২৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২৫ ০৬:২৮ পিএম

ঢাকার কামরাঙ্গীরচরে চিকিৎসাসেবার এক দশক পূর্ণ করল এমএসএফ

ঢাকার কামরাঙ্গীরচরে চিকিৎসাসেবার এক দশক পূর্ণ করল এমএসএফ
ছবি: সংগৃহীত

মেডিভয়েস রিপোর্ট: বাংলাদেশে বিনামূল্যে চিকিৎসা ও মানবিক সহায়তা প্রদান করা প্রতিষ্ঠান মেডিসিন্স স্যান্স ফ্রন্টিয়ার্স (এমএসএফ) বা সীমান্তবিহীন চিকিৎসক দল ঢাকার কামরাঙ্গীরচরে চিকিৎসাসেবার এক দশক পূর্ণ করেছে। আজ মঙ্গলবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) স্থানীয় স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারীদের কাছে পরিষেবাগুলো স্থানান্তর করার মাধ্যমে এক দশকেরও বেশি সময় ধরে চলা চিকিৎসা কার্যক্রমের সমাপ্তি হয়েছে।

জানা গেছে, ২০১০ সাল থেকে এমএসএফ কামরাঙ্গীরচরে প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করে আসছে। প্রাথমিকভাবে শিশু অপুষ্টির উপর গুরুত্ব দিয়ে এবং পরে এটি প্রসারিত হয়েছে বিদ্যমান জনগোষ্ঠীর বিভিন্ন অংশের গুরুতর স্বাস্থ্য চাহিদার প্রয়োজনীয়তার উপর লক্ষ্য করে। ২০১৩ সালে এমএসএফ শিশু অপুষ্টি থেকে কিশোরীদের যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্য (এসআরএইচ), যৌন ও লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা (এসজিবিভি) থেকে বেঁচে ফেরাদের যত্ন এবং কারখানার শ্রমিকদের পেশাগত স্বাস্থ্য (ওএইচ) পরিষেবা প্রদানের দিকেও মনোনিবেশ করে।

এছাড়াও এমএসএফ আলীনগর এবং মাদবর বাজারে ক্লিনিক পরিচালনা, ঢাকার কামরাঙ্গীরচরে ৩১ শয্যাবিশিষ্ট সরকারি হাসপাতালকে সহায়তা, মানসিক স্বাস্থ্যসেবা প্রদানসহ অনানুষ্ঠানিক কারখানাগুলোতে স্বাস্থ্যসেবার প্রবেশাধিকার উন্নত করতে এবং পেশাগত স্বাস্থ্য সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে আউটরিচ কার্যক্রম পরিচালনা করেছে।

এমএসএফের মেডিকেল টিম লিডার ক্রিস্টাবেল মাইয়েনগা বলেন, ‘গত দশ বছরে কামরাঙ্গীরচরে এমএসএফের স্বাস্থ্য কর্মসূচি সীমিত অধিকার এবং ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে কর্মরত ৭৭ হাজারেরও বেশি মানুষকে চিকিৎসাসেবা প্রদান করেছে, যার মধ্যে ১৪ বছরের কম বয়সী প্রায় এক হাজার শিশু রয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘যদিও বাংলাদেশে কিছু কর্মক্ষেত্র উন্নত হচ্ছে, তবুও বাংলাদেশ শ্রম শক্তি জরিপ ২০২২ অনুযায়ীএই ঝুঁকিপূর্ণ পেশার প্রায় ৮৫ শতাংশ বিপজ্জনক রয়ে গেছে।

প্রায় এক দশকেরও বেশি সময় ধরে এমএসএফ কামরাঙ্গীরচরে সেবা প্রদানের মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্যগত চ্যালেঞ্জগুলো জনসম্মুখে নিয়ে এসেছে। যৌন ও লিঙ্গ-ভিত্তিক সহিংসতার শিকার মানুষদের ক্ষেত্রে, সামাজিক অপবাদের ভয় এবং সহায়তা ব্যবস্থার প্রতি অবিশ্বাস, সাহায্য চাওয়ার ক্ষেত্রে এক বড় বাঁধা তৈরি করে। তা সত্ত্বেও, এমএসএফ  ১০ বছরে ১১ হাজার ২৯৫ জন সহিংসতার শিকার ব্যক্তিদের গুরুত্বপূর্ণ সেবা প্রদান করেছে।

এদিকে এমএসএফ যখন কামরাঙ্গীরচরের কার্যক্রম গুটিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়, তখন প্রকল্পটি কামরাঙ্গীরচর ৩১ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে সহায়তা অব্যাহত রাখতে একটি ‘বেসিক ইমার্জেন্সি অবস্টেট্রিক অ্যান্ড নিউবর্ন কেয়ার (বিইএমওএনসি)’ চালু করতে সহায়তা করে এবং লজিস্টিক ও সামান্য মানবসম্পদ সহায়তাসহ হাসপাতালের জন্য একটি বর্জ্য ব্যবস্থাপনা তৈরি করে। এই বিশেষ সহায়তা প্রজনন স্বাস্থ্য (এসআরএইচ) থেকে রোগীদের চিকিৎসা সেবা গ্রহণ কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে সাহায্য করবে।

প্রতিষ্ঠানটি বলছে, কামরাঙ্গীরচরে ৩১ শয্যা বিশিষ্ট সরকারি হাসপাতালে সহায়তা প্রদান করা সত্ত্বেও উল্লেখযোগ্য পরিমাণে চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে। এখানে দ্রুত নগরায়ণ, অতিরিক্ত ভিড়, অপর্যাপ্ত সরকারি অবকাঠামো, পরিবেশ দূষণ এবং বিশাল অভিবাসী জনগোষ্ঠীর দুর্বলতাপ্রায়শই শোষিত এবং মৌলিক সেবাগ্রহণে সীমিত সুযোগসম্প্রদায়ের উন্নত স্বাস্থ্যসেবার গ্রহণ কার্যক্রমকে ক্রমাগত চাপের মধ্যে রাখে।

এমএসএফ কামরাঙ্গীরচর হাসপাতালের প্রকল্প সমন্বয়কারী ক্রিস্টফ ফ্রিডল বলেন, ‘কামরাঙ্গীরচরে এমএসএফের উপস্থিতি শেষ হলেও, আমরা আশা করি অন্যান্য সংস্থাগুলো যৌন ও লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা থেকে বেঁচে ফেরাদের যত্ন এবং পেশাগত স্বাস্থ্যসেবার বিদ্যমান ঘাটতি পূরণে এগিয়ে আসবে এবং সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণদের জন্য ব্যাপক সেবার প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করবে।’

এসএইচবি/এনএআর/

মেডিভয়েসের জনপ্রিয় ভিডিও কন্টেন্টগুলো দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন MedivoiceBD ইউটিউব চ্যানেল। আপনার মতামত/লেখা পাঠান [email protected] এ।
প্যারালাইজড রোগীদের অনুদানের চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে বিশিষ্টজনেরা

বিকেন্দ্রীকরণের মাধ্যমে মানুষের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছাতে হবে

প্যারালাইজড রোগীদের অনুদানের চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে বিশিষ্টজনেরা

বিকেন্দ্রীকরণের মাধ্যমে মানুষের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছাতে হবে

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত