সংসদ নির্বাচন: আমীর ও নায়েবে আমীরসহ জামায়াতের প্রার্থী তালিকায় ১৯ চিকিৎসক
আবু নাঈম মনির: আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী তালিকায় রয়েছেন ১৯ জন চিকিৎসক। এর মধ্যে আছেন দলের আমীর ডা. শফিকুর রহমান (ঢাকা-১৫) ও নায়েবে আমীর ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহের কুমিল্লা-১১ (চৌদ্দগ্রাম)। এ ছাড়াও সম্ভাব্য এ তালিকায় আছেন ন্যাশনাল ডক্টরস ফোরামের (এনডিএফ) বিভিন্ন পর্যায়ের ১৭ জন চিকিৎসক।
তারা হলেন—অধ্যাপক ডা. মাহমুদ হোসেন বকাউল শরীয়তপুর-২ (নড়িয়া-সখিপুর), অধ্যাপক ডা. কর্নেল (অব.) জেহাদ খান কিশোরগঞ্জ-৩ (করিমগঞ্জ-তাড়াইল), অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর রাজশাহী সদর-২ (সদর), ডা. সুলতান আহমেদ বরগুনা ২ (পাথরঘাটা, বামনা ও বেতাগী), ডা. একেএম ফজলুল হক চট্টগ্রাম-৯ (চান্দগাঁও, ডবলমুরিং), ডা. আবু বকর সিদ্দিক মানিকগঞ্জ-১ (ঘিওর, দৌলতপুর, শিবালয়), ডা. মোহাম্মদ আব্দুল মোবিন চাঁদপুর-২ (মতলব উত্তর, মতলব দক্ষিণ), ডা. ফরিদুল আলম চট্টগ্রাম-১২ (পটিয়া), ডা. শাহাদাৎ হোসেন চট্টগ্রাম-১৪ (চন্দনাইশ-সাতকানিয়া আংশিক), ডা. মোসলেহ উদ্দীন ফরিদ যশোর-২ (চৌগাছা-ঝিকরগাছা), ডা. মুহাম্মদ আবু নাছের চট্টগ্রাম-৮ (বোয়ালখালী, চান্দগাঁও, আংশিক পাচঁলাইশ), ডা. এ কে এম আবদুল হামিদ টাঙ্গাইল-৬, ডা. এসএম খালিদুজ্জামান (ঢাকা-১৭), ডা. এ টি এম রেজাউল করিম চট্টগ্রাম-৭ (রাঙ্গুনিয়া), ডা. আব্দুল বারী রাজশাহী-৪ (বাগমারা), ডা. আব্দুর রহিম সরকার গাইবান্ধা-৫ (গোবিন্দগঞ্জ) ও হোমিওপ্যাথি চিকিৎসক ফখরুদ্দিন মানিক ফেনী-৩ (দাগনভূঞা-সোনাগাজী)।
এনডিএফের অফিস সম্পাদক ডা. একেএম জিয়াউল হক আজ শনিবার (৮ নভেম্বর) দুপুরে মেডিভয়েসকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
ডা. শফিকুর রহমান
এনডিএফ অফিস সম্পাদকের তথ্যানুসারে, ঢাকা-১৫ আসনে লড়বেন দলের আমীর ডা. শফিকুর রহমান।
তিনি ১৯৫৮ সালের ৩১ অক্টোবর মৌলভীবাজার জেলার কুলাউড়া উপজেলার ভাটেরা ইউনিয়নে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা মরহুম মোহাম্মদ আবরু মিয়া এবং মাতা মরহুমা খাতিরুন নেছা। তিন ভাই ও এক বোনের মধ্যে তিনি তৃতীয়।
শফিকুর রহমান ১৯৭৪ সালে স্থানীয় বরমচাল উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি এবং সিলেট এমসি কলেজ থেকে ১৯৭৬ সালে কৃতিত্বের সাথে এইচএসসি পাস করেন। এর পর ভর্তি হন সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজে (সিওমেক)। সেখান থেকে ১৯৮৩ সালে এমবিবিএস সম্পন্ন করার পর চিকিৎসা সেবার পাশাপাশি রাজনীতিতে আত্মনিয়োগ করেন।
১৯৭৩ সালে জাসদ ছাত্রলীগে যোগদানের মাধ্যমে তাঁর ছাত্র রাজনীতিতে পথচলা শুরু হয়। জাসদ ছেড়ে ১৯৭৭ সালে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরে যোগ দেন তিনি। শফিকুর রহমান সিওমেক ছাত্রশিবিরের সভাপতি এবং সিলেট শহর শাখার সভাপতি ছিলেন।
পরবর্তীতে ১৯৮৪ সালে জামায়াতে ইসলামীতে যোগদান ডা. শফিকুর রহমান। তিনি সিলেট শহর, জেলা ও মহানগরী আমীর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৬ সালে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল নিযুক্ত হন তিনি। ২০১৯ সালের ১২ নভেম্বর জামায়াতে ইসলামীর রুকনদের (সদস্য) প্রত্যক্ষ ভোটে আমীর নির্বাচিত হন এবং ২০১৯ সালের ৫ ডিসেম্বর ২০২০-২০২২ কার্যকালের জন্য আমির হিসেবে শপথগ্রহণ করেন। ২০২২ সালের ৩১ অক্টোবর জামায়াতের রুকনদের (সদস্য) ভোটে দ্বিতীয়বারের মতো আমীর হন এবং ২০২২ সালের ১৮ নভেম্বর ২০২৩-২০২৫ কার্যকালের জন্য তিনি আমীর হিসেবে দ্বিতীয়বারের মতো শপথ গ্রহণ করেন এবং সংগঠনের আমীর হিসেবে বহাল আছেন।
