০৯ ফেব্রুয়ারী, ২০২৫ ১২:০৭ পিএম

চার দাবিতে শাহবাগ অবরোধ ম্যাটস শিক্ষার্থীদের

চার দাবিতে শাহবাগ অবরোধ ম্যাটস শিক্ষার্থীদের
ছবি: মনির উদ্দীন

মেডিভয়েস রিপোর্ট: উচ্চশিক্ষার সুযোগ ও উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার শূন্য পদে নিয়োগ প্রদানসহ চার দফা দাবিতে রাজধানীর শাহবাগ মোড় অবরোধ করেছেন মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট ট্রেনিং স্কুল (ম্যাটস) শিক্ষার্থীরা। দাবি মানার ঘোষণা না পেলে শাহবাগ মোড় ছাড়বেন না বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তারা।

রোববার (৯ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টা থেকে সাধারণ ম্যাটস শিক্ষার্থী ঐক্য পরিষদের ব্যানারে শাহবাগ অবরোধ করেন এসব শিক্ষার্থী।

তাদের চার দফা দাবি হলো—
১. এক যুগের অধিক সময় ধরে নানান অজুহাতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের শূন্য পদে বন্ধকৃত নিয়োগ অতিদ্রুত সচল করতে হবে এবং কমিউনিটি ক্লিনিকে চিকিৎসা প্রদানের লক্ষ্যে উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার পদ সৃষ্টি করতে হবে।

ম্যাটস শিক্ষার্থীরা বলছেন, কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোতে চিকিৎসা দেওয়ার জন্য চিকিৎসা শিক্ষায় শিক্ষিতদের এখন পর্যন্ত নিয়োগ দেওয়া হয়নি, কিন্তু অ্যান্টিবায়োটিকসহ অন্যান্য ওষুধের মাধ্যমে সেবা প্রদান করা হয়, যা জনগণের সাথে এক ধরনের প্রতারণা।

২. প্রতিষ্ঠানের নাম পরিবর্তন, কোর্সের নাম পরিবর্তনসহ ২০২১ সালের কোর্স কারিকুলাম ত্রুটি ও অসংগতি সমাধান করে নতুন ইন্টার্ন লগবুক প্রণয়ন করতে হবে।

৩. বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল (বিএমডিসি) স্বীকৃত ক্লিনিক্যাল বিষয়ে উচ্চশিক্ষা প্রদান করতে হবে।

৪. প্রস্তাবিত অ্যালাইড হেলথ প্রফেশনাল বোর্ড খসড়া আইনের নাম পরিবর্তনসহ প্রস্তাবিত সকল ধারায় সংশোধনীসহ বাস্তবায়ন করতে হবে।

পরিষদের কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদের সমন্বয়ক (মিডিয়া সেল) মো. সাকিব মাহমুদ গণমাধ্যমকে বলেন, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের নিয়ন্ত্রণাধীন বাংলাদেশ রাষ্ট্রীয় চিকিৎসা অনুষদের অধীন বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল স্বীকৃত চার বছর মেয়াদী মেডিকেল ডিপ্লোমাধারীদের প্রতিষ্ঠান মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট ট্রেনিং স্কুল (ম্যাটস)। ১৯৭১ সালে যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশের চিকিৎসা সেবা প্রদান বাধ্যতামূলক করার লক্ষ্যে সরকারের স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা (১৯৭৩-১৯৭৮) মোতাবেক চিকিৎসা বিদ্যায় ১৯৭৬ সালে ম্যাটস চালু হয়। কিন্তু স্বাধীনতার ৫৩ বছর পরের ম্যাটস শিক্ষার্থীরা বিভিন্নভাবে জুলুম ও বৈষম্যের শিকার।

তিনি বলেন, বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে জুলাই বিপ্লব সংগঠিত হলেও ম্যাটস শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের বৈষম্যের অবসান হয়নি। এই বৈষম্য অবসানের লক্ষ্যে গত ২২ জানুয়ারি চার দফা দাবিতে শিক্ষার্থীরা শাহবাগে জমায়েত করলে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব সাত কর্মদিবসের মধ্যে দাবি পূরণের লিখিত প্রতিশ্রুতি দেন। কিন্তু তার দৃশ্যমান কিছুই বাস্তবায়িত হয়নি।

সাকিব মাহমুদ বলেন, যেহেতু মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তরগুলো এ ব্যাপারে আন্তরিকতার সাথে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি, সেহেতু আমরা লংমার্চ কর্মসূচি হাতে নিয়েছি। এই আন্দোলনের সকল দায়ভার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তর, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর ও বাংলাদেশ রাষ্ট্রীয় চিকিৎসা অনুষদকে নিতে হবে।

বর্তমানে সারাদেশে ১৬টি সরকারি ও প্রায় ২০০টি বেসরকারি ম্যাটস ডিপ্লোমা মেডিকেল ডিগ্রি ‘ডিএমএফ’ কোর্স পরিচালনা করে আসছে। বাংলাদেশ শিক্ষা পরিসংখ্যান-২০২২ এবং বিএমডিসির সর্বশেস তথ্যমতে, দেশে বর্তমানে ডিপ্লোমা মেডিকেল শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় ৬০ হাজার। এ ছাড়া বিএমডিসি নিবন্ধিত ডিএমএফের সংখ্যা প্রায় ৩০ হাজার। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের হিসেব অনুযায়ী, প্রায় ৫৫ হাজার ডিএমএফ উপ-সহাকরী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার পদে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, ইউনিয়ন উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্র এবং ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রসহ জেলা সদর হাসপাতালে কর্মরত আছেন।

ম্যাটস শিক্ষার্থী ঐক্য পরিষদের মিডিয়া সেল সম্পাদক মো. সাকিব মাহমুদের অভিযোগ, বর্তমানে ডিএমএফ কোর্স সম্পন্ন করা প্রায় ৫০ হাজার দক্ষ জনবল কর্মসংস্থানহীন বেকার হয়ে পড়েছে।

তিনি বলেন, গত এক যুগের বেশি সময় ধরে নিয়োগ বন্ধ রয়েছে। নিয়োগবিধি সংশোধনের নামে তালবাহানা করে এই নিয়োগ প্রক্রিয়া বন্ধ রাখা হয়েছে। কিন্তু স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা বিভাগে উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার পদে শূন্য পদ রয়েছে আড়াই হাজার। এতে একদিকে প্রান্তিক জনগোষ্ঠী চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে, অন্য দিকে ম্যাটস থেকে পাসকৃত বেকারের সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা বলছেন, ইউনিয়নের কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোতে চিকিৎসা দেওয়ার জন্য চিকিৎসা শিক্ষায় শিক্ষিতদের এখন পর্যন্ত নিয়োগ দেওয়া হয়নি। সাড়ে চার বছর মেয়াদি মেডিকেল ডিপ্লোমা কোর্স সম্পন্ন করা দক্ষ জনবল থাকার পরেও তাদের উপেক্ষা করে কমিউনিটি ক্লিনিকে সাধারণ শিক্ষায় পড়াশোনা করা নন-মেডিকেল পার্সনদের দিয়ে স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করা হচ্ছে। সেখানে অ্যান্টিবায়োটিকসহ অন্যান্য ওষুধের মাধ্যমে সেবা প্রদান করা হয়।এতে সাধারণ জনগণ মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে এবং চিকিৎসা সেবার নামে বঞ্চিত হচ্ছে।

এনএআর/

মেডিভয়েসের জনপ্রিয় ভিডিও কন্টেন্টগুলো দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন MedivoiceBD ইউটিউব চ্যানেল। আপনার মতামত/লেখা পাঠান [email protected] এ।
  ঘটনা প্রবাহ : মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট ট্রেনিং স্কুল
  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত