চমেকে ছাত্রদল সন্দেহে খুন: ১২ ছাত্রলীগ নেতাকর্মীকে আত্মসমর্পণের নির্দেশ
মেডিভয়েস রিপোর্ট: চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের (চমেক) ছাত্রাবাসে ছাত্রদলকর্মী সন্দেহে ব্যাচেলর অব ডেন্টাল সার্জারি (বিডিএস) তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আবিদুর রহমান আবিদ হত্যা মামলায় খালাস পাওয়া ১২ আসামিকে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। আসামিরা ছাত্রলীগের তৎকালীন চমেক শাখার নেতাকর্মী।
ওই মামলার বাদীর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আজ মঙ্গলবার (২৯ এপ্রিল) বিচারপতি মো. জাকির হোসেন ও বিচারপতি সৈয়দ জাহেদ মনসুরের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন। একই সঙ্গে বিচারিক আদালতের দেওয়া রায় কেন বাতিল করা হবে না তা জানতে চেয়ে রুলও জারি করেছেন হাইকোর্ট।
আদালতে আজ শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী অ্যাডভোকেট মুহাম্মদ শিশির মনির, অ্যাডভোকেট ওজি উল্লাহ্। সঙ্গে ছিলেন অ্যাডভোকেট আজিমুদ্দিন পাটোয়ারি, অ্যাডভোকেট ইয়াছিন আলফাজ ও অ্যাডভোকেট মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম।
শুনানি শেষে অ্যাডভোকেট শিশির মনির সাংবাদিকদের বলেন, ‘আদালত আমাদের কাছে জানতে চেয়েছেন, এতো দিন পর কেন আমরা আসলাম। ২০১৯ সালে রায় হওয়ার পর ২০২৪ সালের আগস্ট মাসের আগ পর্যন্ত কেউ এ নিয়ে সাহসই করেননি। আবিদের মামা সাক্ষী দিতে গিয়েছিলেন, তাকে সাক্ষ্য দিতে দেওয়া হয়নি। উপরন্তু চারটি মামলার আসামি করে তাকে জেলে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। এজন্য তারা আদালতে আসতে পারেননি। এ কারণে এতো দেরি করে তারা আদালতে এসেছেন।’
এই হত্যাকাণ্ড নিয়ে সে সময় সংবাদ মাধ্যমগুলোর খবরের আলোকে ভীতিকর পরিস্থিতির কথা তুলে ধরেন শিশির মনির। বলেন, বিএনপি আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও ডা. শাহাদাত হোসেন লাশ দেখতে গিয়ে ক্ষমতাসীনদের বাঁধার কারণে ফিরে আসেন, দেখার সুযোগ পাননি।
এ সময় মামলার প্রক্রিয়ার কথা তুলে ধরেন এই জ্যেষ্ঠ আইনজীবী। বলেন, ‘রুলের ওপর শুনানি হবে। রুলটা অ্যাবসোলিউট করা হলে যারা বেখসুর খালাস পেয়েছিলেন, আসামি হিসেবে নতুন করে তাদের বিচার সংঘটিত হবে। আসামিরা ছাত্রলীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী ছিলেন।
আসামিরা হলেন তৎকালীন ছাত্রসংসদের ভিপি মফিজুর রহমান জুম্মা, চমেক ছাত্রলীগের সভাপতি সোহেল পারভেজ সুমন, সাধারণ সম্পাদক বিজয় সরকার, সহ-সাধারণ সম্পাদক হিমেল চাকমা, ফেরদৌস রাসেল, শান্ত দেবনাথ, মাহাফুজুর রহমান ধীমান, নাসির উদ্দিন পাটোয়ারী, দেবাশীষ চক্রবর্তী, মোস্তফা কামাল, রাশেদুর রেজা সানি ও সালমান মাহমুদ রাফসান।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, চমেক শাখা ছাত্রদলের কমিটি গঠনের চেষ্টা করায় ২০১১ সালের ১৯ অক্টোবর আবিদকে ছাত্রাবাসে কয়েক দফা পেটায় তৎকালীন ছাত্রলীগ নেতারা। এরপর তাকে পাঠিয়ে দেওয়া হয় বোনের বাসায়। দুদিন পর ২১ অক্টোবর রাতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান আবিদ।
তিনি কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার মধ্যম বড়ইতলী গ্রামের মৃত নুরুল কবির চৌধুরীর ছেলে।
এ ঘটনায় সাধারণ ছাত্র-ছাত্রীরা মেডিকেল কলেজ প্রশাসনিক ভবনের সামনে বিক্ষোভ করে। একাডেমিক কাউন্সিলের সভা শেষে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের তৎকালীন অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. সেলিম মো. জাহাঙ্গীর অনির্দিষ্টকালের জন্য মেডিকেল কলেজ বন্ধ ঘোষণা করেন। একই সঙ্গে ছাত্রসংসদ কার্যক্রম স্থগিত ও কলেজ ক্যাম্পাসে সব প্রকার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ করেন।
এ ঘটনায় আবিদের মামা নেয়ামত উল্লাহ বাদী হয়ে পাঁচলাইশ থানায় ছাত্রলীগ ও ছাত্রসংসদের ২২ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেছিলেন। ২০১২ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে মামলার তদন্ত শেষে পুলিশ ১২ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেন।
বিচার শেষে ২০১৯ সালের ১০ জুলাই আবিদ হত্যা মামলার রায়ে অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক জান্নাতুল ফেরদৌস চৌধুরী সব আসামিকে খালাস দেন।
পরে বাদী নেয়ামত উল্লাহ হাইকোর্টে আবেদন করেন।
এমইউ/