২৩ অগাস্ট, ২০২৫ ০৭:৫৭ পিএম

ইনফ্লুয়েঞ্জা সংক্রমণের হার ৫৯ শতাংশের বেশি, ১৮ বছরে সর্বোচ্চ

ইনফ্লুয়েঞ্জা সংক্রমণের হার ৫৯ শতাংশের বেশি, ১৮ বছরে সর্বোচ্চ
ছবি: মেডিভয়েস

মেডিভয়েস রিপোর্ট: চলতি মৌসুমে ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা গত ১৮ বছরের তুলনায় সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইডিসিআর) ও আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশ (আইসিডিডিআর,বি) যৌথ জরিপ অনুযায়ী, জুলাই মাসে ৫৯.২ শতাংশ রোগীর নমুনায় ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে।

এ অবস্থায় সতর্কতা জারি করে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে আইইডিসিআর। ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর জন্য ফ্লু ভাইরাসের টিকা নেওয়ার পরামর্শও দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

২০০৭ সাল থেকে ন্যাশনাল ইনফ্লুয়েঞ্জা সেন্টারের (এনআইসি) অধীনে যৌথভাবে দুটি জরিপ করে আসছে আইইডিসিআর ও আইসিডিডিআর,বি। এর একটি হলো—ন্যাশনাল ইনফ্লুয়েঞ্জা সার্ভেইলেন্স ইন বাংলাদেশ (এনআইএসবি), অপরটি হসপিটাল বেজড ইনফ্লুয়েঞ্জা সার্ভেইলেন্স ইন বাংলাদেশের (এইচবিআইএস)।

আইইডিসিআর বলছে, ইনফ্লুয়েঞ্জা সার্ভেলেন্স থেকে প্রাপ্ত চলতি বছরের জুলাই মাসের উপাত্ত বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, ২৪৫৫ জন সম্ভাব্য ইনফ্লুয়েঞ্জা রোগীর নমুনা পরীক্ষায় ১৪৫৩ জন রোগীর ইনফ্লুয়েঞ্জা শনাক্ত হয়, যা নমুনা পরীক্ষার ৫৯.২ শতাংশ। এ ছাড়া এটি সার্ভে কার্যক্রমের শুরু থেকে এ যাবত কালের মধ্যে সর্বোচ্চ শনাক্ত হার।

সার্ভেলেন্সের তুলনামূলক একটি চিত্রে দেখা যায়, চলতি বছরের জুলাইয়ে ইনফ্লুয়েঞ্জা শনাক্তের হার ৫৯.২ শতাংশ, যেখানে গত বছরের জুলাইয়ে ছিল ২১.৫ শতাংশ। অবশ্য সে বছরের সর্বোচ্চ শনাক্তের হার ছিল ৩৪.৬ শতাংশ, যা শনাক্ত হয়েছিল জুন মাসে। এরপর কাছাকাছি শনাক্তের হার মে মাসে ছিল ২৯.৭ শতাংশ। এ ছাড়া ২০২৩ সালের সর্বোচ্চ শনাক্তের হার আগস্ট মাসে ছিল ৩৯.৭ শতাংশ। ওই বছরের জুলাইয়ে ৩৩.৪% এবং সেপ্টেম্বরে শনাক্তের হার ছিল ২৫.৭% শতাংশ।

প্রতিষ্ঠানটির বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সাম্প্রতিক কালে দেখা যাচ্ছে যে কাশি, জ্বর, শ্বাসকষ্ট নিয়ে অনেক রোগী হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য যাচ্ছেন, যাদের মধ্যে অধিকাংশই ইনফ্লুয়েঞ্জা রোগে আক্রান্ত বলে প্রতিয়মান হচ্ছে।

এপ্রিল থেকে সেপ্টেম্বর বাংলাদেশে ইনফ্লুয়েঞ্জার (ফ্লু) মৌসুম উল্লেখ করে এই সময়ে করণীয় উল্লেখ করা হয়েছে আইইডিসিআরের বিজ্ঞপ্তিতে। এগুলো হলো—

♦ সাবান পানি অথবা হ্যান্ড স্যানিটাইজার দিয়ে ঘন ঘন হাত পরিষ্কার করুন।
♦ কাশি শিষ্টাচার মেনে চলুন। হাঁচি-কাশি দেওয়ার সময় টিস্যু দিয়ে বা বাহুর ভাজে নাক-মুখ ঢেকে রাখুন। ব্যবহৃত টিস্যু সাথে সাথে ঢাকনাযুক্ত পাত্রে ফেলে দিন এবং সাবান পানি অথবা হ্যান্ড স্যানিটাইজার দিয়ে হাত পরিষ্কার করে ফেলুন।
♦ আপনার যদি জ্বর, কাশি, শ্বাসকষ্ট থাকে তবে সুস্থ্য ব্যক্তিদের থেকে দূরে থাকুন।
♦ যথাসম্ভব জনসমাগম এড়িয়ে চলুন।
♦ প্রয়োজনে মাস্ক ব্যবহার করুন।
♦ ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠী বিশেষ করে পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশু, ৬৫ বছরের বেশি বয়সী, যারা দীর্ঘমেয়াদি বিভিন্ন রোগে ভুগছেন, গর্ভবতী নারী—এদের জন্য প্রতি বছর ফ্লু মৌসুম শুরুর আগে ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাসের টিকা নেওয়া দরকার।

এনএআর/

মেডিভয়েসের জনপ্রিয় ভিডিও কন্টেন্টগুলো দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন MedivoiceBD ইউটিউব চ্যানেল। আপনার মতামত/লেখা পাঠান [email protected] এ।
  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত