০৬ এপ্রিল, ২০২৬ ০৫:১৬ পিএম

হাম প্রতিরোধে টিকাদান জোরদারের আহ্বান এনডিএফের

হাম প্রতিরোধে টিকাদান জোরদারের আহ্বান এনডিএফের
ছবি: সংগৃহীত

মেডিভয়েস রিপোর্ট: হাম প্রতিরোধে সময়মতো টিকাদানের বিকল্প নেই। একই সঙ্গে জনসচেতনতা বৃদ্ধি ও প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যব্যবস্থা জোরদার অত্যন্ত জরুরি।

আজ সোমবার (৬ এপ্রিল) জাতীয় প্রেসক্লাবের আব্দুস সালাম হলে ন্যাশনাল ডক্টরস ফোরামের (এনডিএফ) উদ্যোগে ‘হামরোগ’ বিষয়ক একটি সেমিনারে বক্তারা এসব কথা বলেন।

জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যব্যবস্থা জোরদারের লক্ষ্যে এনডিএফ এই সেমিনারের আয়োজন করে। দেশের বর্তমান প্রেক্ষাপটে হামরোগের পুনরুত্থান, টিকাদান কার্যক্রমের চ্যালেঞ্জ এবং জনসচেতনতার ঘাটতি বিবেচনায় এ আয়োজনকে সময়োপযোগী বলে উল্লেখ করেন আয়োজকরা।

সেমিনারে কী-নোট স্পিকার হিসেবে বক্তব্য দেন বিশিষ্ট চিকিৎসক ডা. আবু তালহা। তিনি হাম কী, কেন এটি বিপজ্জনক, কীভাবে ছড়ায়, হামের লক্ষণসমূহ, রোগ নির্ণয় ও রোগ নিশ্চিতকরণ পদ্ধতি এবং এর প্রধান জটিলতাসমূহ বিষয়ে বিস্তারিত তুলে ধরেন। ডা. আবু তালহা বলেন, ‘সময়সম্পন্ন টিকাদানই হাম প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায়।’ শিশুদের ওপর এর মারাত্মক প্রভাবের কথা উল্লেখ করে তিনি অভিভাবকদের সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান।

আলোচনায় অংশ নেন অধ্যাপক ডা. আহমেদ মুর্তজা চৌধুরী, অধ্যাপক ডা. মো. খয়বর আলী, অধ্যাপক ডা. মো. মোস্তাফিজুর রহমান, অধ্যাপক ডা. রাকিবুল হক খান এবং ডা. মো. আতিয়ার রহমান। তাঁরা হাম প্রতিরোধে সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

আলোচনা সভায় ঢাকা মেডিকেল কলেজের (ঢামেক) শিশু বিভাগের অধ্যাপক ডা. মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, প্রত্যেকটা মেডিকেল কলেজে ২৪ ঘন্টা টেলিফোন সার্ভিস থাকা উচিত। বর্তমানে কিছু মেডিকেল কলেজে এটি চালু আছে, তবে এটি আরও বিস্তৃত করা জরুরি। টেলিফোনের মাধ্যমে রোগীর প্রাথমিক তথ্য যেমন জ্বর এবং অন্যান্য লক্ষণ যাচাই করা হবে, যাতে মিজেলস শনাক্ত করা যায়।

তিনি আরও বলেন, ‘মাইল্ড কেস ক্ষেত্রে যদি রোগী ভাল থাকে, জ্বর সামান্য থাকে এবং খাওয়ার কোন সমস্যা না থাকে, তবে তাকে বাসায় আইসোলেটেড অবস্থায় রাখা হবে। তাকে বাচ্চাদের থেকে আলাদা রাখা হবে, বিশেষ করে প্রেগনেন্ট নারী বা বৃদ্ধদের কাছ থেকে। মডারেট কেসের ক্ষেত্রে, যদি রোগীর পাচঁ দিন ধরে উচ্চ জ্বর থাকে এবং খাওয়ার আগ্রহ কমে যায়, তবে তাকে হাসপাতালে আসার পরামর্শ দেওয়া হবে। এ ছাড়া সিভিয়ার কেসের ক্ষেত্রে যারা শ্বাসকষ্ট, খাবার খেতে না পারা বা গুরুতর অবস্থা অনুভব করছে, তাদেরকে হাসপাতালে ভর্তি করতে হবে।’

মাইল্ড কেসে থাকা রোগীদের নিয়মিত ফিডব্যাক নেওয়া হবে এবং বাসায় অবস্থানকালে আইসোলেশন বজায় রাখতে বলা হবে বলে জানান তিনি।

সরকারের প্রতি পরামর্শ দিয়ে বলেন, ‘টেলিফোন ট্রায়েস তৈরি করেন, হসপিটাল ট্রায়েস তৈরি করেন এবং ব্যবস্থা নেন।’

এ ছাড়া অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন এনডিএফের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক ডা. সাজেদ আবদুল খালেক ও ডা. একেএম ওয়ালীউল্লাহ, জয়েন্ট সেক্রেটারি ডা. এমজি ফারুক হোসেন ও ডা. রুহুল কুদ্দুস বিপ্লব, ঢাকা মহানগরী উত্তরের সভাপতি ডা. এস এম খালেদুজ্জামান, অফিস সম্পাদক ডা. একেএম জিয়াউল হক, কোষাধ্যক্ষ ডা. নাজমুল আরেফিন এবং ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) সভাপতি মো. শহিদুল ইসলাম।

সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন এনডিএফের সভাপতি অধ্যাপক ডা. মো. নজরুল ইসলাম। তিনি বলেন, “একটি সুস্থ জাতি গঠনের জন্য প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যব্যবস্থার বিকল্প নেই।” হাম নির্মূলে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ, টিকাদান কর্মসূচি জোরদার এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সমন্বিত উদ্যোগের ওপর তিনি গুরুত্ব দেন।

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন এনডিএফের সাধারণ সম্পাদক ও শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. মাহমুদ হোসেন।

এমআই/টিআই

মেডিভয়েসের জনপ্রিয় ভিডিও কন্টেন্টগুলো দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন MedivoiceBD ইউটিউব চ্যানেল। আপনার মতামত/লেখা পাঠান [email protected] এ।
বিএমইউতে এনডিএফের ‘সীরাহ কনফারেন্স’

চিকিৎসকদের পেশাগত জীবনে রাসূলের জীবনাদর্শ ধারণের আহ্বান

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত