চিকিৎসককে ধর্ষণের পর হত্যা: কর্মবিরতিতে ভারতের চিকিৎসকরা
মেডিভয়েস রিপোর্ট: ভারতের পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী কলকাতার আরজি কর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এক নারী চিকিৎসককে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় দেশজুড়ে কর্মবিরতির ঘোষণা দিয়েছেন দেশটির চিকিৎসকরা।
বৃহস্পতিবার (১৫ আগস্ট) দুপুরের দিকে ভারতীয় আবাসিক চিকিৎসকদের সংগঠন ফেডারেশন অব রেসিডেন্ট ডক্টর্স অ্যাসোসিয়েশন (ফোরডা) এক বিবৃতিতে এই কর্মবিরতির ঘোষণা দিয়েছে।
এর আগে, গত রোববার এক বিবৃতিতে সোম ও মঙ্গলবার দেশের সব হাসপাতালে কেবল জরুরি চিকিৎসা ছাড়া বাকি সব সেবা বন্ধের ঘোষণা দিয়েছিল চিকিৎসকদের এই সংগঠনটি। পরে বুধবার দেশটির কেন্দ্রীয় সরকার দাবিপূরণের আশ্বাস দিলে কর্মবিরতি প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেন চিকিৎসকরা। কিন্তু গত বুধবার রাতে আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভাঙচুরের ঘটনায় নতুন করে কর্মবিরতির ডাক দিয়েছেন তারা।
ফোরডা বলেছে, কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করার পর আমরা প্রাথমিকভাবে কর্মবিরতি প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। সেই সিদ্ধান্তে আশাহত হয়েছিলেন চিকিৎসকদের অনেকেই। কিন্তু আরজি কর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ঢুকে বর্বরতার ঘটনায় আমরা সকলেই বিস্মিত, মর্মাহত। এই ঘটনা আমাদের সকলের কর্মজীবনের অন্ধকারতম অধ্যায়। এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি এবং এই অবস্থায় আমরা অবিলম্বে আবারও কর্মবিরতি শুরু করার সিদ্ধান্ত নিচ্ছি।
একজন কর্তব্যরত চিকিৎসকের সম্ভ্রম ও জীবন রক্ষায় ব্যর্থতার জন্য ফোরডা সংশ্লিষ্ট সব কর্তৃপক্ষের পদত্যাগ দাবি করেছে। একইসঙ্গে বিক্ষোভরত চিকিৎসকদের ওপর যেন কোনো ধরনের দমন-পীড়ন চালানো না হয় এবং এই অপরাধের বিচারে যেন দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হয়, সেই দাবিও জানায় সংগঠনটি।
কলকাতাসহ পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন সরকারি হাসপাতাল ছাড়াও কর্মবিরতি শুরু হয়েছে রাজধানী দিল্লি, মুম্বাই, লখনউ, কর্নাটকসহ দেশটির বিভিন্ন হাসপাতালেও। চিকিৎসকদের এই ধর্মঘট ও বিক্ষোভের জেরে দেশটির স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।
প্রসঙ্গত, গত ৯ আগস্ট আরজি কর হাসপাতালের সেমিনার হল থেকে অর্ধনগ্ন অবস্থায় উদ্ধার হয় এক নারী চিকিৎসকের মরদেহ। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে আন্দোলনের রেশ দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়েছে সারা ভারতের সকল স্তরে।
এর যথোপযুক্ত তদন্ত এবং বিচারের দাবিতে চিকিৎসকরা ছাড়াও দেশজুড়ে আন্দোলনে নেমেছেন বিভিন্ন শ্রেণীপেশার মানুষ। সকল কর্মসূচির সঙ্গে সংহতি জানিয়ে হাজার হাজার মানুষ রাতভর রাজপথে ছিলেন।
বুধবার রাত ১১টা ৫৫ মিনিট থেকে ভারতের স্বাধীনতা দিবসের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে কলকাতার বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ জায়গাসহ অন্যান্য ছোট-বড় শহরগুলোর রাস্তায় এই ধর্ষণ ও হত্যার বিরুদ্ধে বিক্ষোভ শুরু হয়।
এই কর্মসূচির আওতায় রাত ১২টার আগেই হাজার হাজার মানুষ কলকাতার রাস্তায় নেমে আসে। পশ্চিমবঙ্গ ছাড়াও ভারতের বিভিন্ন জায়গায় ‘রাতের দখল নাও’ কর্মসূচি পালন করেন নারীরা।
এদিকে ডয়চে ভেলে জানিয়েছে, এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত অভিযোগে পুলিশ ইতোমধ্যে সঞ্জয় রায় নামে এক সিভিক ভলান্টিয়ারকে গ্রেপ্তার করেছে। সিসিটিভির ফুটেজ ও ঘটনাস্থলে পাওয়া তার হেডফোন থেকে পুলিশ সঞ্জয়কে চিহ্নিত করে ও গ্রেপ্তার করে।
ঘটনার রাতে অভিযুক্ত ব্যক্তি আরজি কর হাসপাতালে অবস্থান করছিল। বাইরে থেকে মদ পান করে গভীর রাতে সে হাসপাতালে প্রবেশ করে এবং সেমিনার হলে চলে যায়। সেখানেই সে নারী চিকিৎসককে ধর্ষণের পর হত্যা করে বলে অভিযোগ।
এনএএন/
-
১৭ অগাস্ট, ২০২৪
-
১৪ ডিসেম্বর, ২০২১
মাসুদ কামালের প্রতি ড্যাবের হুঁশিয়ারি
ক্ষমা না চাইলে আইনি ব্যবস্থার মুখোমুখি হতে প্রস্তুতি নিন
মাসুদ কামালের প্রতি ড্যাবের হুঁশিয়ারি
ক্ষমা না চাইলে আইনি ব্যবস্থার মুখোমুখি হতে প্রস্তুতি নিন
এফসিপিএসে নতুন নীতিমালা
‘মেধাক্রমের ভিত্তিতে ভাতা সীমাবদ্ধ হলে প্রশিক্ষণার্থীরা আর্থিক অনিশ্চয়তায় পড়বেন’