০৪ ফেব্রুয়ারী, ২০২৫ ১১:১৪ এএম

মেডিকেলে কোটায় উত্তীর্ণদের ভর্তি কার্যক্রম স্থগিত: স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তর

মেডিকেলে কোটায় উত্তীর্ণদের ভর্তি কার্যক্রম স্থগিত: স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তর
ছবি: সংগৃহীত

মেডিভয়েস রিপোর্ট: সরকারি ও বেসরকারি মেডিকেল কলেজে ব্যাচেলর অব মেডিসিন এবং ব্যাচেলর অব সার্জারি (এমবিবিএস) ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে মুক্তিযোদ্ধা কোটায় উত্তীর্ণদের ভর্তি কার্যক্রম আপাতত স্থগিত থাকবে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তর। তবে অন্যান্য ভর্তি স্বাভাবিক নিয়ম অনুযায়ী চলবে।

যাচাই-বাছাই শেষ না হওয়া পর্যন্ত বন্ধ থাকবে এ কার্যক্রম। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা পরিষদের পরবর্তী সভার সিদ্ধান্ত আসার সময় পর্যন্ত তাদের ভর্তি স্থগিত করা হয়েছে।

সোমবার (৩ ফেব্রুয়ারি) স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক (চিকিৎসা শিক্ষা) অধ্যাপক ডা. মহিউদ্দিন মাতুব্বর স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এর আগে তিন দিনের যাচাই-বাছাইয়ে মুক্তিযোদ্ধা কোটায় উত্তীর্ণ ১৯৩ জনের মধ্যে ৭৪ জনের দরকারি একাডেমিক সনদ পাওয়া গেছে। এই তালিকার ৪৪ জন যোগাযোগই করেনি। বাকি ৭৫ জন মুক্তিযোদ্ধাদের নাতি-নাতনি হিসেবে আবেদন করেছিলেন।

সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, চলতি বছর নাতি-নাতনিরা মুক্তিযোদ্ধা কোটায় ভর্তি হতে পারবে না। গত ২৭, ২৮ ও ২৯ জানুয়ারি তাদের সনদ যাচাই-বাছাই করা হয়। তবে প্রমাণের জন্য এদিন তারা কেউ অধিদপ্তরে আসেননি। পরে নাতি-নাতনি হিসেবে এসব আবেদনকারী ভুল স্বীকার করেছে।

এদিকে স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তর জানিয়েছে, তাদের সাধারণ শিক্ষার্থী হিসেবে ভর্তির সুযোগ দেয়া হবে কি-না, সেটি পরে জানানো হবে। প্রাথমিক যাচাইয়ে টিকে যাওয়া ৭৪ জনের সনদ স্থানীয় প্রশাসন থেকেও যাচাই করা হবে।

স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৭ জানুয়ারি সারা দেশে এক যোগে মেডিকেলে এমবিবিএস ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ১ লাখ ৩১ হাজার ৭২৯ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৬০ হাজার ৯৫ জন ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। পরীক্ষায় পাসের হার ৪৫ দশমিক ৬২ শতাংশ। ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে মুক্তিযোদ্ধা কোটায় মোট আসন আছে ২৬৯টি। এর মধ্যে ১৯৩ জন ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন।

ভর্তি পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর মুক্তিযোদ্ধা কোটার প্রার্থীরা কম নম্বর পেয়েও ভর্তির জন্য নির্বাচিত হয়েছেন এমন সমালোচনা শুরু হয়। ফলাফল প্রকাশের রাতেই কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে বিক্ষোভ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও ঢাকা মেডিকেল কলেজের একদল শিক্ষার্থী।

তারা ফল বাতিলের দাবিও জানান। পর দিন ২০ জানুয়ারিও কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে বিক্ষোভ হয়। উদ্ভূত পরিস্থিতে বিষয়টি নিয়ে সেদিন বৈঠক করে স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তর।

পরে এক অনুষ্ঠানে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী (স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়) অধ্যাপক ডা. সায়েদুর রহমান সাংবাদিকদের জানান, এমবিবিএস ভর্তি পরীক্ষায় মুক্তিযোদ্ধা কোটা বাতিলের সিদ্ধান্ত রাষ্ট্রের, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নয়।
নিয়ম অনুযায়ী, কোটায় উত্তীর্ণদের কাগজপত্র যাচাইয়ের জন্য ডাকে স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদফতর। গত ২৭, ২৮ ও ২৯ জানুয়ারি সব কাগজ যাচাই বাছাই করা হয়।

টিআই/এমইউ 

মেডিভয়েসের জনপ্রিয় ভিডিও কন্টেন্টগুলো দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন MedivoiceBD ইউটিউব চ্যানেল। আপনার মতামত/লেখা পাঠান [email protected] এ।
  ঘটনা প্রবাহ : এমবিবিএস ভর্তি পরীক্ষা
  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত