ডা. মো. আরমান হোসেন রনি
চক্ষু বিশেষজ্ঞ ও সার্জন, জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল, শেরেবাংলা নগর, ঢাকা।
২৩ মে, ২০২৬ ০৪:৫৯ পিএম
মদ্যপান বাড়ায় অন্ধত্বের ঝুঁকি
বর্তমান সময়ে বিশ্বজুড়ে বাড়ছে মদ্যপানের প্রবণতা। অনেকেই মনে করেন, অল্প পরিমাণ মদ শরীরের তেমন ক্ষতি করে না। কিন্তু অতিরিক্ত কিংবা ভেজাল মদ্যপান চোখের জন্য ভয়াবহ ক্ষতির কারণ হতে পারে। এমনকি স্থায়ী অন্ধত্বও দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে মিথানলযুক্ত ভেজাল মদ চোখের অপটিক নার্ভকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করে।
কীভাবে মদ্যপান অন্ধত্বের কারণ হয়?
১. ভেজাল বা অবৈধ মদে প্রায়ই মিথানল নামক বিষাক্ত উপাদান থাকে। শরীরে প্রবেশের পর মিথানল ভেঙে ফর্মিক অ্যাসিড তৈরি করে, যা চোখের অপটিক নার্ভের কোষ ধ্বংস করে।
২. দীর্ঘদিন অতিরিক্ত অ্যালকোহল গ্রহণে ভিটামিন বি-কমপ্লেক্সের ঘাটতি তৈরি হয়, যা অপটিক নিউরোপ্যাথির কারণ হতে পারে।
৩. অতিরিক্ত মদ্যপানে লিভার ও স্নায়ুতন্ত্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়, যার প্রভাব পড়ে চোখেও।
লক্ষণসমূহ
মদ্যপানের কারণে চোখ আক্রান্ত হলে নিচের উপসর্গগুলো দেখা দিতে পারে—
১. হঠাৎ ঝাপসা দেখা।
২. চোখের সামনে অন্ধকার নেমে আসা।
৩. রঙ চিনতে সমস্যা হওয়া।
৪. চোখে ব্যথা বা জ্বালাপোড়া।
৫. মাথা ঘোরা ও বমি বমি ভাব।
৬. আলোতে তাকাতে কষ্ট হওয়া।
৭. দুই চোখের দ্রুত দৃষ্টিশক্তি কমে যাওয়া।
৮. গুরুতর ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ অন্ধত্ব।
কারা বেশি ঝুঁকিতে
নিয়মিত অতিরিক্ত মদ্যপানকারী ব্যক্তি, ভেজাল বা অবৈধ মদ গ্রহণকারী, অপুষ্টিতে ভোগা মানুষ, ডায়াবেটিস বা স্নায়ুরোগে আক্রান্ত ব্যক্তি এবং ধূমপানের সঙ্গে মদ্যপানের অভ্যাস যাদের আছে।
রোগ নির্ণয়
চিকিৎসক সাধারণত নিচের পরীক্ষাগুলো করে থাকেন—
চোখের দৃষ্টিশক্তি পরীক্ষা, ফান্ডাস পরীক্ষা, অপটিক নার্ভ মূল্যায়ন, রক্তে মিথানলের মাত্রা নির্ণয়, সিটি স্ক্যান বা এমআরআই এবং রক্তের এসিড-বেইস ভারসাম্য পরীক্ষা।
চিকিৎসা
মদ্যপানের কারণে চোখের সমস্যা হলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।
১. রোগীকে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়।
২. মিথানল বিষক্রিয়ায় বিশেষ অ্যান্টিডোট ব্যবহার করা হয়।
৩. প্রয়োজনে ডায়ালাইসিস করা হয়।
৪. ভিটামিন বি-১, বি-৬ ও বি-১২ দেওয়া হয়।
৫. চোখের স্নায়ু রক্ষায় স্টেরয়েড বা অন্যান্য ওষুধ ব্যবহার করা হতে পারে।
৬. সম্পূর্ণভাবে মদ্যপান বন্ধ করতে হবে।
৭. চিকিৎসায় দেরি হলে দৃষ্টিশক্তি আর ফিরিয়ে আনা সম্ভব নাও হতে পারে।
প্রতিকার ও সচেতনতা
১. ভেজাল ও অবৈধ মদ সম্পূর্ণভাবে বর্জন করতে হবে।
২. অতিরিক্ত মদ্যপানের অভ্যাস ত্যাগ করা প্রয়োজন।
৩. হঠাৎ চোখে ঝাপসা দেখা দিলে দ্রুত চক্ষু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিতে হবে।
৪. সুষম খাদ্য ও ভিটামিনসমৃদ্ধ খাবার গ্রহণ করতে হবে।
৫. পরিবার ও সমাজে মদ্যপানের ক্ষতি সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে হবে।
৬. তরুণদের মধ্যে মাদকবিরোধী শিক্ষা জোরদার করা জরুরি।
জেএইচ/