ডা. শফিকুর রহমান ১৯৮৫ সালে ডা. আমিনা বেগমের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। ডা. আমিনা অষ্টম জাতীয় সংসদের সদস্য ছিলেন। ডা. শফিকুর রহমান দুই মেয়ে ও এক ছেলের জনক। বড় মেয়ে এফসিপিএস (কার্ডিওলোজি) অধ্যয়নরত। ছোট মেয়ে এমবিবিএস ও এমপিএইচ ডিগ্রি অর্জনের পর একটি বেসরকারি মেডিকেল কলেজের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত আছেন। একমাত্র ছেলে এমবিবিএস শেষ করে চিকিৎসা সেবায় নিয়োজিত আছেন।
ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহের
কুমিল্লা-১১ (চৌদ্দগ্রাম) আসনে প্রার্থী হয়েছেন জামায়াতের নায়েবে আমীর ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহের।
ডা. তাহেরের জন্ম ১৯৫৮ সালে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার সৈয়দ পরিবারে। পিতা মাওলানা সৈয়দ মাজহারুল হক হায়দারি ছিলেন একজন ইসলামের প্রচারক, বক্তা ও পণ্ডিত। মা আকসির-ই-জাহান চৌধুরানী, চট্টগ্রামের ‘কাশগর’ মুসলিম জমিদার পরিবারের সদস্য। ডা. তাহেরের পাঁচ ভাই ও তিন বোন।
তিনি অষ্টম সংসদ নির্বাচনে অংশ নেন এবং প্রথমবারের মতো সদস্য নির্বাচিত হন।
আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের পঞ্চম ও অষ্টম শ্রেণীতে ট্যালেন্টপুলেন্টে বৃত্তি লাভ করেন। বৃহত্তর কুমিল্লা বোর্ডের অধীনে এসএসসি পরীক্ষায় তৃতীয় স্থান অর্জন করেন এবং চট্টগ্রাম কলেজ থেকে ১৯৭৫ সালে এইচএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। এরপর তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস সম্পন্ন করেন।
তিনি ডা. হাবিবা আক্তার চৌধুরীর সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। ডা. হাবিবা ঢাকার ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের রেডিওলজি ও ইমেজিং বিভাগের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এ দম্পতির তিন মেয়ে এবং এক ছেলে আছে।
ঢাকা মেডিকেল কলেজে (ঢামেক) ছাত্র রাজনীতি যুক্ত হওয়ার দুই বছরের মধ্যে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্র শিবিরের সদস্য হন আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের। তিনি ঢামেক ছাত্রশিবির ও ঢাকা শহর শাখার সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ঢামেকে অধ্যয়নের সময় তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজ ছাত্র কেন্দ্রীয় ইউনিয়নের (ঢামেকসু) সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন।
পরবর্তীতে ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক এবং ১৯৮৫-৮৬ এবং ১৯৮৬-৮৭ সেশনে কেন্দ্রীয় সভাপতি হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন।
অধ্যাপক ডা. মাহমুদ হোসেন বকাউল
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শরীয়তপুর-২ (নড়িয়া-সখিপুর) আসনে জামায়াতের প্রার্থী ন্যাশনাল ডক্টরস ফোরামের (এনডিএফ) সেক্রেটারি অধ্যাপক ডা. মাহমুদ হোসেন বকাউল। তিনি বাংলাদেশ শিশু হাসপাতালের পরিচালনা পর্ষদের অন্যতম সদস্য।
