ডা. সজীব হত্যায় শেখ হাসিনাসহ ৭১ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ, গ্রেপ্তার ১
মেডিভয়েস রিপোর্ট: বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে ডা. সজিব সরকারকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৭১ জনের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
রোববার (২২সেপ্টেম্বর) দুপুরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট তাজুল ইসলাম বরাবর এ অভিযোগ দায়ের করা হয়। এ ঘটনায় পুলিশের সাবেক আইজিপি আব্দুল্লাহ আল মামুনকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
ডা. সজিব সরকারের চাচাতো ভাই ডা. অনিকুর রহমান অনিক আজ সকালে মেডিভয়েসকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, নিহত সজিবের বাবা আব্দুল হালিম সরকার রোববার (২২সেপ্টেম্বর) দুপুর একটার দিকে ট্রাইব্যুনালে এ অভিযোগ দায়ের করেছেন।
গত ১৮ জুলাই বিকালে রাজধানীর উত্তরার আজমপুরে ডা. সজীবকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা গুলি করে হত্যা করে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
অভিযোগ দাখিল প্রসঙ্গে ডা. সজীবের বাবা হালিম সরকার বলেন, ‘আমার ছেলে গাজীপুরের তাহেরুন্নেছা মেডিক্যাল কলেজ থেকে ২০২০ সালে এমবিবিএস পাস করে। আমার নিরপরাধ ছেলেকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। আমি জানতে পেরেছি এই ট্রাইব্যুনালে সঠিক বিচার হবে। সে জন্য সঠিক, সত্য ও ন্যায়বিচারের আবেদন করেছি। আমি ছেলে হত্যার বিচার চাই।’
গত ৫ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত সারাদেশে গণহত্যা চালানোর অভিযোগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে সজীব হত্যাসহ মোট ২৯টি আলাদা অভিযোগ দায়ের করা হয়। এর মধ্যে ১১টি চিফ প্রসিকিউটর বরাবর জমা দেওয়া হয়েছে। বাকিগুলো তদন্ত সংস্থায় দাখিল করা হয়।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, উত্তরায় অধ্যয়নরত ছোট ভাইকে আনতে গত ১৮ জুলাই নরসিংদী থেকে ছুটে আসেন ডা. সজিব। ফেরার পথে বিকেল পাঁচটা ৪৫ মিনিটের দিকে আজমপুর রাজউক কমার্শিয়াল মার্কেটের সামনে ফুটওভার ব্রিজের নিচে গুলিবিদ্ধ হন। পরে তাকে ডা. সজিবের লাশ উত্তরা আধুনিক মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ডা. সজিব সরকারের বাড়ি নরসিংদী সদরের জেলখানা মোড় এলাকায়। তিন ভাই-বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন সবার বড়। তিনি তাইরুন্নেছা মেমোরিয়াল মেডিকেলের ২০১১-২০১২ সেশনের শিক্ষার্থী ছিলেন। ব্যক্তিগত জীবনে বিবাহিত এ চিকিৎসক ব্রাহ্মণবাড়িয়া মেডিকেল কলেজের লেকচারার হিসেবে কর্মরত ছিলেন।