ভাতা বৃদ্ধির দাবিতে পোস্ট গ্রাজুয়েট প্রশিক্ষণার্থী চিকিৎসকদের মশাল মিছিল
মেডিভয়েস রিপোর্ট: ভাতা বৃদ্ধির দাবিতে মশাল মিছিল করেছেন পোস্ট গ্রাজুয়েট প্রশিক্ষণার্থী চিকিৎসকরা। আজ শনিবার (১৪ ডিসেম্বর) সন্ধ্যা সাতটার দিকে ডক্টরস মুভমেন্ট ফর জাস্টিসের (ডিএমজি) ব্যানারে শহীদ মিনার থেকে রাজু ভাস্কর্য পর্যন্ত মিছিল করেন তারা।
এতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়সহ (বিএসএমএমইউ) বিভিন্ন ইনস্টিটিউটে অধ্যয়নরত পোস্ট গ্র্যাজুয়েট প্রশিক্ষণার্থী চিকিৎসকরা অংশ নেন।
বাধ্য হয়ে ভাতা বৃদ্ধির দাবিতে রাস্তায় নেমেছেন জানিয়ে পোস্ট গ্রাজুয়েট প্রশিক্ষণার্থী চিকিৎসকরা বলেন, ‘ভাতা বৃদ্ধিরি বিষয়ে বিগত দুই বছর ধরে যৌক্তিক দাবি নিয়ে সর্বস্তরে কথা বলার পরও কোনো সমাধান হচ্ছে না। যে বৈষম্য দূর করতে জুলাই বিপ্লব হলো, সেই বৈষম্য এখনো রয়ে গেছে। এই জুলাই বিপ্লবে চিকিৎসকদের অবদান বলে শেষ করা যাবে না। চিকিৎসকরা রাস্তায় যেমন আন্দোলন করেছেন, তেমনি আহত রোগীদের সেবাও দিয়েছেন। এমনকি নিজের শরীরের রক্ত দিয়েও আহত রোগীর সেবা দিয়েছেন। আমরা প্রাইভেট পোস্ট গ্রাজুয়েট ট্রেইনি চিকিৎসকদের সাথে যে বৈষম্য হয়ে আসছে, তার অবসান চাই।’
তারা বলেন, ‘অভাব ও দীনতায় যাদের দিন কাটে, মেধার বিকাশ ঘটিয়ে ভালো বিশেষজ্ঞ হওয়ার স্বপ্ন সেখানে বিলাসিতা!’
মিছিল পরবর্তী সমাবেশে নিজেদের কাজের পরিধি তুলে ধরে প্রশিক্ষণার্থী চিকিৎসকরা বলেন, ‘কোর্সের পাশাপাশি এবং মানবিকতার দিক দিয়ে সরকারি হাসপাতালগুলোতে তারা স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করে থাকেন। নাইট ডিউটি, ইভনিং ডিউটি মিলিয়ে যেখানে তাঁদের কর্মঘণ্টা সপ্তাহে ৬০-৭২ ঘণ্টা বা তার বেশি, সেখানে তাদের ভাতা দেওয়া হয় ২৫ হাজার টাকা। সে হিসাবে ঘণ্টাপ্রতি তাদের উপার্জন মাত্র ১০৫ টাকা। সরকারি মেডিকেল অফিসারের পাশাপাশি সরকারি হাসপাতালে অতিরিক্ত রোগীর চাপ সামাল দেওয়ার জন্য তাদের এই ডিউটি করতে হয়। কিন্তু বাইরে প্র্যাক্টিস করাকেও নিয়ম করে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।’
সংগঠনের সভাপতি ডা. জাবির হোসেন বলেন, চিকিৎসকরা দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে অতিরিক্ত সময় দিলেও যথাযথ মূল্যায়ন পাচ্ছেন না। এরই পরিপ্রেক্ষিতে রোববার সব হাসপাতালে স্মারকলিপি দেওয়া হবে। মঙ্গলবারের মধ্যে দাবি পূরণ না হলে দেশের সব ডাক্তারদের ঢাকায় আসার আহ্বান এবং কঠোর অবস্থান কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হবে।
চিকিৎসকরা বলেন, প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে ভারতে প্রদেশভেদে এক লাখ থেকে এক লাখ ত্রিশ হাজার, পাকিস্তানে সত্তুর হাজারের বেশি, ভুটানে পঞ্চাশ হাজারের বেশি টাকা পোস্ট গ্রাজুয়েট ট্রেইনি চিকিৎসকদের পারিতোষিক প্রদান করা হয়। অথচ বাংলাদেশে দেওয়া হয় মাত্র ২৫ হাজার টাকা।
এমইউ/এনএআর/