২৮ অক্টোবর, ২০২৪ ০৩:১১ পিএম

দেশি-বিদেশি চিকিৎসকদের নিয়ে প্লাস্টিক সার্জারি ওয়ার্কশপ

দেশি-বিদেশি চিকিৎসকদের নিয়ে প্লাস্টিক সার্জারি ওয়ার্কশপ
ছবি: আবু সাঈদ

মেডিভয়েস রিপোর্ট: দেশি-বিদেশি প্রায় ১৫০ শতাধিক চিকিৎসককে নিয়ে তিনদিন ব্যাপী প্লাস্টিক সার্জারি ওয়ার্কশপ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (২৬ অক্টোবর) থেকে সোমবার (২৮ অক্টোবর) পর্যন্ত রাজধানীর জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে এ ওয়ার্কশপ অনুষ্ঠিত হয়। 

শেষ দিনের অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অধ্যাপক ডা. মো. আবু জাফর। এছাড়া বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ডা. রায়হানা আউয়ালসহ দেশের বিশিষ্ট প্লাস্টিক সার্জনরা উপস্থিত ছিলেন।

অধ্যাপক ডা. মো. আবু জাফর বলেন, ‘টিম ওয়ার্কের মাধ্যমে কাজ করতে হবে। এতে ভুল-ত্রুটি মুক্তভাবে কাজ করা যায়। সেইসঙ্গে আমাদের স্বাস্থ্যখাতকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। দেশের অনেক সার্জন বিদেশেও প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন। তাঁদের মেধা দেশের কাজে আসছে। সবাই মিলে কাজ করলে দেশের স্বাস্থ্যখাত এগিয়ে যাবে। চিকিৎসকদের দায়িত্ব জনগণের চিকিৎসা সেবা দেওয়া। আমাদের দেশে বিভিন্ন রকমের রোগী রয়েছে, অনেকেই সঠিক চিকিৎসা পাচ্ছেন না। সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমেই স্বাস্থ্যখাত উন্নত হবে।’

অধ্যাপক ডা. রায়হানা আউয়াল বলেন, ‘দেশের ১৪-১৫ হাজার ব্রেস্ট ক্যান্সার রোগী শনাক্ত হচ্ছে। অনেকেরই দেরিতে রোগ শনাক্ত হয়। রোগীরা যখন আসে তখন তাদের রোগটা ঝুঁকিপূর্ণ থাকে, যার কারণে মাঝে মাঝে অঙ্গ কেটেও ফেলতে হয়। ফলে অনেক রোগী মাসনিক ট্রমায় ভুগেন। প্লাস্টিক সার্জারিতে ব্রেস্ট রিকনস্ট্রাকশন কিভাবে করা যায়, এটি এখনও বাংলাদেশে শুরু হয়নি। শুরু করার আগে যারা নিয়মিত এ অপারেশন করেন, তাদের কয়েকজন বিদেশ থেকে এসেছেন। তাঁদের স্কিলটা আমাদের সঙ্গে সেয়ার করেছেন। এতে আমাদেরও দক্ষতা অর্জন হবে। তাঁরা চলে যাওয়ার পর আমরা দেশে এ কাজটা শুরু করবো। সেই স্কিলটা ট্রান্সফার হচ্ছে এই ওয়ার্কশপের মাধ্যমে।’

তিনি বলেন, ‘এটি আয়োজন করছেন বাংলাদেশে প্রবাসী চিকিৎসকরা। করোনার সময় মিলে প্রবাসী চিকিৎসকরা একটি অ্যাকাডেমিয়া তৈরি করেন, সেখান থেকে সহযোগিতা করছেন। তাঁরা বিভিন্নভাবে দেশের চিকিৎসকদের দক্ষতা বাড়ানোর চেষ্টা করছেন। যাতে আমরা আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে কাজ করতে পারি।’

অধ্যাপক ডা. রায়হানা আউয়াল বলেন, ‘দেশের প্লাস্টিক সার্জন সবাইকে ইনভাইট করা হয়েছে। কয়েকজন বাদে প্রায় সময় এ কর্মশালায় অংশগ্রহণ করেছেন। আমাদের আশা, আমরা ব্রেস্ট ক্যান্সারের রোগীদেরকে ভবিষ্যতে দেশেই যথাযথ চিকিৎসা দিতে পারবো।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের দেশে চাকরি ক্ষেত্রে বা অন্যান্য জায়গায় নারী-পুরুষ সমান সংখ্যক কাজ করেন। এতে সবার মধ্যে ব্রেস্ট ক্যান্সার কমন হয়ে যাচ্ছে। খাবারের সমস্যা, শারীরিক অ্যাক্টিভিটিস কম, স্বাস্থ্য যত্ন ঠিক মতো না নেওয়া। সবমিলিয়ে এ রোগটা বেড়ে যাচ্ছে।’

তরুণ চিকিৎসকদের শিখার আগ্রহের কথা জানিয়ে অধ্যাপক ডা. রায়হানা আউয়াল বলেন, ‘এ চিকিৎসা পদ্ধতি শিখতে তরুণ চিকিৎসকদের ব্যাপক আগ্রহ রয়েছে এবং তাঁরা আগ্রহ সহকারে শিখছেনও। ওয়ার্কশপে তরুণ চিকিৎসকরা বিদেশি বিশেষজ্ঞদের বিভিন্ন প্রশ্ন করছেন, তাঁদের জানার পরিধিও বাড়ছে। যেখানে তাঁদের মনে হচ্ছে, এটা কিভাবে হলো, কেন হলো, প্রশ্ন করার মাধ্যমে শিখে নিচ্ছেন তরুণ চিকিৎসকরা।’

মেডিভয়েসের জনপ্রিয় ভিডিও কন্টেন্টগুলো দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন MedivoiceBD ইউটিউব চ্যানেল। আপনার মতামত/লেখা পাঠান [email protected] এ।
  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
এক দিনে চিরবিদায় পাঁচ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক
করোনা ও বার্ধক্যজনিত অসুস্থতা

এক দিনে চিরবিদায় পাঁচ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক