হাসপাতাল পরিচালনায় সেনা কর্মকর্তা চান শেবাচিম শিক্ষার্থীরা
মেডিভয়েস রিপোর্ট: বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালের পরিচালক হিসেবে সেনা কর্মকর্তা নিয়োগের দাবি জানিয়েছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। বিভিন্ন মাধ্যমে এ দাবি জানানোর পাশাপাশি মঙ্গলবার (১ অক্টোবর) এ নিয়ে সচিবালয়েও যান তারা।
জানা গেছে, এ দাবিতে পূর্ব নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, মঙ্গলবার (১ অক্টোবর) সচিবালয়ে যান শিক্ষার্থীদের পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট একটি প্রতিনিধি দল। এই দলে ছিলেন শেবাচিমের ৪৯তম ব্যাচের শিক্ষার্থী মশিউর রহমান, ফারসিদ, হেদায়েত, মাহিউর ও ৫১তম ব্যাচের আরাফাত।
সচিবালয়ে স্বাস্থ্য উপদেষ্টাসহ গুরুত্বপূর্ণ সচিবদের সঙ্গে তাদের একাধিক মিটিং হয়। সেখানে তারা দাবি করেন, শেবাচিম দুর্নীতি, সিন্ডিকেট, অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা এবং রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রাখতে সেনাবাহিনী থেকে পরিচালক নিয়োগের বিকল্প নেই। কারণ যারা সিন্ডিকেটে জড়িত, তারা সিন্ডিকেট ভাঙতে পারেন না।
মন্ত্রণালয় তাদের প্রস্তাবকে ইতিবাচকভাবে নিয়েছে বলেও জানান শিক্ষার্থীরা।
ইন্টার্ন চিকিৎসকসহ সকল পর্যায়ের চিকিৎসকদের আন্দোলনের মুখে গত ২৯ সেপ্টেম্বর পদত্যাগ করেন বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. এইচএস সাইফুল ইসলাম।
এর পর থেকে শেবাচিমে অব্যবস্থাপনা, দুর্নীতি, সিন্ডিকেটমুক্ত রাখতে সেনাবাহিনী থেকে পরিচালক নিয়োগের দাবি জানিয়ে আসছেন চিকিৎসক ও শিক্ষার্থীরা।
জানতে চাইলে শেবাচিমের ৫২তম ব্যাচের শিক্ষার্থী মুজাহিদুল ইসলাম আজ বুধবার (২ অক্টোবর) দুপুরে মেডিভয়েসকে বলেন, ‘দুর্নীতিতে জর্জরিত স্বাস্থ্য খাতকে পুনর্গঠন এবং হাসপাতালের নিয়মতান্ত্রিকতা প্রতিষ্ঠিত করতে চাইলে একজন আর্মি ডিরেক্টরের বিকল্প নেই। আমি স্বাস্থ্য উপদেষ্টাসহ নীতি-নির্ধারণী মহলকে অনুরোধ করবো, শিক্ষার্থীদের এই প্রাণের দাবিটি মেনে নিয়ে দ্রুততম সময়ের মধ্যে শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পরিচালক নিয়োগ দেওয়ার জন্য।’
এ প্রসঙ্গে শেবাচিমের ৫১তম ব্যাচের শিক্ষার্থী মশিউর রহমান আজ বুধবার (২ অক্টোবর) দুপুরে মেডিভয়েসকে বলেন, ‘দক্ষিণ বঙ্গের মানুষের একমাত্র চিকিৎসা সেবার নির্ভরযোগ্য চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে এই হাসপাতালে করুন অবস্থা চলছে। এই অচলাবস্থা নিরসনে বিগত পরিচালকের কার্যকরী কোনো ভূমিকা লক্ষ্য করা যায়নি। এই হাসপাতালের দুর্নীতি ও দুরবস্থা দূর করতে হলে দৃঢ়তাচেতা ও দক্ষ একজন প্রশাসনিক পরিচালক প্রয়োজন। আমরা মনে করি, সেনা কর্মকর্তা পরিচালক হিসেবে নিয়োগ দিলে এই হাসপাতালের দুরবস্থা নিরসনে কার্যকরী ভূমিকা পালন করতে পারবেন।’
জানতে চাইলে ইন্টার্ন ডা. খালিদ মহিউদ্দিন রায়হান মেডিভয়েসকে বলেন, ‘শেবাচিম হাসপাতাল শুধুমাত্র বরিশাল বিভাগের ৬টি জেলার নয়, বরং পদ্মার এপারের আরও বেশ কিছু জেলার মানুষের আশ্রয়স্থল শেবাচিম হাসপাতাল। কিন্তু এখানে আসার পর মানুষের ভোগান্তির শেষ থাকে না। আমরা মনে করি, শেবাচিমকে একটি রোগীবান্ধব, চিকিৎসকবান্ধব এবং দুর্নীতিমুক্ত হাসপাতাল হিসেবে গড়ে তুলতে সেনাবাহিনী থেকে পরিচালক দেওয়ার কোনো বিকল্প নেই।’
নুর ইসলাম/এমইউ/