অধ্যাপক ডা. কর্নেল (অব.) জেহাদ খান
কিশোরগঞ্জ-৩ (করিমগঞ্জ-তাড়াইল) আসনে জামায়াতের মনোনয়ন পেয়েছেন অধ্যাপক ডা. কর্নেল (অব.) জেহাদ খান।
তিনি ঢাকার ইবনে সিনা হাসপাতালে কার্ডিওলজিস্ট হিসেবে কর্মরত আছেন। পাশাপাশি তিনি দি ইবনে সিনা ফার্মাসিউটিক্যাল ইন্ডাস্ট্রি লিমিটেডের অন্যতম পরিচালক।
অধ্যাপক ডা. কর্নেল (অব.) জেহাদ খান ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালের (সিএমএইচ) হৃদরোগ বিভাগের প্রধান হিসেবে দীর্ঘদিন কর্মরত ছিলেন। তিনি কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলার জাফরাবাদ এলাকার সন্তান।
অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর
ডা. একেএম জিয়াউল হকের তথ্য মতে, রাজশাহী সদর-২ (সদর) আসনে জামায়াতের প্রার্থী হিসেবে মনোয়ন পেয়েছেন অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর। তিনি রাজশাহী মহানগর জামায়াতের নায়েবে আমীর হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
ডা. সুলতান আহমেদ
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বরগুনা-২ (পাথরঘাটা, বামনা ও বেতাগী) আসনে দলের প্রার্থী হিসেবে লড়বেন ডা. সুলতান আহমেদ। তিনি আল মানার হাসপাতাল লিমিটিডের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান।
ডা. একেএম ফজলুল হক
এনডিএফ অফিস সম্পাদকের তথ্যানুসারে, ডা. একেএম ফজলুল হক চট্টগ্রাম-৯ (চান্দগাঁও, ডবলমুরিং) আসনে জামায়াতের মনোনয়ন পেয়েছেন।
চিকিৎসক, রাজনীতিবিদ, উদোক্তা, শিক্ষানুরাগী ও সমাজসেবক হিসেবে সুনাম কুড়ানো ডা. ফজলুল হক চট্টগ্রাম মহানগর জামায়াতের সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
ডা. আবু বকর সিদ্দিক
আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মানিকগঞ্জ-১ আসনে (ঘিওর, দৌলতপুর, শিবালয়) জামায়াতের প্রার্থী হয়েছেন ডা. আবু বকর সিদ্দিক। তিনি ইউরো বাংলা হার্ট হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি)।
ডা. মোহাম্মদ আব্দুল মোবিন
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চাঁদপুর-২ (মতলব উত্তর, মতলব দক্ষিণ) আসনে জামায়াতের প্রার্থী ডা. মোহাম্মদ আব্দুল মোবিন। তিনি ১৯৭৯ সিলেট এমএ জি ওসমানি মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস পাস করেন। ডা. মোবিন ছিলেন সিওমেকের ১১তম ব্যাচের শিক্ষার্থী।
১৯৮০ সালে কুষ্টিয়া জেলার অধীনে চুয়াডাঙ্গা টিবি ক্লিনিকে চাকরি শুরুর মধ্য দিয়ে তাঁর কর্মজীবনের সূচনা হয়। পরে কুমিল্লার লাকসাম স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন। ১৭ বছর সেবায় যুক্ত থাকার পর খাগড়াছড়ি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দায়িত্ব পালন করে ১৯৯৪ সালে সরকারি চাকরি থেকে স্বেচ্ছায় অবসরে যান ডা. মোবিন। এর পর কুমিল্লার লাকসামে নিজের গড়া একটি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে সেবায় যুক্ত হন তিনি।
ডা. ফরিদুল আলম
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-১২ (পটিয়া) আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী হিসেবে লড়বেন ডা. ফরিদুল আলম। তিনি চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন হাসপাতালের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক।
ডা. মোসলেহ উদ্দীন ফরিদ
