ব্লাড ক্যানসার হওয়ার কারণ কী?
ব্লাড ক্যানসারের নির্দিষ্ট কোনো কারণ নির্ধারণ করা কঠিন। তবে বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে কিছু উপাদান রয়েছে, যেগুলোর ব্লাড ক্যানসারের পেছনে ভূমিকা থাকতে পারে।
প্রথমত, জেনেটিক উপাদান (বংশগত কারণ)— যদি কোনো ব্যক্তির পরিবারে আগে ব্লাড ক্যানসারের ইতিহাস থাকে, তাহলে সেই পরিবারের অন্য সদস্যদের মধ্যে এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা সাধারণ পরিবারের তুলনায় বেশি।
দ্বিতীয়ত, কিছু জেনেটিক রোগ (উৎপত্তিগত রোগ) যেমন ডাউন সিনড্রোম—এই রোগে আক্রান্ত শিশুদের অ্যাকিউট লিউকেমিয়া হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি থাকে।
তৃতীয়ত, যদি কোনো ব্যক্তির পূর্বে ক্যানসারের চিকিৎসা নেওয়ার ইতিহাস থাকে (বিশেষ করে সলিড ম্যালিগন্যান্সি চিকিৎসায় রেডিওথেরাপি বা কেমোথেরাপি গ্রহণ করে থাকেন), তাহলে এই চিকিৎসার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় তার ব্লাড ক্যানসার হওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে।
চতুর্থত, যারা দীর্ঘসময় ধরে বিপজ্জনক পদার্থ বা রেডিয়েশনের সংস্পর্শে থাকেন, যেমন—কারখানায় রংয়ের কাজ করেন বা কার্বামাইড জাতীয় রাসায়নিকের সংস্পর্শে থাকেন, তাদের ব্লাড ক্যানসারের ঝুঁকি বেশি দেখা যায়।
বর্তমানে, আমাদের দেশসহ সারা বিশ্বে যৌথ পরিবারের পরিবর্তে একক পরিবারের প্রবণতা বাড়ছে। এর ফলে আধুনিক জীবনযাত্রা, শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা, এবং স্থূলতা (অবিসিটি) বেড়ে যাওয়ার কারণে লিম্ফোমা হওয়ার সম্ভাবনাও কিছুটা বেড়েছে।
সর্বশেষ বলা যায়, কিছু ভাইরাস রয়েছে যেগুলোর সঙ্গে ব্লাড ক্যানসারের সম্পর্ক রয়েছে। যেমন এপস্টেইন-বার ভাইরাস যা লিম্ফোমা এর সঙ্গে সম্পর্কিত। এছাড়া হিউম্যান টি-সেল লিউকেমিয়া ভাইরাস যা কিছু ক্ষেত্রে টি-সেল লিউকেমিয়া তৈরি করতে পারে।
টিআই/