সূচি অনুযায়ী অনুষ্ঠিত হবে পেশাগত পরীক্ষা: ঢাবির নতুন ডিন
ঢাকা মেডিকেল কলেজের (ডিএমসি) চক্ষু বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. মোস্তাক আহমেদ। কর্মজীবনের প্রতিটি স্তরে সফলতার ছাপ রেখে গত সেপ্টেম্বরে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) মেডিসিন অনুষদের ডিন হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন। তাঁর অধীনেই অনুষ্ঠিত হবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অধিভুক্ত ৫৪টি মেডিকেল কলেজের বিভিন্ন প্রফেশনাল পরীক্ষা।
ইতিমধ্যে অধ্যাপক ডা. মোস্তাক আহমেদ চিকিৎসা বিজ্ঞানের চক্ষু বিভাগে শিক্ষার্থীদের প্রশিক্ষণ ও রোগীদের সেবা দিয়ে অর্জন করেছেন সুনাম। পেশাগত দক্ষতা অর্জনে দেশ-বিদেশে বিভিন্ন প্রশিক্ষণ নিয়েছেন গুণী এই চিকিৎসক। অধ্যাপক ডা. মোস্তাক আহমেদের সঙ্গে ডিন অফিসে কথা হয় মেডিভয়েস প্রতিবেদকের। আলাপচারিতায় উঠে আসে শিক্ষার্থীদের নিয়ে তাঁর নানা পরিকল্পনাসহ সূচি অনুযায়ী এমবিবিএস পেশাগত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন: সাখাওয়াত হোসাইন।
মেডিভয়েস: শিক্ষার্থীদের নিয়ে কী কী পরিকল্পনা করেছেন।
অধ্যাপক ডা. মোস্তাক আহমেদ: ডিন হিসেবে প্রথমেই চাই শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়ন থাকা। শিক্ষার মান যেন আন্তর্জাতিক পর্যায়ে থাকে। আমাদের শিক্ষার্থীরা যেন দেশ-বিদেশে ভালো চিকিৎসক পরিচিতি লাভ করতে পারে। সেই ধরনের চিকিৎসা শিক্ষা যেন আমাদের এখানে পায়, এটাই আমার প্রত্যাশা।
মেডিভয়েস: ঢাবি অধিভুক্ত মেডিকেলগুলোর শিক্ষার্থীদের করোনায় সৃষ্ট সেশনজট কমাতে আপনার ভাবনা শুনতে চাই।
অধ্যাপক ডা. মোস্তাক আহমেদ: করোনা পৃথিবীর সবকিছুই উলট-পালট করে দিয়েছিল। এর মধ্যে শিক্ষা অনেক পিছিয়ে গিয়েছে। বিভিন্নভাবে ঘাটতি পূরণ করার জন্য চেষ্টা চালানো হয়েছে, সেক্ষেত্রে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অধিভুক্ত মেডিকেল কলেজগুলো একটু পিছিয়ে আছে। যে সেশনজটটি রয়েছে, সেটি কীভাবে কাটিয়ে উঠতে পারি, আমাদের বিভিন্ন মেডিকেলের অধ্যক্ষ এবং ফ্যাকাল্টিগণের সঙ্গে কথা বলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
মেডিভয়েস: অধিভুক্ত মেডিকেল কলেজগুলোর শিক্ষার গুণগত মান বাড়াতে ডিন অফিস থেকে কেনো পদক্ষেপ নেওয়া হবে?
অধ্যাপক ডা. মোস্তাক আহমেদ: শিক্ষার মান বৃদ্ধির জন্য পর্যাপ্ত শিক্ষক প্রয়োজন। অনেক মেডিকেলের বিভিন্ন সাবজেক্ট পর্যাপ্ত শিক্ষক নেই। শিক্ষার্থী অনুপাতে যে শিক্ষক দরকার, সে ব্যাপারে পদক্ষেপ নেওয়ার চেষ্টা করবো। শিক্ষার মান যেন ভালো থাকে, ঠিক সময়ে যেন পরীক্ষা হয়। শিক্ষকরা যেন ভালো শিক্ষা দিতে পারেন, সে ব্যাপারে চেষ্টা থাকবে।
মেডিভয়েস: কিছু কিছু সরকারিসহ বেসরকারি শিক্ষকের সংকটসহ শিক্ষার মানের ঘাটতি রয়েছে, সেগুলো নিয়ে আপনার পরিকল্পনা শুনতে চাই।
অধ্যাপক ডা. মোস্তাক আহমেদ: এ ক্ষেত্রে সবার আগে শিক্ষক স্বল্পতা পূরণ করা জরুরি। এজন্য মন্ত্রণালয়, অধিদপ্তর ও ডিন অফিস আছে। এটি আসলে সম্মিলিত প্রক্রিয়া। সবাই মিলে চেষ্টা করবো, শিক্ষক স্বল্পতা কীভাবে দূর করা যায়।
মেডিভয়েস: বিদেশে এমবিবিএস ডিগ্রির গ্রহণযোগ্যতা বাড়াতে এবং বিদেশের শিক্ষার্থী ভর্তি বাড়াতে কী কী উদ্যোগ নেওয়া উচিত বলে মনে করেন?
অধ্যাপক ডা. মোস্তাক আহমেদ: আমাদের শিক্ষার্থীরা এমবিবিএস শেষ করার পর বিভিন্ন দেশে যায়। যেমন—আমেরিকা, যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা ও ইউরোপসহ বিভিন্ন দেশে যায়। তাঁরা সেখানেও ভালো করছেন। যেসব দেশের ভবিষ্যতে যেন আরও ভালো করতে পারেন। এখানে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ, পর্যাপ্ত রোগী দেখা, এটি উপর আরও বেশি জোর দেওয়া দরকার। বিদেশের শিক্ষার্থীরাও বাংলাদেশের আসে চিকিৎসা শিক্ষা গ্রহণ করার জন্য। দেশের সরকারি-বেসরকারি মেডিকেল কলেজগুলো প্রচুর শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছেন এবং প্রতিবছরই বিদেশিরা আসছেন। সেইসঙ্গে তাঁদের থাকা-খাওয়ার পরিবেশ ভালো রাখা। আমাদের শিক্ষার যে ঘাটতি রয়েছে, সেটি কাটিয়ে উঠার নানা উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে, আরও পদক্ষেপগ্রহণ করা হবে। শুধু পড়াশোনাই সব নয়, শারীরিক এবং মানসিক বিকাশেরও ব্যবস্থা থাকা। এই বিষয়গুলো বাড়ানোর জন্য চেষ্টা করবো।
মেডিভয়েস: শিক্ষার্থী ও তরুণ চিকিৎসকদের জন্য পরামর্শ
অধ্যাপক ডা. মোস্তাক আহমেদ: একজন শিক্ষার্থী যখন মেডিকেলে ভর্তি হন, এরপর তাঁরা মনে করেন এখানে অনেক পড়াশোনা, অনেক চাপ। আসলে আমি বিষয়টিকে সেভাবে দেখি না। একজন শিক্ষার্থী নিয়মিত ক্লাস করার পাশাপাশি নিয়মিত পড়াশোনা করলে খুব বেশি চাপ থাকে না। সপ্তাহে একদিন বা দুদিন চাপমুক্ত থাকতে পারে। মেডিকেলে নিয়মিত পড়াশোনা আর ক্লাস, এটি গুরুত্বপূর্ণ। মেডিকেল শিক্ষায় আরেকটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো রোগী দেখা এবং রোগীর সঙ্গে কথা বলা। রোগীর হিস্ট্রি জানা এবং রোগীর এক্সামিনেশন করা। এ বিষয়গুলো যে যত বেশি করবেন, তত বেশি দক্ষ হবেন। সেইসঙ্গে ভালো চিকিৎসক হবেন। তাতে হতাশ হওয়ার কিছু থাকবে না।
মেডিভয়েস: শিক্ষার্থীদের অনেকেরই জানা আগ্রহ, এমবিবিএসের প্রফেশনাল পরীক্ষাগুলো নিয়মিতভাবে যথাসময়ে হবে কিনা।
অধ্যাপক ডা. মোস্তাক আহমেদ: সূচি অনুযায়ী এমবিবিএসের প্রফেশনাল পরীক্ষাগুলো অনুষ্ঠিত হবে। ইতিমধ্যে আমরা সময়সূচি তৈরি করেছি, একটি মিটিংও করা হবে ফ্যাকাল্টি মেম্বারদের নিয়ে। সেখানে পরীক্ষার তারিখ ঘোষণা হবে। সূচি অনুযায়ী পরীক্ষা হবে। কোনো ধরনের অসুবিধা হবে না।
অধ্যাপক ডা. মোস্তাক আহমেদের পরিচয়
অধ্যাপক ডা. মোস্তাক আহমেদের জন্ম চাঁদপুর জেলার হাজিগঞ্জে। বেড়ে ওঠা কুমিল্লা জেলা শহরে। কুমিল্লা জিলা স্কুল থেকে এসএসসি এবং কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন তিনি। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস সম্পন্ন করেন। পরে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) থেকে অফথালমোলজি বিষয়ে এমএস ডিগ্রি অর্জন করেন। প্রশিক্ষণ নেন জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিটিউট ও হাসপাতাল থেকে। এরপর কুমিল্লা মেডিকেল কলেজে কিছু সময় ছিলেন। পরে জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞানে সহকারী রেজিস্ট্রার এবং ঢাকা মেডিকেল কলেজে রেসিডেন্ট সার্জন ছিলেন। এরপর তিনি সহকারী অধ্যাপক পদে পদোন্নতি পান। কিছু দিন এ পদে কর্মরত থাকার পর সহযোগী অধ্যাপক হিসেবে পদোন্নতি পেয়ে মানিকগঞ্জ মেডিকেল কলেজের কর্মরত ছিলেন। এরপর ফিরে আসেন জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিটিউটে এবং অধ্যাপক পদে পদোন্নতি লাভ করেন। পরে তিনি ২০২৩ সালে ফেব্রুয়ারি মাসে ঢাকা মেডিকেল কলেজের চক্ষু বিভাগের বিভাগীয় প্রধান হিসেবে যোগদান করেন।
এমইউ/
-
৩০ এপ্রিল, ২০২৬
-
০৮ এপ্রিল, ২০২৬
-
০১ এপ্রিল, ২০২৬
-
২৩ ডিসেম্বর, ২০২৫
-
০৬ ডিসেম্বর, ২০২৫
-
১৮ নভেম্বর, ২০২৫
-
৩০ অক্টোবর, ২০২৫
-
১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৫