০৩ অক্টোবর, ২০২৪ ০৫:২২ পিএম

রাজশাহী মেডিকেলের ২০ শিক্ষার্থী ও ১৩ শিক্ষকের শাস্তি

রাজশাহী মেডিকেলের ২০ শিক্ষার্থী ও ১৩ শিক্ষকের শাস্তি
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ। ছবি সংগৃহীত

মেডিভয়েস রিপোর্ট: শিক্ষার্থী নির্যাতনসহ নানা অভিযোগে রাজশাহী মেডিকেল কলেজের (রামেক) ২০ শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। পাশাপাশি নানা অপকর্মে জড়িত এসব শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়ায় ৭ শিক্ষককে অন্যত্র বদলির জন্য মন্ত্রণালয়ে সুপারিশ করা হয়েছে এবং ৬ জন শিক্ষককে একাডেমিক সকল কার্যক্রম থেকে বিরত থাকতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (০১ অক্টোবর) রামেকের একাডেমিক কাউন্সিলের সভায় শিক্ষার্থীদের অভিযোগের প্রেক্ষিতে তদন্ত সাপেক্ষে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আরও ১৯ শিক্ষককে একই অভিযোগে শোকজ করা হয়।

শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে কঙ্কাল ব্যবসা, ছাত্রাবাসের সিট দখল, র‌্যাগিং, চাঁদাবাজি, অবৈধ অস্ত্র বহন, মাদক সেবন, ইন্টার্ন চিকিৎসকদের নির্যাতন, মহিলা হোস্টেলে প্রবেশ করে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের হুমকি ও নির্যাতনের অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে।

জানা গেছে, শাস্তি পাওয়া ২০ শিক্ষার্থীর সবাই ছাত্রলীগের নেতা-কর্মী। এর মধ্যে এমবিবিএস ৬১তম ব্যাচের সজিব আকন্দকে তিরস্কার এবং অভিভাবকের উপস্থিতিতে মুচলেকা আদায়ের সিদ্ধান্ত হয়েছে। বাকি ১৯ জনকে হোস্টেল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। পাশাপাশি ছয়মাস থেকে ১ বছর পর্যন্ত ক্লাস-পরীক্ষাসহ একাডেমিক কার্যক্রম থেকে বিরত থাকার জন্য বলা হয়েছে।

এক বছরের শাস্তি পাওয়া শিক্ষার্থীরা হলেন—৬১তম ব্যাচের বখতিয়ার রহমান, আরাফাত জুলফিকার ডেভিড, ফারিয়া রেজোয়ানা নিধি, নকিবুল ইসলাম শাকিল, নাফিউ ইসলাম সেতু এবং ৬৩তম ব্যাচের শেখ সাকিব ও সোহম বিজয়।

ছয় মাসের শাস্তি পাওয়া শিক্ষার্থীরা হলেন—৬১তম ব্যাচের রাশিদ মোবারক, ৬২তম ব্যাচের হাসিবুল হাসান শান্ত, রাশেদুল ইসলাম, শোয়েব আকতার শোভন, আশিকুর রহমান, তরিকুল ইসলাম, জুহাইর আঞ্জুম অর্ণব, মাহফুজুর রহমান, ৬৩তম ব্যাচের কাজী হানিফ ও পূর্ণেন্দু বিশ্বাস, ৩১তম বিডিএস ব্যাচের নূর এ জান্নাত এবং ৩৩তম বিডিএস ব্যাচের ফারদিন মুনতাসির। 

এ বিষয়ে রামেকের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. খন্দকার ফয়সল আলম মেডিভয়েসকে বলেন, ৩৪ জন শিক্ষক ও ৪৪ জন শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন। অভিযোগগুলো আমলে নিয়ে দুটি তদন্ত কমিটি করি। তদন্ত কমিটির সুপারিশের প্রেক্ষিতে নির্মোহভাবে তদন্ত করে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় একাডেমিক কাউন্সিলের সকলের সর্বসম্মতিক্রমে এসব শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এখানে কারোর একক সিদ্ধান্ত নেই বলে জানান তিনি।

এমন অপকর্মে ভবিষ্যতে যাতে কেউ না করতে পারে সে অনুযায়ী কাজ করার চেষ্টা করছেন বলে জানিয়ে রামেকের অধ্যক্ষ বলেন, আগের অবস্থার পুনরাবৃত্তি যাতে না হয় সেদিকে আমরা লক্ষ্য রাখছি। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের পড়ালেখা, খেলাধুলা ও হলগুলোকে আরও আধুনিকীকরণের চেষ্টা করছি।

এনএএন/

মেডিভয়েসের জনপ্রিয় ভিডিও কন্টেন্টগুলো দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন MedivoiceBD ইউটিউব চ্যানেল। আপনার মতামত/লেখা পাঠান [email protected] এ।
রাজধানীতে জামায়াতের মানববন্ধনে হুঁশিয়ারি

বাজেট বৈষম্য ও স্বাস্থ্যে অব্যবস্থাপনা বরদাশত করা হবে না

রাজধানীতে জামায়াতের মানববন্ধনে হুঁশিয়ারি

বাজেট বৈষম্য ও স্বাস্থ্যে অব্যবস্থাপনা বরদাশত করা হবে না

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত