মেডিকেল সামগ্রীর আলাদা আইন ও নিবন্ধন বিধিমালার দাবি রিএজেন্ট ব্যবসায়ী সমিতির
মেডিভয়েস রিপোর্ট: স্বতন্ত্র আইন ও আলাদা নীতিমালা করার দাবি জানিয়েছেন রিএজেন্ট ব্যবসায়ী সমিতি ডায়াগনোস্টিক রিঅ্যাজেন্ট অ্যান্ড ইকুইপমেন্ট ট্রেডার্স অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশ (ড্রেটাব)। বৃহস্পতিবার (১৪ আগস্ট) রাজধানীর ইস্কাটনের অ্যাবাকাস কনভেনশন সেন্টারে অ্যাসোসিসেশনের বার্ষিক সাধারণ সভায় এই দাবি জানানো হয়।
সংগঠনের সভাপতি জামাল উদ্দীনের সভাপতিত্বে সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম খান (আবু)। অনুষ্ঠানে বক্তব্যে রিএজেন্ট ব্যবসায়ীদের বিভিন্ন সমস্যা নিরসনকল্পে সম্প্রতি গৃহীত বিভিন্ন কার্যক্রম তুলে ধরেন নেতৃবৃন্দ।
এ ব্যবসার প্রতিবন্ধকতা ও তা উতরে যাওয়ার ইতিহাস তুলে ধরার পাশাপাশি অনুষ্ঠানে জানানো হয়, ২০১৬ সালে একটি স্মারকের মাধ্যমে চিকিৎসা সামগ্রী আমদানি করার ক্ষেত্রে অনাপত্তিপত্র (এনওসি) অথবা নিবন্ধন ছাড়া আমদানি নিষিদ্ধ করা হয়। তখন ডায়াগনোস্টিক রিঅ্যাজেন্ট ও জৈব নমুনা ব্যবহার করে রোগ নির্ণয় যন্ত্র (আইভিডি) খাত সংশ্লিষ্টদের ব্যবসা প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। ওই মুহূর্তে বিএমএ ভবন, মিটফোর্ডে যে সমিতি আছে, তাদের সাথে যুগপৎভাবে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ—ধর্মঘট, প্রেসক্লাব ও রিপোর্টার্স ইউনিটিতে সংবাদ সম্মেলন করা এবং পরবর্তীতে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সঙ্গে সমস্যা নিরসনের জন্য আলোচনা করা হয়।
এতেও ফল না এলে হাইকোর্টে যেতে হয় উল্লেখ করে তারা বলেন, স্টে-অর্ডার নিয়ে ২০১৭ সাল থেকে অদ্যবধি আমদানি এবং ব্যবসা চলমান আছে। এই কার্যক্রমে ড্রেটাব অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছে।
সভায় আরও জানানো হয়, ‘পরবর্তীতে ২০২৩ সালে ওষুধ ও প্রসাধনী আইন প্রণয়ন করা হয়। এতে রিঅ্যাজেন্ট ব্যবসাকে ওষুধের নিয়ম-নীতির মধ্যে ফেলা হয়। ওষুধ বাংলাদেশে তৈরি হয় আর সেই ওষুধের জন্য রেসিপি অনুমোদনসহ বিভিন্ন ধাপ থাকে—যা মূলত একটি উৎপাদন প্রক্রিয়ার অংশ। কিন্তু আমাদের ৯৫% পণ্যই আমদানি-নির্ভর এবং এর গুণগত মান বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত।’
‘তারপরও কী দিয়ে বানানো হয়েছে, এ ব্যাপারে আমাদের প্রথমে রেসিপি অনুমোদন নিতে হবে। যদিও আমরা নিজেরা এসব তৈরি করি না, তবুও অনুমোদন নিতে হবে, নিবন্ধন করতে হবে। একটি নিবন্ধনের ফি দিতে হয় ৬৫ হাজার টাকা, অথচ কোনো পণ্যের এক বছরে বিক্রি হয় গড়ে ৬৫ হাজার বা ১ লাখ টাকারও কম’—যোগ করেন তারা।
সংশ্লিষ্টরা বলেন, এভাবে ওষধ ও প্রসাধনী আইনের মধ্যে ওষুধের ক্যাটাগরিতে ফেলার কারণে আবার নতুন করে আরেকটি সমস্যায় পড়ে এ ব্যবসা খাত। সে সমস্যা নিরসনে চারটি সংগঠন—বাংলাদেশ ইকুইপমেন্ট ইমপোর্ট অ্যান্ড সাপ্লাই অ্যাসোসিয়েশন (যা ২০২২ সালে নবগঠিত), মিটফোর্ডভিত্তিক বাংলাদেশ মেডিকেল ইন্সট্রুমেন্ট অ্যান্ড হসপিটাল ডিপার্টমেন্ট ডিলার্স অ্যান্ড ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন, বিএমএ ভবনের সকল মালিক কল্যাণ সমিতি—একসাথে লিয়াজোঁ কমিটি গঠন করে।