যশোর-২ (চৌগাছা-ঝিকরগাছা) আসনে জামায়াত মনোনীত সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী ডা. মোসলেহ উদ্দীন ফরিদ।
এনডিএফ সূত্র জানিয়েছে, প্রতিথযশা শিশু হৃদরোগ ও ইনটেনসিভ কেয়ার (আইসিইউ) বিশেষজ্ঞ ডা. ফরিদ যশোর সরকারি মাইকেল মধুসূদন (এমএম) কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ মরহুম শরীফ হোসেনের ছেলে।
তার জন্ম ১৯৬১ সালে যশোরের খড়কি ঐতিহ্যবাহী পীর বাড়িতে। তিনি ১৯৭৭ সালে ঝিনাইদহ ক্যাডেট কলেজ থেকে এসএসসি এবং ১৯৭৯ সালে একই প্রতিষ্ঠান থেকে এইচএসসি পাস করেন।
পরে ভর্তি হন ঢাকা মেডিকেল কলেজে। তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজ শাখা ছাত্র শিবিরের সভাপতি ছিলেন। সেখান থেকে এমবিবিএস পাস করে যোগ দেন ঢাকার তৎকালীন পিজি হাসপাতালে। সেখানে দুই বছর কাজ করে উচ্চ শিক্ষার জন্য যুক্তরাজ্যে চলে যান। সেখানে এমআরসিপিসিএইচ, এফআরসিপিসিএইচ এবং ডিসিএইচ ডিগ্রি নেন।
ডা. মোসলেহ উদ্দীন ফরিদ সেখানে ইউনিভার্সিটি হসপিটালস বার্মিংহামে কার্ডিওলজি বিভাগের কনসালটেন্ট হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তিনি ইউরোপ-বাংলাদেশ ফেডারেশন অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির ডিরেক্টর, আল কুরআন একাডেমি লন্ডনের ট্রাস্টি, ইডেন একাডেমি কভেন্ট্রি ইউকের ট্রাস্টি এবং সেন্টার ফর অল্টারনেটিভ ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন ইউকের প্রেসিডেন্ট হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন।
দলের আহ্বানে সাড়া দিয়ে ব্রিটিশ নাগরিকত্ব ছেড়ে দেশে আসেন ডা. ফরিদ। বর্তমানে আদ্ দ্বীন হাসপাতালে কর্মরত আছেন তিনি।
ডা. মুহাম্মদ আবু নাছের
চট্টগ্রাম-৮ (বোয়ালখালী, চাঁন্দগাও, বায়েজিদ ও পাঁচলাইশ আংশিক) আসনে জামায়াতের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী ডা. মুহাম্মদ আবু নাছের।
ডা. এ কে এম আবদুল হামিদ
টাঙ্গাইল-৬ আসনে জামায়াতের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী ডা. এ কে এম আবদুল হামিদ। তিনি ন্যাশনাল ডক্টরস ফোরামের জেলা সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তার স্ত্রী লুৎফুন নাহার টাঙ্গাইল ধলেশরী হাসপাতালের ভাইস চেয়ারম্যান।
ডা. আবদুল হামিদের দুই ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। এর মধ্যে বড় ছেলে ডা. খুররাম জাহ মুরাদ টাঙ্গাইলের কুমুদিনী মেডিকেল কলেজের নাক, কান, গলা বিভাগের রেজিস্ট্রার। ডা. মুরাদের স্ত্রী ডা. সিনথিয়া আলী ধলেশরী হাসপাতালে গাইনি চিকিৎসক হিসেবে কর্মরত আছেন।
আরেক ছেলে ব্যারিস্টার হাসনাত জামিল বাংলাদেশ মানবাধিকার বাস্তবায়ন ফাউন্ডেশনের সহকারী মহাসচিব ও নাগরপুর উপজেলা যুব জামায়াতের ক্রীড়া সম্পাদক। ব্যারিস্টার হাসনাতের স্ত্রী ডা. উর্বা রিয়াজ মীর কুমুদিনী মেডিকেল কলেজের ইন্টার্ন চিকিৎসক।
ডা. আবদুল হামিদের একমাত্র মেয়ে ডা. সুরভী বিনতে হামিদ ইবনে সিনা মেডিকেল কলেজে লেকচারার হিসেবে কর্মরত আছেন।
ডা. এসএম খালিদুজ্জামান
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১৭ আসনে জামায়াতে ইসলামীর মনোনয়ন পেয়েছেন ডা. এসএম খালিদুজ্জামান। তিনি বাংলাদেশ ফার্টিলিটি হাসপাতালের চেয়ারম্যান।
ডা. এসএম খালিদুজ্জামারে জন্ম ১৯৮৪ সালে খুলনার পাইকগাছা উপজেলার কাশিমনগর গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে। দুই ভাই ও এক বোনের মধ্যে তিনি সর্বকনিষ্ঠ। তাঁর স্ত্রী ডা. উম্মে হাবিবা শারমিন ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস পাস করে বর্তমানে বাংলাদেশ ফার্টিলিটি হাসপাতালে কর্মরত আছেন। এ চিকিৎসক দম্পতির তিন মেয়ে ও দুই ছেলে রয়েছে।
তিনি প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনীতে জেলা পর্যায়ে তৃতীয় স্থান এবং অষ্টম শ্রেণিতে বৃত্তি লাভ করেন। এসএসসিতে উপজেলায় সর্বাধিক নম্বর পেয়ে প্রথম বিভাগে এবং এইচএসসিতে রেকর্ড সংখ্যক নম্বর পেয়ে প্রথম বিভাগে উত্তীর্ণ হন। পরবর্তীতে খুলনা মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস এবং ভারতের একটি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উচ্চতর ডিগ্রি এমএসসি (ক্লিনিক্যাল এমব্রায়োলজি) অর্জন করেন।
ডা. এ টি এম রেজাউল করিম
চট্টগ্রাম-৭ (রাঙ্গুনিয়া) আসনে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াতের প্রার্থী ডা. এ টি এম রেজাউল করিম। তিনি চট্টগ্রাম পার্কভিউ হসপিটালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) এবং রাজধানীর ম্যাক্স ড্রাগ লিমিটেডের চেয়ারম্যান।
করোনা মহামারীতে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে রোগীদের পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন এই অর্থোপেডিক সার্জন। এর সুবাদে এলাকায় 'কোভিড যোদ্ধা' হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেন তিনি।
ডা. রেজাউল করিম ১৯৬৭ সালে রাঙ্গুনিয়ার হোসনাবাদ ইউনিয়নের লালানগর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। খীলমোগল রসিক উচ্চ বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক শেষ করে ভর্তি হন সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজে। তিনি ১৯৯৩ সালে এমবিবিএস পাস করেন। পরবর্তীতে ডিপ্লোমা ইন অর্থোপেডিক্স ও এম.এস (অর্থোপেডিক্স) সম্পন্ন করেন।
ছাত্রজীবনে দুই মেয়াদে ওসমানী মেডিকেল কলেজ ছাত্র শিবিরের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। চিকিৎসকদের সংগঠন বাংলাদেশ মেডিকেল এসোসিয়েশনের (বিএমএ) নির্বাচনে বিভিন্ন পদে একাধিকবার নির্বাচিত হন এনডিএফ চট্টগ্রাম শাখার এই সভাপতি।
ডা. আব্দুল বারী
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজশাহী-৪ (বাগমারা) আসনে প্রার্থী হয়েছেন উপজেলা জামায়াতের নায়েবে আমির ডা. আব্দুল বারী। তিনি রাজশাহী মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস সম্পন্ন করার পর নিজের প্রতিষ্ঠিত ভবানীগঞ্জ ক্লিনিকে রোগীদের স্বাস্থ্যসেবা দিয়ে আসছেন।
ডা. আব্দুল বারী তরুণদের প্রত্যাশা পূরণ এবং সমৃদ্ধ ও সম্প্রীতির বাগমারা গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন।
ডা. আব্দুর রহিম সরকার
গাইবান্ধা জেলা জামায়াতের আমির ডা. আব্দুর রহিম সরকারকে গাইবান্ধা-৫ (গোবিন্দগঞ্জ) থেকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। তিনি রাজশাহী মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস সম্পন্ন করেন।
ফখরুদ্দিন মানিক
ফেনী-৩ (সোনাগাজী-দাগনভুঞা) আসনে জামায়াতের প্রার্থী হোমিওপ্যাথি চিকিৎসক ফখরুদ্দিন মানিক। তিনি সরকারি হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল কলেজ থেকে ডিগ্রি অর্জন করেন।
টিআই/