০২ নভেম্বর, ২০২৪ ০৩:১৯ পিএম

‘দুর্ভাগ্যক্রমে বাংলাদেশে হৃদরোগের চিকিৎসার সবটাই ঢাকাকেন্দ্রিক’

‘দুর্ভাগ্যক্রমে বাংলাদেশে হৃদরোগের চিকিৎসার সবটাই ঢাকাকেন্দ্রিক’
বক্তব্য রাখছেন স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাজমুল হোসেন। ছবি: সংগৃহীত

মেডিভয়েস রিপোর্ট: দুর্ভাগ্যক্রমে বাংলাদেশে হৃদরোগের চিকিৎসার সবটাই ঢাকাকেন্দ্রিক বলে মন্তব্য করেছেন স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাজমুল হোসেন। শনিবার (২ নভেম্বর) রাজশাহী ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতাল অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউটের চিকিৎসাসেবা কার্যক্রম উদ্বোধনকালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

হৃদরোগকে বিশ্বের প্রধানতম ঘাতক ব্যাধি উল্লেখ করে অধ্যাপক ডা. নাজমুল হোসেন বলেন, প্রতি তিনজন মানুষের একজন হৃদরোগে আক্রান্ত হয়েই মৃত্যু বরণ করেন। কাজেই এই রোগটিকে আমাদের সব সময় অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হয়।

তিনি বলেন, আমাদের প্রধানতম দায়িত্ব হচ্ছে একে প্রতিরোধের চেষ্টা করা। ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশনসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এই লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে। কিন্তু যতই চেষ্টা করি না কেন, এর পরেও একটা বিপুল সংখ্যক মানুষ হৃদরোগে আক্রান্ত হবে। তাদের চিকিৎসার জন্য যথাযথ ব্যবস্থা নিতেই হবে।

স্বাস্থ্য শিক্ষার এই মহাপরিচালক বলেন, দুর্ভাগ্যক্রমে বাংলাদেশে হৃদরোগের চিকিৎসার সবটাই ঢাকাকেন্দ্রিক। দেশে ৪৩টি প্রতিষ্ঠানে হৃদরোগের চিকিৎসার ব্যবস্থা আছে। এর মধ্যে ৩৪টিতে সার্জারির ব্যবস্থা আছে। এই ৩৪টির মধ্যে মাত্র আটটি ঢাকার বাইরে অবস্থিত, বাকি সবগুলো ঢাকায়। বাংলাদেশের ৯৫ শতাংশ হার্ট সার্জারি ঢাকার প্রতিষ্ঠানগুলো করে থাকে। যেখানে দেশের মাত্র ১০ শতাংশ মানুষের বাস, তাদের জন্য হয় ৯৫ ভাগ সার্জারি। আর ৯০ ভাগ মানুষের জন্য মাত্র পাঁচ ভাগ সার্জারি করা হয়। ধারণা করি, কার্ডিওলজির ৭০ থেকে ৮০ ভাগ কার্যক্রম ঢাকা শহরে করা হয়, ৯০ শতাংশ মানুষের জন্য ঢাকার বাইরে ১৫ থেকে ২০ ভাগ।

এটিকে ‘বিরাট বৈষম্য’ বলে উল্লেখ করেন তিনি। বলেন, চিকিৎসা ব্যবস্থা যদি বাংলাদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে ছড়িয়ে দিতে না পারি, তাহলে আমাদের নিজেদের মধ্যে যে বৈষম্য রয়েছে, তা দূর করতে পারব না। তবে আমাদের মতো তৃতীয় বিশ্বের একটি দেশের সরকারের পক্ষে সবার চিকিৎসা সম্পূর্ণরূপে দেওয়া সম্ভব হয় না। এই কারণে মনে করি, বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোরও দায়িত্ব পালনে এগিয়ে আসবেন।

রাজশাহী ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতালের অবকাঠামো স্থাপনে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় অবদান রেখেছে উল্লেখ করে অধ্যাপক ডা. নাজমুল হোসেন বলেন, বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় বা সমাজসেবা অধিদপ্তর যখন এ ধরনের সহযোগিতা দিয়ে থাকে, তখন একটি শর্ত থাকে- এর একটা বড় অংশ বিনামূল্যে দরিদ্রসীমার নিচে অবস্থান করা মানুষদের জন্য ব্যয় করতে হবে। দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্যি, অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, পরবর্তীকালে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো এটি ঠিক মতো পালন করে না। আমি আশা করবো, যেখানে সমাজসেবা অধিদপ্তর সাহায্য করেছে, তারা যেন তাদের এই নৈতিক অবস্থানটুকু অক্ষুণ্ণ রাখেন। সমাজসেবা অধিদপ্তরও যেন বিষয়টি মনিটরিং করে।

স্বাস্থ্য শিক্ষার মহাপরিচালক বলেন, বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ২০০৬ সালের কার্ডিয়াক সার্জারি স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। কাজ প্রায় শেষ হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরে সেটি আর সম্ভব হয়নি। একই ভাবে দিনাজপুর মেডিকেল কলেজেও একই ধরণের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছিল। সেটাও আর বাস্তবের মুখ দেখেনি।

এসব অসমাপ্ত পরিকল্পনা দ্রুত বাস্তবায়নে স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নির্দেশ দিয়েছেন উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, আমরা আশাবাদী, অচিরেই হয়তো রাজশাহী মেডিকেল কলেজে ইনভেসিভ কার্ডিওলজি আরও সম্প্রসারণ করতে পারব এবং কার্ডিয়াক সার্জারি চালুর উদ্যোগ নিতে পারব। রামেকে কার্ডিওলজির কোনো পদ নেই। সেটি যেন দ্রুত করা যায়, সে ব্যাপারে আমরা উদ্যোগ নিচ্ছি।

রাজশাহী ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক প্রফেসর মহা. হবিবুর রহমানের সঞ্চালনায় উদ্বোধনীয় অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন প্রতিষ্ঠানটির সভাপতি মো. আব্দুল মান্নান।

এতে রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ডা. মোহা. জাওয়াদুল হক, ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশের সভাপতি অধ্যাপক খন্দকার আব্দুল আউয়াল রিজভী, রাজশাহী মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. খন্দকার মো. ফয়সাল আলম, রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এফ এম শামীম আহাম্মদ, রাজশাহী বিভাগীয় সমাজসেবা কার্যালয়ের পরিচালক সৈয়দ মোস্তাক হাসান ও রাজশাহী জেলা প্রশাসক (ভারপ্রাপ্ত) সরকার অসীম কুমার প্রমুখ বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে সকাল ১০টায় ফলক উন্মোচন ও বেলুন ওড়ানোর মধ্য দিয়ে হাসপাতালের কার্যক্রম উদ্বোধন করা হয়।

এনএআর/

মেডিভয়েসের জনপ্রিয় ভিডিও কন্টেন্টগুলো দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন MedivoiceBD ইউটিউব চ্যানেল। আপনার মতামত/লেখা পাঠান [email protected] এ।
  ঘটনা প্রবাহ : স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তর
  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
এক দিনে চিরবিদায় পাঁচ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক
করোনা ও বার্ধক্যজনিত অসুস্থতা

এক দিনে চিরবিদায় পাঁচ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক