০৫ মার্চ, ২০২৫ ১০:৪২ এএম

রোহিঙ্গা শিশুদের সহায়তায় ৪০ কোটি টাকা দিবে জাপান

রোহিঙ্গা শিশুদের সহায়তায় ৪০ কোটি টাকা দিবে জাপান
ছবি: সংগৃহীত

মেডিভয়েস রিপোর্ট: রোহিঙ্গা শরণার্থীদের মানবিক প্রয়োজন মেটাতে ইউনিসেফ যে কার্যক্রম পরিচালনা করছে, তাতে সহায়তার জন্য জাপান সরকার আনুমানিক ৩৩ লাখ মার্কিন ডলার (প্রায় ৪০ কোটি বাংলাদেশি টাকা) বরাদ্দ করেছে। এই অনুদানের অর্থ দিয়ে ৪১ হাজার শিশুসহ বাংলাদেশে মোট ৬৫ হাজার রোহিঙ্গা শরণার্থীর কাছে সেবা পৌঁছে দেওয়া হবে। বাংলাদেশের কক্সবাজার ও নোয়াখালী জেলার ভাষাণচরে আশ্রয় শিবিরে থাকা রোহিঙ্গা শরণার্থীদের শিক্ষা, ওয়াশ (পানি, পয়ঃনিষ্কাশন ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা), স্বাস্থ্য ও পুষ্টি সেবা দেওয়া হবে।

মঙ্গলবার (৪ মার্চ) ঢাকায় ইউনিসেফের কার্যালয়ে এ বিষয়ে জাপান ও ইউনিসেফ বাংলাদেশের মধ্যে একটি চুক্তি সই হয়েছে। বাংলাদেশে জাপানের রাষ্ট্রদূত সাইদা শিনইচি এবং বাংলাদেশে ইউনিসেফের প্রতিনিধি রানা ফ্লাওয়ার্স নিজ নিজ পক্ষে চুক্তিতে সই করেন। এই চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে জাপানের রাষ্ট্রদূত সাইদা শিনইচি বলেন, ‘আমি ইউনিসেফের প্রচেষ্টার প্রশংসা করি, যারা রোহিঙ্গা শিবিরগুলোতে স্বাস্থ্য, শিক্ষা, পুষ্টি এবং পানি, পয়ঃনিষ্কাশন ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার (ওয়াশ) মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলোতে প্রতিটি শিশুর প্রয়োজন মেটাতে প্রত্যক্ষভাবে কাজ করে যাচ্ছে। জাপান থেকে ইউনিসেফের কাছে এই অনুদান এমন একটি সময়ে এসেছে, যখন রোহিঙ্গাদের মানবিক সহায়তার জন্য তহবিল যোগাড় করা আবশ্যক হয়ে উঠেছে। জাপান এই মানবিক সংকটের টেকসই সমাধানের লক্ষ্যে কাজ চালিয়ে যাবে এবং ইউনিসেফসহ আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোকে সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে।’

বাংলাদেশে ইউনিসেফের প্রতিনিধি রানা ফ্লাওয়ার্স বলেন, ‘রোহিঙ্গা শিশুরা প্রতিদিন বহুবিধ সমস্যার সঙ্গে লড়াই করে চলেছে। শিক্ষায় তাদের প্রবেশাধিকার সীমিত; তারা সাংস্কৃতিক প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি হয় এবং জনাকীর্ণ বসতিগুলোতে সব সময় পানিবাহিত রোগ, অপুষ্টি ও অপর্যাপ্ত স্বাস্থ্য সেবার ঝুঁকিতে থাকে। অন্য যে কোনো শিশুর মতো শিক্ষা, সুস্বাস্থ্য, সুরক্ষা ও পরিপূর্নভাবে বিকশিত হবার যথাযথ সুযোগ পাবার অধিকার তাদেরও আছে, এবং  এইমুহূর্তে তাদের এটা অন্য যে কোনো সময়ের চেয়ে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন। এসব অসহায় শিশুদের জরুরি সেবাগুলো নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে জাপান সরকারের কাছ থেকে যে জোরালো সহায়তা এসেছে, তার জন্য আমরা কৃতজ্ঞতা জানাই। এই অংশীদারত্ব প্রতিটি শিশুর অধিকার ও মর্যাদার সুরক্ষায় আমাদের যে অভিন্ন অঙ্গীকার রয়েছে, তার সাক্ষ্য দেয়, তা সে শিশু যেখানেই থাকুক না কেন, সেটা কোনো বিষয় নয়।’

সাত বছরেরও বেশি সময় আগে মিয়ানমারে হামলা ও সহিংসতার মুখে পালিয়ে লাখ লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে চলে আসেন। আগে থেকে বাংলাদেশে বসবাসরত রোহিঙ্গা শরণার্থীদের সঙ্গে যোগ হন তারা। বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে বড় এই শরণার্থী শিবিরে প্রায় পাঁচ লাখ রোহিঙ্গা শিশু বেড়ে উঠছে। তাদের অনেকের এই শিবিরে জন্ম হয়েছে শরণার্থী হিসেবে। এই রোহিঙ্গারা তাদের সুরক্ষা, খাবার, পানি, আশ্রয় ও স্বাস্থ্য সবকিছুর জন্য পুরোপুরিভাবে মানবিক সহায়তার ওপর নির্ভর করেন।

২০১৭ সালের আগস্ট হতে চলমান এই জরুরি পরিস্থিতির শুরু থেকেই জাপান বাংলাদেশে রোহিঙ্গা মানবিক সংকট মোকাবিলায় গৃহীত কার্যক্রমের একটি উল্লেখযোগ্য সহযোগী। এই সংকট মোকাবিলায় জাপান এখন পর্যন্ত আনুমানিক ২৪০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার জাতিসংঘের সংস্থাসমূহ ও এদেশের বেসরকারি সংস্থাগুলোকে (এনজিও) দিয়েছে। ইউনিসেফ, এই সংকটের প্রথম দিন থেকে শুরু করে এখন পর্যন্ত বাংলাদেশের শরণার্থী শিবিরগুলোতে প্রতিটি রোহিঙ্গা শরণার্থী শিশুর পরিষ্কার পানি, স্বাস্থ্য সেবা, সুরক্ষা, পুষ্টিকর খাবার ও শিক্ষার প্রয়োজন মেটাতে একেবারে মাঠ পর্যায়ে বাংলাদেশ সরকার ও অন্যান্য অংশীজনদের সঙ্গে মিলে একযোগে কাজ করে চলেছে।

এসআই/

মেডিভয়েসের জনপ্রিয় ভিডিও কন্টেন্টগুলো দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন MedivoiceBD ইউটিউব চ্যানেল। আপনার মতামত/লেখা পাঠান [email protected] এ।
  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
এক দিনে চিরবিদায় পাঁচ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক
করোনা ও বার্ধক্যজনিত অসুস্থতা

এক দিনে চিরবিদায় পাঁচ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক