে।
সরকারি ভাতাভুক্ত প্রশিক্ষণার্থীদের ক্ষেত্রে প্রতি সেশনে সর্বোচ্চ এক হাজার জনকে মেধার ভিত্তিতে নির্বাচিত করা হবে। শুধুমাত্র অটোমেশন প্রক্রিয়ায় নির্বাচিত প্রশিক্ষণার্থীরাই এ ভাতার জন্য বিবেচিত হবেন।
জাতীয় প্রয়োজন বিবেচনায় এনাটমি, ফিজিওলজি, ফার্মাকোলজি, বায়োকেমিস্ট্রি, প্যাথলজি, মাইক্রোবায়োলজি, ফরেনসিক মেডিসিন, কমিউনিটি মেডিসিন, এনেস্থেসিওলজি, ডার্মাটোলজি, হেমাটোলজি, সাইকিয়াট্রি, ট্রান্সফিউশন মেডিসিন, ফ্যামিলি মেডিসিন, ফিজিক্যাল মেডিসিন অ্যান্ড রিহ্যাবিলিটেশন, রেডিওথেরাপি এবং রেডিওলজি অ্যান্ড ইমেজিংসহ কয়েকটি বিষয়ে পদায়নের ক্ষেত্রে বিশেষ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
পর্যায়ক্রমে অন্যান্য বিষয়ের প্রশিক্ষণার্থীদের অবশিষ্ট আসনের বিপরীতে পছন্দ ও মেধাক্রম অনুযায়ী পদায়ন করা হবে। এই প্রক্রিয়ায় যারা নির্বাচিত হতে ব্যর্থ হবেন, তারা পরবর্তী সেশনে অগ্রাধিকার পাবেন বলে সিদ্ধান্ত হয়েছে।
এমইউ/