হাম নিয়ে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বগুড়ায় এনডিএফের বৈজ্ঞানিক সভা
মেডিভয়েস রিপোর্ট: বগুড়ায় হাম রোগের প্রাদুর্ভাব কমানো, টিকাদান কর্মসূচি জোরদার এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ন্যাশনাল ডক্টরস ফোরাম (এনডিএফ) একটি বৈজ্ঞানিক সভার আয়োজন করেছে। বুধবার (২২ এপ্রিল) এনডিএফের বগুড়া শাখা এই সভার আয়োজন করে।
সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এনডিএফ বগুড়ার উপদেষ্টা অধ্যাপক আ স ম আব্দুল মালেক। এতে সভাপতিত্ব করেন এনডিএফের বগুড়া জেলার সভাপতি ও শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. মো. লিয়াকত আলী। বৈজ্ঞানিক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. নাজমুল ইসলাম নাহিদ।
প্যানেল অব এক্সপার্ট হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. শওকত জামিল, নবজাতক রোগ বিশেষজ্ঞ ডা. মো. নজরুল ইসলাম এবং শিশুসার্জারি বিশেষজ্ঞ ডা. এস এম নূর-ই-শাদীদ। স্বাগত বক্তব্য রাখেন এনডিএফ বগুড়ার সেক্রেটারি ও শিশু সার্জন ডা. মাহাবুব রহমান সরকার।
এছাড়া সভায় বক্তব্য রাখেন শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) সার্জারি বিভাগের অধ্যাপক ডা. সলিমুল্লাহ আকন্দ, শিশু সার্জারি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ডা. মুহাম্মদ মিজানুর রহমান শিবলী, নাক-কান-গলা বিশেষজ্ঞ ডা. মাহফুজুল হক মামুন, জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. মুসা আল মনসুর, চক্ষু বিশেষজ্ঞ ডা. মুহাম্মদ ইবরাহিম এবং মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. মো. আজিজুল হাকিম বাপ্পা প্রমুখ। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন অর্থোপেডিক সার্জন ডা. মো. সেলিম রেজা।
সভায় আগামী ১০ মে পর্যন্ত চলমান দেশব্যাপী হাম-রুবেলা টিকাদান কর্মসূচি সফল করার আহ্বান জানানো হয়। এতে বলা হয়, একটি জনগোষ্ঠীর রোগ প্রতিরোধ ও স্বাস্থ্য নিরাপত্তার জন্য হার্ড ইমিউনিটি অর্জনে কমপক্ষে ৯৫ শতাংশ শিশুকে টিকার আওতায় আনতে হবে।
সভায় আরও জানানো হয়, স্বাস্থ্য বিভাগের স্থায়ী টিকা কেন্দ্র যেমন শজিমেক হাসপাতাল ও মোহাম্মদ আলী হাসপাতাল, বগুড়া এবং স্যাটেলাইট ক্লিনিকগুলোতে নির্দিষ্ট দিনে ৬ মাস থেকে ৫ বছর বয়সী শিশুদের টিকা প্রদান করা হবে।
এ ছাড়া জ্বর ও গায়ে লাল র্যাশ উপসর্গ নিয়ে আসা শিশুদের দ্রুত আইসোলেশন ও সঠিক চিকিৎসা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। সভায় হাম সংক্রমণ প্রতিরোধে মাস্ক ব্যবহার, হাঁচি-কাশির শিষ্টাচার মেনে চলা, সাবান দিয়ে হাত ধোয়া, পুষ্টিকর খাদ্য গ্রহণ এবং প্রথম ৬ মাস শিশুকে শুধু বুকের দুধ খাওয়ানোর পরামর্শ দেওয়া হয়।