এই কমিটি প্রথমে কার্যপদ্ধতি ঠিক করে এবং ব্যাপক জাতীয় প্রচারণার জন্য প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে, যা বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক গণমাধ্যমে যথেষ্ট কাভারেজ পায় এবং জাতীয় পর্যায়ে সচেতনতা ও ঐক্যমত সৃষ্টি হয়।
তারা বলেন, ‘এর ধারাবাহিকতায় চলতি বছরের ২৩ জানুয়ারি জাতীয় প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে ব্যাখ্যা করা হয়—কেন মেডিকেল যন্ত্রপাতি ওষুধ থেকে আলাদা হওয়া উচিত, কেন আলাদা আইন ও আলাদা নিবন্ধন বিধিমালা থাকা উচিত। সেখানে আমরা জানাই, ওষুধের মতো রেসিপি অনুমোদন, ইন্ডেন্ট অনুমোদন, এফএসসি (যা আন্তর্জাতিকভাবে ওয়েবসাইটে থাকে) নিতে গেলে ৩-৪ হাজার মার্কিন ডলার খরচ হয় এবং প্রযুক্তিগত ও প্রশাসনিক নানা জটিলতা তৈরি হয়।’
বার্ষিক সাধারণ সভায় নিজেদের দাবি তুলে ধরে বক্তারা বলেন, ‘আমাদের দাবিগুলো হলো—মেডিকেল যন্ত্রপাতির জন্য আলাদা আইন, আলাদা বিধিমালা, ওষুধের মতো নিয়ম না রাখা এবং প্রযুক্তিগত ও প্রশাসনিক জটিলতা ও নিবন্ধন সমস্যাগুলোর সমাধান।’
তারা বলেন, ‘গত ২৩ জানুয়ারির পর ২৮ জানুয়ারি স্বাস্থ্য সংস্কার কমিশনে এই দাবিসহ একটি স্মারকলিপি পেশ করে রিএজেন্ট ব্যবসায়ী সমিতি। এর প্রতিফলন হলো, স্বাস্থ্য সংস্কার কমিশন তাদের সুপারিশমালায় স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, মেডিকেল যন্ত্রপাতির জন্য আলাদা আইন, বিধিমালা সহজ করা, ফি কমানো এবং উপযোগী বিধিমালা প্রণয়ন করা উচিত।’
তারা বলেন, ‘আমরা লিয়াজোঁ কমিটির পক্ষ থেকে সম্মিলিতভাবে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের (ডিজিডিএ) কাছে আবেদন পেশ করি এবং তাদের সাথে আলোচনা করি। ফলশ্রুতিতে ডিজিডিএও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এই বিধিমালা সংশোধনের জন্য সুপারিশমালা পেশ করেছে। অফিসিয়ালি ঘোষণা করা না হলেও ডিজিডিএ সূত্রে তারা জানতে পেরেছেন, ৬০-৬৫ হাজার টাকা ফি কমিয়ে সম্ভবত ৩০-৩৫ হাজার টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে, রেসিপি অনুমোদন করানোর বিষয় বাতিলের প্রস্তাব করা হয়েছে এবং আরও কিছু জটিলতা দূর করার সুপারিশ করা হয়েছে। এটি এখনও মন্ত্রণালয়ের বিবেচনাধীন।’
রিঅ্যাজেন্ট খাত সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা বলেন, লিয়াজোঁ কমিটির পক্ষ থেকে তারা মেডিকেল যন্ত্রপাতি নিবন্ধন ফি ও অন্যান্য জটিলতা দূরীকরণে কাজ করে যাচ্ছেন। টিও লাইসেন্সের চেষ্টাও চলমান আছে।
নিজেদের স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের অঙ্গীকার ব্যক্ত করার পাশাপাশি ব্যবসায়ীদের ঐক্যবদ্ধ থাকার অনুরোধ জানান নেতৃবৃন্দ। জনস্বাস্থ্যের মতো গুরুত্বপূর্ণ মহান সেবায় ভূমিকা পালনকারী সকল ব্যবসায়ীদের সর্বোচ্চ নৈতিকতার সঙ্গে জনগণকে সুলভে উন্নত মানসম্মত চিকিৎসা সামগ্রী সরববাহের জন্য সবাইকে অনুরোধ জানানো হয়।
অনুষ্ঠানে সংগঠনের বাৎসরিক আয়-ব্যয়ের হিসাব তুলে ধরেন কোষাধ্যক্ষ মো. শফিউল হাসান।
টিআই/এমইউ