২২ মে, ২০২৬ ১১:৩১ এএম

কানাডার সহকারী উপমন্ত্রীর আইসিডিডিআর,বি পরিদর্শন

কানাডার সহকারী উপমন্ত্রীর আইসিডিডিআর,বি পরিদর্শন
ছবি: সংগৃহীত

মেডিভয়েস রিপোর্ট: আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশের (আইসিডিডিআর,বি) মহাখালী ক্যাম্পাস পরিদর্শন করেছেন কানাডা সরকারের আন্তর্জাতিক সহায়তা অংশীদারিত্ব ও কর্মসূচি বিভাগের সহকারী উপমন্ত্রী মিস লেসলি নর্টন। এ সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন বাংলাদেশে কানাডার হাইকমিশনার এইচ.ই. মি. অজিত সিং ও গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্স কানাডা (জিএসি), ঢাকার ফার্স্ট সেক্রেটারি ডেভেলপমেন্ট (হেলথ) মি. এডওয়ার্ড ক্যাবরেরা।

বৃহস্পতিবার (২১ মে) আইসিডিডিআর,বির বিভিন্ন কার্যক্রম ও ঢাকা হাসপাতাল ঘুরে দেখেন তিনি। পরে পুষ্টি ও অংশীদারিত্ব বিষয়ক একটি আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

প্রতিনিধিদলকে স্বাগত জানান আইসিডিডিআর,বির নির্বাহী পরিচালক ড. তাহমীদ আহমেদ। তিনি ডায়রিয়া ও কলেরা রোগীদের চিকিৎসা ব্যবস্থা,আইসিডিডিআর,বি উদ্ভাবিত পুষ্টিকর খাবারের মাধ্যমে অপুষ্ট শিশুদের পুনর্বাসন, স্তন্যদান পরামর্শের গুরুত্ব এবং ২০১৩ সাল থেকে নিউমোনিয়া চিকিৎসায় ব্যবহৃত বাবল সিপ্যাপ প্রযুক্তি বর্তমানে দেশের সাম্প্রতিক হাম প্রাদুর্ভাবে কীভাবে সহায়তা করছে তা সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিভাগ সম্পর্কে ব্যাখ্যা দেন প্রতিনিধিদলকে।

প্রতিনিধিদল রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরে বাস্তবায়িত ফিকাল স্লাজ ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্টের মডেল পরিদর্শন করেন। এছাড়া তারা মিউকোসাল ইমিউনোলজি ল্যাবরেটরি ঘুরে দেখেন, যেখানে বিজ্ঞানীরা রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর মধ্যে ওরাল কলেরা ভ্যাকসিন ও টাইফয়েড ভ্যাকসিন বাস্তবায়ন এবং শিবিরে পরিবেশগত স্বাস্থ্য উদ্যোগ নিয়েআইসিডিডিআর,বির কাজ তুলে ধরেন।

পরে আলোচনা সভায় বাংলাদেশের পুষ্টি-সংক্রান্ত চ্যালেঞ্জ এবং মাতৃ ও শিশু পুষ্টি উন্নয়নসহ সামগ্রিক জনস্বাস্থ্য উন্নয়নে যৌথ উদ্যোগ নিয়ে আলোচনা হয়। এ সময় ড. তাহমীদ আহমেদ বাংলাদেশের পুষ্টি পরিস্থিতি এবং আইসিডিডিআর,বির বিভিন্ন কার্যক্রমের সারসংক্ষেপ তুলে ধরেন। তিনি অপুষ্টির কারণে জনগণের স্বাস্থ্য ও বিকাশে যে প্রভাব পড়ছে, বিশেষ করে শিশুদের প্রাথমিক মস্তিষ্কের বিকাশে পুষ্টির ভূমিকা নিয়ে গবেষণার বিষয়গুলো ব্যাখ্যা করেন। এছাড়া প্রমাণভিত্তিক নীতিনির্ধারণে আইসিডিডিআর,বির অবদান এবং মাল্টিপল মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট সাপ্লিমেন্ট ও ফোর্টিফায়েড চাল উদ্যোগসহ বিভিন্ন পুষ্টি উদ্ভাবনের কথাও তুলে ধরেন।

বৈশ্বিক উন্নয়ন অর্থায়নের ক্রমবর্ধমান চ্যালেঞ্জের সময়ে প্রমাণভিত্তিক জনস্বাস্থ্য অংশীদারিত্বের গুরুত্ব তুলে ধরে মিস লেসলি নর্টন বলেন, ‘আপনাদের প্রতিষ্ঠানগুলো যে তথ্য-উপাত্ত ও প্রমাণ তৈরি করছে, তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অর্থবহ উন্নয়ন ফলাফল তুলে ধরতে এই প্রমাণ সংস্থা ও সরকারগুলোর জন্য অত্যন্ত জরুরি, বিশেষ করে এমন এক সময়ে যখন উন্নয়ন সহায়তার পক্ষে যুক্তি তুলে ধরা আরও কঠিন হয়ে উঠছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘কানাডিয়ান প্রতিষ্ঠান ও বাংলাদেশি সংস্থাগুলোর দীর্ঘদিনের অংশীদারিত্ব অত্যন্ত প্রশংসনীয় এবং পুষ্টি ও জনস্বাস্থ্যের সমন্বিত যে দৃষ্টিভঙ্গি আলোচনায় উঠে এসেছে, তা অনুপ্রেরণাদায়ক। এত নিবেদিত ও উদ্যমী পেশাজীবীদের একসঙ্গে কাজ করতে দেখা সত্যিই অনুপ্রেরণামূলক। যখন পেশাদারিত্ব ও আন্তরিকতা একত্রিত হয়, তখন সাফল্যের কোনো সীমা থাকে না।’

আলোচনা সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন গ্লোবাল অ্যালায়েন্স ফর ইমপ্রুভড নিউট্রিশনের (জিএআইএন) কান্ট্রি ডিরেক্টর ড. রুদাবা খন্দকার, আন্তর্জাতিক খাদ্য নীতি গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইএফপিআরআই) বাংলাদেশের গবেষণা ফেলো ও ভারপ্রাপ্ত কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ ড. মুগ্ধ মাহজাব, নিউট্রিশন ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ড. এ কে এম মুশা এবংওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশের সিনিয়র ডিরেক্টর অব অপারেশনস চন্দন জেড গোমেজ প্রমুখ।

এমআর/

মেডিভয়েসের জনপ্রিয় ভিডিও কন্টেন্টগুলো দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন MedivoiceBD ইউটিউব চ্যানেল। আপনার মতামত/লেখা পাঠান [email protected] এ।
  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
এক দিনে চিরবিদায় পাঁচ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক
করোনা ও বার্ধক্যজনিত অসুস্থতা

এক দিনে চিরবিদায় পাঁচ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক