বৈষম্য দূর করে পাহাড়ে স্বাস্থ্য সুরক্ষার সুপারিশ করবে সংস্কার কমিশন
মেডিভয়েস রিপোর্ট: পার্বত্য চট্টগ্রামের স্বাস্থ্য খাতকে ঢেলে সাজানোর কথা ভাবছে স্বাস্থ্য সংস্কার কমিশন। এজন্য ক্ষমতা বিকেন্দ্রীকরণ, স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে পাহাড়ের যোগ্য স্থানীয়দের নিয়োগ, আবাসিক ও ভাতাসহ অন্যান্য সুবিধা বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। কমিশনের সদস্যরা বলছেন, সব বৈষম্য দূর করে পাহাড়ে স্বাস্থ্য সুরক্ষার সুপারিশ করবেন তারা।
একই সাথে রাঙামাটি মেডিকেল কলেজের জন্য স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণের সুপারিশও করা হবে।
বুধবার (২৯ জানুয়ারি) রাঙামাটি জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে স্বাস্থ্যসেবা খাতে অংশীজনদের সঙ্গে মতবিনিময় সভাকালে এসব মন্তব্য করেন স্বাস্থ্য খাত সংস্কার কমিশনের সদস্যরা। ড. আবু মোহাম্মদ জাকির হোসেনের নেতৃত্বে সংস্কার কমিশনের সাত সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল এই মতবিনিময় সভায় অংশ নেন।
মতবিনিময়কালে ড. আবু মোহাম্মদ জাকির হোসেন বলেন, ‘সমতলের মতো পার্বত্য এলাকায় স্বাস্থ্য খাতে পর্যাপ্ত সুবিধা নেই। এখন বিষয়গুলোর সংস্কারের জন্য সুপারিশ নিয়ে কাজ করছি।’
তিনি বলেন, ‘সংস্কারের অর্থই পরিবর্তন। পরিবর্তনের মাধ্যমে স্বাস্থ্য খাতে সবার সুরক্ষা নিশ্চিত করতে চাই। স্বাস্থ্য বহুমাত্রিক বিষয়। সবাই মিলে একত্রে কিভাবে স্বাস্থ্য খাতে উন্নতি করা যায়, তা নির্ধারণ করতে হবে। এক্ষেত্রে সব বৈষম্য দূর করে পাহাড়ে স্বাস্থ্য সুরক্ষার সুপারিশ করব আমরা।’
পার্বত্য এলাকায় চিকিৎসক ও কর্মকর্তারা থাকতে চান না উল্লেখ করে কমিশনের সদস্যরা বলেন, দুর্গমতার কারণে এখানে সবার জন্য স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা যায় না। রোগীদের সঠিক সময়ে চিকিৎসা সেবার ব্যাঘাত ঘটে। নৌপথে অ্যাম্বুলেন্সের সমস্যাসহ বহুবিধ সংকট বিদ্যমান। এসব সংকট থেকে উত্তরণের জন্য এখানকার সবার মতামত নিয়ে সুপারিশ করা হবে।
পার্বত্য এলাকার স্বাস্থ্য খাত ব্যবস্থাপনার বিষয়টি পার্বত্য আঞ্চলিক পরিষদে ন্যস্ত করার বিষয়েও অংশীজনদের মতামত জানতে চান কমিশন সদস্যরা। এছাড়া রাঙামাটি মেডিকেল কলেজের সংকট নিরসনে শিগগিরই স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণসহ বিদ্যমান সমস্যা সমাধান নিয়ে গুরুত্বসহকারে সুপারিশ করা হবে বলেও জানান তারা।
সভায় জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হাবিব উল্লাহ বলেন, ‘আমরা তিন পার্বত্য জেলার মানুষের গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন দাবিগুলো উচ্চস্তরে পাঠাতে চাই। এখানে বহু হাসপাতাল চলে একজন চিকিৎসক দিয়ে। চিকিৎসকদের আবাসন ব্যবস্থা নেই, হাসপাতালে নৈরাজ্য অনেক সমস্যা। এভাবে তো সম্ভব না। তাই উত্তরণ জরুরি।’
মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নে জবাবে ড. আবু মোহাম্মদ জাকির হোসেন বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম সমতলের মত নয়। সমতলের মত পাহাড়ের স্বাস্থ্য সেবার তুলনা করলে হবে না। এখানে জনবল সংকট, উপকরণ সংকট নিত্যদিনের ঘটনা। এ ছাড়া এখনো প্রশাসনিক জটিলতা আছে। এখানে ভৌগোলিক উন্নয়ন করতে অনেক কাজ করা প্রয়োজন, যেটা আগে করা হয়নি। এখানে কর্তৃপক্ষ জটিলতায় নিয়োগ পদায়ন অবকাঠামো উন্নয়ন কাজ ব্যাহত হয়। সেগুলো চিহ্নিত করে সরকারকে সুপারিশ করবে স্বাস্থ্য সংস্কার কমিশন।
জেলা পরিষদের মাধ্যমে চিকিৎসক নিয়োগের সুপারিশ করা হবে বলেও জানান ড. জাকির হোসেন। বলেন, তিন পার্বত্য জেলা পরিষদ ১৯৯১ এবং ২০০০ সালে ডাক্তার নিয়োগ করেছিল। এ ডাক্তাররা পাহাড়ে স্বাস্থ্যসেবা উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে সেটার ধারাবাহিকতা রক্ষা হয়নি। জেলা পরিষদের মাধ্যমে ডাক্তার নিয়োগের ব্যাপারে স্বাস্থ্য সংস্কার কমিশন সুপারিশ করবে।
রাঙামাটি মেডিকেল কলেজের সমস্যা নিয়ে তিনি বলেন, রাঙামাটি মেডিকেলকে যেভাবে রাখা হয়েছে তা দুঃখজনক। যে সমস্যা দেখলাম সেগুলো বর্ণনা করার মত নয়। একটি বিদ্যালয়ও এর চেয়ে ভালো। এখানে বসার মত পর্যন্ত জায়গা নেই। দুর্গম এলাকায় কোনো ডাক্তারকে পোস্টিং দিলে তার জন্য যেন ভাতা বৃদ্ধি করা হয় সে ব্যাপারেও কমিশন সুপারিশ করবে।
এর আগে রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতাল এবং মেডিকেল কলেজ পরিদর্শন করেন সংস্কার কমিশনের সদস্যরা। স্বাস্থ্য সংস্কার কমিশনের প্রতিনিধি দলে অন্যান্যের মধ্যে ছিলেন অধ্যাপক ডা. নায়লা জামান খান, অধ্যাপক ডা. সায়েবা আক্তার, অধ্যাপক লিয়াকত আলী, অধ্যাপক ডা. সৈয়দ আতিকুল হক ও অধ্যাপক ড. সৈয়দ মো. আকরাম হোসেন।
সভায় পুলিশ সুপার ড. এসএম ফরহাদ হোসেন ও সিভিল সার্জন ডা. নূয়েন খীসাসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
এসআই/এনএআর/