১৮ জুন, ২০২৫ ১২:৫৬ পিএম

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে ইআরপিপি কর্মীদের অবস্থান কর্মসূচি পঞ্চম দিনে

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে ইআরপিপি কর্মীদের অবস্থান কর্মসূচি পঞ্চম দিনে
ছবি: সংগৃহীত

মেডিভয়েস রিপোর্ট: চাকরি স্থায়ীকরণ এবং রাজস্ব খাতে অন্তর্ভুক্ত করার দাবিতে পঞ্চম দিনের মতো স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেছেন কোভিড-১৯ ইমার্জেন্সি রেসপন্স অ্যান্ড প্যানডেমিক প্রিপার্ডনেস (ইআরপিপি) প্রকল্পের আউটসোর্সিং কর্মীরা। আজ বুধবার (১৮ জুন) সকাল ১০টা থেকে  এই অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেন তারা। তবে পাঁচদিন ধরে কর্মসূচি চললেও অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে কোনো সাড়া পাননি বলে অভিযোগ তাদের।

আন্দোলনরত মেডিকেল টেকনোলজিস্ট মো. শামীম শাহ মেডিভয়েসকে বলেন, ‘এখন পর্যন্ত স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা আমাদের কোনো আশ্বাস দেননি। তারা আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন না।’

অবস্থান কর্মসূচির কারণ সম্পর্কে তিনি জানান, করোনা মহামারীর ভয়াল সময়ে দেশজুড়ে ইআরপিপি প্রকল্পে এক হাজার চারজনের বিশাল জনবল নিয়োগ দেওয়া হয়। চিকিৎসক, নার্স, টেকনোলজিস্ট, ল্যাব অ্যাটেনডেন্ট, পরিচ্ছন্নতাকর্মীসহ বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালনকারী এসব কর্মী বর্তমানে পাচঁ মাস ধরে বেতন না পেয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

তিনি আরও জানান, প্রকল্পের কর্মীদের বাদ দেওয়ার জন্য গত ২৫ মে চিঠি দেওয়া হয়। যদিও প্রকল্প তহবিলে এখনো এক হাজার ৬৬৭ কোটি টাকা বরাদ্দ রয়েছে। অভিজ্ঞ জনবলকে বাদ দিয়ে শূন্য পদে নতুন নিয়োগ দিতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর তৎপর হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

তিনি বলেন, ‘সরকার বা স্বাস্থ্য অধিদপ্তর আমাদের পদগুলো বিলুপ্ত করছে না। বরং আমাদের হাতে গড়া আরটি পিসিআর ল্যাব কিংবা কোভিড ডেডিকেটেড আইসিইউ পরিচালনা করার জন্য আমাদের বাদ দিয়ে নতুন লোক নিতে উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। আমাদের পদেই নিয়োগ দেওয়ার জন্য বিভিন্ন মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, ইনস্টিটিউট ও জেলা সদর হাসপাতালের লোকবলের চাহিদা চেয়ে চিঠি পাঠিয়েছে।’

জানা গেছে, ইআরপিপি প্রকল্পের আওতায় জুনিয়র কনসালট্যান্ট (অ্যানেসথেসিয়া/ক্রিটিক্যাল কেয়ার) ১৬ জন, মেডিকেল অফিসার (আইসিইউ) ৮০, ল্যাব কনসালট্যান্ট ৩০, সিনিয়র স্টাফ নার্স ১৫০, মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ১২৬, ডাটা অপারেটর ১৯০, ল্যাব অ্যাটেনডেন্ট ৫১, ওয়ার্ড বয় ১০৪, আয়া ১০৩ ও পরিচ্ছন্নতাকর্মী ১৫১ জন ছিলেন। তাদের মধ্যে ২৫৯ জন রাজধানীতে, ১৫৩ জন পৌরসভা ও সিটি করপোরেশনে এবং ৫৯২ জন জেলা শহরে কোভিড ও ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসায় কর্মরত ছিলেন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২০ সালের মার্চ থেকে ধাপে ধাপে ইআরপিপি প্রকল্পে জনবল নিয়োগ দেওয়া হয় এবং ডিসেম্বর ২০২৪ পর্যন্ত বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে তাদের পারিশ্রমিক পরিশোধ করা হয়। যদিও প্রকল্পের মেয়াদ চলতি বছরের ৩০ জুন পর্যন্ত, তবে বিশ্বব্যাংকের ঋণচুক্তির মেয়াদ ২০২৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর শেষ হয়। পরবর্তীতে এ বছরের ৭ জানুয়ারি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত স্টিয়ারিং কমিটির ১৩তম সভায় ইআরপিপি প্রকল্পের মেয়াদ ছয় মাস বাড়িয়ে জুন পর্যন্ত বর্ধিত করার নীতিগত সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। এর ভিত্তিতে কর্মীদের মৌখিকভাবে দায়িত্বে বহাল থাকতে বলা হয়। তবে কর্মীদের অভিযোগ, জানুয়ারি থেকে মে মাস পর্যন্ত নিয়মিত কাজ করলেও কোনো বেতন পাননি।

তারা বলছেন, গত ২৫ মে হঠাৎ স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিকল্পনা ও গবেষণা শাখা একটি চিঠি দিয়ে তাদের দায়িত্ব থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেয়। এতে তারা হতবাক হন। একইসঙ্গে, তারা আশঙ্কা করছেন—একটি প্রভাবশালী মহল ইচ্ছাকৃতভাবে এই দক্ষ জনবলকে বাদ দিয়ে নতুন অদক্ষ লোক নিয়োগ দিতে চাইছে, যার মাধ্যমে ব্যক্তিস্বার্থ হাসিল করার চেষ্টা চলছে।

স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ থেকে ইতোমধ্যে বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট জনবল জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত অনুপস্থিত ছিল। কিন্তু ইআরপিপির কর্মীরা এই দাবি প্রত্যাখ্যান করে বলেন, তারা নির্ধারিত সময়ে কাজ করেছেন এবং হাজিরাশিট যথাযথভাবে পাঠানো হয়েছে। এই মিথ্যা ও বানোয়াট বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদও জানিয়েছেন তারা।

এনএআর/

মেডিভয়েসের জনপ্রিয় ভিডিও কন্টেন্টগুলো দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন MedivoiceBD ইউটিউব চ্যানেল। আপনার মতামত/লেখা পাঠান [email protected] এ।
  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত