গাজায় হাসপাতালের কাছে ইসরায়েলি হামলায় নিহত ৫০
মেডিভয়েস রিপোর্ট: ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় অবরুদ্ধ কামাল আদওয়ান হাসপাতালের সদর দপ্তরের বিপরীতে একটি ভবনে ইসরায়েলি বাহিনী বর্বর বিমান হামলায় কমপক্ষে ৫০ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে তিনজন চিকিৎসকও রয়েছেন। এতে করে উপত্যকাটিতে নিহতের মোট সংখ্যা ৪৫ হাজার ৩৯৯ ছাড়িয়ে গেছে।
শুক্রবার (২৭ ডিসেম্বর) আনাদোলু এজেন্সি এক প্রতিবেদনে জানায়, বৃহস্পতিবার উত্তর গাজার কামাল আদওয়ান হাসপাতালের বিপরীতে একটি ভবনে বিমান হামলা চালানো হয়। এতে ৫০ জনের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে, যাদের মধ্যে তিনজন চিকিৎসা কর্মী রয়েছেন।
হাসপাতালের পরিচালক হুসাম আবু সাফিয়া এক বিবৃতিতে বলেছেন, ইসরায়েলি বিমান হামলার পর বেইত লাহিয়া প্রজেক্ট এলাকায় কামাল আদওয়ান হাসপাতালের বিপরীতে একটি ভবনের ধ্বংসস্তূপের নিচে আমাদের তিনজন মেডিকেল স্টাফসহ প্রায় ৫০ জন শহীদ হয়েছেন।
আবু সাফিয়া আরও বলেন, চিকিৎসা কর্মী ও অন্যান্য কর্মীরা তাদের পরিবারের স্বজনদের নিয়ে ওই ভবনে অবস্থান করছিলেন। নিহতদের মধ্যে আহমেদ সামুর একজন শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ, ইসরা একজন ল্যাবরেটরি টেকনিশিয়ান এবং ফারেস হাসপাতালের একজন রক্ষণাবেক্ষণ প্রযুক্তিবিদ।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, গত বছর থেকে শুরু হওয়া ইসরায়েলি হামলায় মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪৫ হাজার ৩৯৯ জনে।
জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের একটি প্রস্তাবে অবিলম্বে যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানানো সত্ত্বেও গত বছরের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে হামাসের হামলার পর থেকে গাজায় গণহত্যা শুরু হয়।
এদিকে গত মাসে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) গাজায় যুদ্ধাপরাধ এবং মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্টের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে।
উল্লেখ্য, গত ৭ অক্টোবর হামাসের নজিরবিহীন আন্তঃসীমান্ত হামলার পর থেকে ইসরায়েল গাজা উপত্যকায় অবিরাম বিমান ও স্থল হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। ইসরায়েলি এই হামলায় হাসপাতাল, স্কুল, শরণার্থী শিবির, মসজিদ, গির্জাসহ হাজার হাজার ভবন ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়ে গেছে।
এছাড়া ইসরায়েলি আগ্রাসনের কারণে প্রায় ২০ লাখেরও বেশি বাসিন্দা তাদের বাড়িঘর ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন।
মূলত ইসরায়েলি আক্রমণ গাজাকে ধ্বংসস্তূপে পরিণত করেছে। জাতিসংঘের মতে, ইসরায়েলের বর্বর আক্রমণের কারণে গাজার প্রায় ৮৫ শতাংশ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। আর খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি এবং ওষুধের তীব্র সংকটের মধ্যে গাজার সকলেই এখন খাদ্য নিরাপত্তাহীন অবস্থার মধ্যে রয়েছেন।
এছাড়া অবরুদ্ধ এই ভূখণ্ডের ৬০ শতাংশ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়ে গেছে। ইসরায়েল ইতোমধ্যেই আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে গণহত্যার অভিযোগে অভিযুক্ত হয়েছে।
এমআই/